ইসলামিয়া কলেজ পদের লোভে অনিয়ম ধ্বংস করা হচ্ছে অবকাঠামো

শুভ্রজিৎ বড়-য়া

১৯৬৪ সালে অবাঙালিদের জন্য ইসলামিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মূখীন হয়ে কলেজটি স্ব-নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। কিন’ সম্প্রতি কলেজ পরিচালনা পরিষদের অবহেলায় কলেজটিতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় আন্দোলন করছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। অধ্যক্ষ মেয়াদোর্ত্তীণ হওয়ার পরেও নানা ছল-চাতুরির করে পরিচালনা পরিষদকে নিজের করায়ত্তে রেখে পদ ধরে রেখেছেন।
শিক্ষকদের দাবি, ৬৬ বছর বয়সী মো. রেজাউল কবির নিজেকে অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত রাখার স্বার্থে কলেজের অবকাঠামো ভাঙছেন। উনি কোন আইনের পরোয়া না করে রাজনৈতিক প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করেন। এমনকি আঞ্চলিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠির উত্তর না দিয়ে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সংসদ সদস্য এম এ লতিফকে দিয়ে ফোন করান। এছাড়া কলেজে স্বেচ্ছাচারিতা চালানোর জন্য প্রবীণ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে উনার ইচ্ছে অনুযায়ী সৃষ্ট অস’ায়ী শিক্ষকদেরকে অনৈতিকভাবে বিভাগীয় প্রধানের পদে বসিয়েছেন এবং দুইজন প্রবীণ শিক্ষককে বরখাস্ত করেছেন। নিজের অন্যায় ঢাকার জন্য তিনি মিথ্যে বক্তব্য সাজিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কলেজে উপসি’ত হতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে কলেজ বন্ধের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন।
কলেজে সরেজমিনে দেখা যায়, অধ্যক্ষ বন্ধের নোটিশ দেয়ার পরেও কলেজ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। বেলা ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দেখা যায় কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের সমাগম, শিক্ষকরাও ক্লাস নিচ্ছেন। অন্যদিকে কলেজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ব্যস্ত ডিগ্রি (পাস) ইনকোর্স পরীক্ষা, ডিগ্রি (পাস) তৃতীয় বর্ষের ফরম পূরণ ও অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তির কার্যক্রম নিয়ে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১৬ সালের ৩০ জুন অধ্যক্ষ মো. রেজাউল কবিরের বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। তবুও তিনি অধ্যক্ষ পদের জন্য কলেজে যোগ্য লোক নেই দাবি করে পরিচালনা পরিষদের সহায়তায় এখনো এ পদে বহাল আছেন। তিনি কলেজ ফান্ডের টাকা নানা রকমের ছল-চাতুরিতে অপচয় করছেন। কিন’ কলেজের এমপিওভুক্ত স’ায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা উত্তোলনে
প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠান না করে তিনি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে কলেজের অনুষ্ঠান করেন। এছাড়া নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়ার জন্য তিনি প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে বিজ্ঞাপন ছাপাচ্ছেন। এতে কলেজের অনেক টাকা নষ্ট হচ্ছে।
সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ইসলামিয়া কলেজের প্রবীণ শিক্ষক মোস্তাফা মোর্শেদ বলেন, ‘আমাকে গত ২৩ অগাস্ট একটি শোকজ দেয়া হয়। আমি এর জবাব ২৪ অগাস্ট দিই। কিন’ ২১ অগস্টের তারিখে আমাকে কলেজ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। অর্থাৎ আমাকে আগে বরখাস্ত করে তারপর আমার সাথে শোকজের নাটক করা হয়।’
শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সদরঘাট থানায় মামলার প্রসঙ্গে অধ্যক্ষের সৃষ্ট পদে নিয়োগকৃত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘আমরা তো চাকরি করি। চাকরি বাঁচানোর জন্য অধ্যক্ষের আদেশে উনার সাজানো মামলায় আমরা স্বাক্ষর করি। আসলে এ অভিযোগটি ভিত্তিহীন।’
কলেজের প্রবীণ শিক্ষক মো. শহীদ উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘রেজাউল কবির ১১টি এমপিওভুক্ত শূন্য পদে নিয়োগ না দিয়ে ২২ জন অস’ায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেন। যাদের বেতন ভাতা কলেজ ফান্ড থেকে দিতে হয়। উনার কারণে অবসরপ্রাপ্ত ৪ জন শিক্ষক গ্র্যাচুয়িটি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উনার কারণে আমরা পে- স্কেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তিনি কলেজে আসেন না। কিন’ অনিয়ম করতে করতে কলেজের সুনাম ও অবকাঠামো ধ্বংস করছেন। এ নিয়ে আমরা কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতির সাথে কথা বলেছি। তিনি মৌখিকভাবে না শুনে আমাদের লিখিতভাবে অভিযোগ করতে বলেন। আমরা লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি। কিন’ তিনি অভিযোগটি ঠাট্টার ছলে অধ্যক্ষের নিকট পাঠিয়ে দেন।’
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিয়ে মো. রেজাউল কবিরের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, ‘আমি কলেজের ভালোর কথা ভেবেই এ পদে আছি এবং কাজ করছি। শিক্ষকরা ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে কথা বলছেন। বহিরাগত কিছু শিক্ষার্থী কলেজের পরিবেশ নষ্ট করছে।’