ইয়াবা ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ কক্সবাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

পর্যটন শহর কক্সবাজারের উত্তরণ গৃহায়ণ সমিতি’র প্লটের উত্তর পাশের গহীন জঙ্গলে অবসি’ত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আস্তানা থেকে মো. হাসান (৩৫) নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর রাত তিনটার দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। নিহত হাসান কলাতলী আদর্শ গ্রাম এলাকার মৃত খুইল্যা মিয়ার ছেলে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন খন্দকার জানিয়েছেন, উক্ত এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে দু’পক্ষের গোলাগুলি খবর পাওয়ার সাথে সাথে অভিযান চালায় একদল পুলিশ। পুলিশের উপসি’তি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা দিকবিদিক ছুটাছুটি করে পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ অবস’ায় ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. হাসানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় ঘটনাস’ল থেকে একটি দেশীয় বন্দুক ও দু’রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, নিহতের বুকে ও পিঠে তিনটি গুলি লেগেছে। মূলত ইয়াবা ব্যবসার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সাথে গোলাগুলিতে হাসান নিহত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত হাসানের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় দ্রুত বিচার আইনে ও ইয়াবা সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামে কয়েকটি ইয়াবা সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।
নিহত হাসানের বড় ভাই শহর মুল্লুক দাবি করছেন, মঙ্গলবার সেহরী খাওয়ার সময় বাড়ি থেকে সাদা পোশাকধারী কিছু লোক আমার ভাই হাসানকে তুলে নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিজের চিকিৎসা করাতে গেলে ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পান।
এদিকে নিহতের স্ত্রী আমেনা খাতুন দাবি করছেন, তার স্বামীকে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নিহত মো. হাসানের কক্সবাজার বাস টার্মিনাল ও আদর্শ গ্রামকেন্দ্রিক ইয়াবা ব্যবসার বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে। একটি নামীদামি পরিবহন কোম্পানির সিন্ডিকেটও হাসান সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। দু’সিন্ডিকেট মিলে ওই পরিবহন কোম্পানির বাসে করে ঢাকাসহ বিভিন্ন স’ানে ইয়াবা পাচার করে থাকে। ইয়াবা ব্যবসার টাকা দিয়ে হাসান টেকনাফ লাইনের বাস, ছারপোকা গাড়ি ও কয়েকটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম)’র মালিক হয়েছেন। সমপ্রতি আদর্শগ্রাম এলাকায় দু’টি বাড়ির ফাউন্ডেশনও দিয়েছেন হাসান।