ঈদ এসেছে সবার দ্বারে

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পবিত্র মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা শেষে আমাদের দ্বারে এসেছে খুশির ঈদ ‘পবিত্র ঈদুল ফিতর’। নানা সমস্যার মাঝেও প্রত্যেকের ঘরে ঈদ খুশির বার্তা নিয়ে আসে। বিশ্বব্যাপী নানা সংকট, ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেও ঈদ বয়ে নিয়ে আসে খুশি আর আনন্দ। এদিন মানুষ বিগত দিনের সকল দুঃখ, কষ্টকে ভুলে থাকতে চায়। চায় পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে। সমস্যাগ্রস্ত থাকার পরও মানুষ ঈদ উৎসবকে উদযাপন করতে সচেষ্ট থাকে। ব্যতিক্রম কেবল গরিব ও অসহায় মানুষদের ক্ষেত্রে। তাদের মাঝে ঈদের খুশি তেমন প্রভাব ফেলে না। ঈদের এদিনও তাদের অনেককে হয়তো কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে পরিবারের সকলের মুখে একটু আহার তুলে দিতে। পথশিশু কিংবা অভাবী পরিবারের সদস্যদের ঈদের নতুন জামা কেনার সাধ্যটুকুও থাকে না। তাছাড়া আর্থিক সংগতিটুকুই বা কই!
এদিকে দেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজার অঞ্চলে মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গার জন্য ‘ঈদ’ বলতে কিছু নেই। যেখানে তারা দিনের দু’বেলা খাবারটুকুও পেতে কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে। ঈদের খুশি তাদেরকে মোটেও স্পর্শ করবে না। শোকে মুহ্যমান পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেবার ভাষাও নেই। ঈদের দিনেও সহায়-সম্বল হারানোর বেদনায় ব্যথিত থাকবে নির্যাতিত রোহিঙ্গা পরিবারগুলো। নতুন জামা তো দূরের কথা, সাহায্য না পেলে জীবনটাই দুঃসহ হয়ে উঠবে। তাদের চোখে মুখে হয়তো স্বপ্নে ভরা মিয়ানমারের সুখী দিনগুলোর কথাই মনে পড়বে অথবা নির্যাতনের দৃশ্যগুলো ভেসে উঠবে। মহান আল্লাহ’র কাছে দুঃখী অসহায় মানুষগুলির ধৈর্য ধারণ করার তাওফীক কামনা করছি।
আমাদের মাঝে যারা বিত্তবান ও আর্থিকভাবে সচ্ছল তাদের উচিত গরিব, অসহায় মানুষের দুঃখ কষ্টগুলো ভাগাভাগি করা, সাহায্য সহযোগিতা করা। অনেকেই তো আছেন যারা নানাভাবে অর্থ ও খাদ্যের অপচয় করেন।
অথচ অপচয় না করে সেসব অর্থ বা খাদ্য গরিব মানুষগুলোর মাঝে যদি এই ঈদের সময় বিলিয়ে দেই তাহলে তারাও সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবে। সঠিক নিয়মে যদি গরিব ও অসহায় মানুষের প্রাপ্য হক ‘যাকাত’ আদায় করা যেতো তাহলেও সংকটের অনেকটা সমাধান হয়ে যেতো। সমন্বয়হীনতার কারণে পর্যাপ্ত ও সঠিকভাবে প্রাপ্য হকদারদের মাঝে বণ্টন না হওয়ায় যাকাত প্রদানের উদ্দেশ্যটাই ফলপ্রসূ হয় না। সরকার চাইলে সুষ্ঠু ব্যবস’াপনার মাধ্যমে যাকাত আদায় করে তা অসচ্ছল ও অসহায়দের মাঝে পৌঁছে দিতে পারেন। যাকাতের এই অর্থ পেয়ে তারাও ঈদের আনন্দ পেতে পারে। আমরা চাই ঈদের দিনে সব মানুষ আনন্দ ভাগাভাগি করুক। এ ব্যাপারে আমাদের সকলের সচেতন হওয়া উচিত।
এমনিতে পবিত্র রামাদানের দিনগুলোতে যত সাহায্য-সহযোগিতা, আর্থিক সহায়তা প্রদান করা যাবে ততই কল্যাণ। কয়েকগুণ সওয়াব আমল-নামায় যোগ হবে। সওয়াবও হবে অপরদিকে অভুক্ত ও কষ্টে পতিত মানুষগুলো একটু সুখের পরশ পাবে। তাদের আনন্দ দেখলে মনটাই ভরে যাবে।
ঈদ আমাদেরকে এ শিক্ষাটাই দিয়ে থাকে। ‘একজন মানুষ ও ঈদের এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে না’- এমন পরিবেশ আমাদের গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি এসব মানুষের দারিদ্র্যতা নিরসন এবং কর্মসংস’ানের ব্যবস’া করতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করি। দারিদ্র্যতার হার যতই কমবে ঈদের আনন্দে শামিল হওয়া মানুষের সংখ্যাও তত বাড়বে। ‘আমাদের দ্বারে সমাগত ঈদ সকলের জন্য হয়ে উঠুক সুখ ও আনন্দময়’। এমন প্রত্যাশা রইল।
লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক