ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিগুলোকে সক্রিয় হওয়ার আহবান সিইসির

সম্পাদকীয়

সারাদেশে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটিগুলোর (নির্বাচনী তদনত্ম কমিটি) তৎপরতা দৃশ্যমান করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। গত বুধবার নির্বাচন কমিশন ভবনে ইলেক্টোরাল কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে এক বিফ্রিংয়ে সিইসি তাদের অ্যাকটিভ এবং ভাইব্রান্ট হতে বলেছেন, কমিটিগুলি তৎপরতা দেখালে নির্বাচন কমিশনে এত অভিযোগ পড়তোনা বলেও তিনি উলেস্নখ করেন। উলেস্নখ্য, জাতীয় সংসদের তিনশ আসনের জন্য ১২২টি ইলেক্টোরাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং সহকারী জজ সদস্য হিসেবে রয়েছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনসহ অপরাধ আমলে নিয়ে বিচার করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই কমিটিগুলোকে। প্রার্থীর অভিযোগ আমলে নিয়ে তাৎড়্গণিক এবং স’ানীয়ভাবে তারা এসব অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে পারেন। ইলেক্টোরাল কমিটি সক্রিয় হলে প্রার্থীদের মধ্যে এবং ভোটারদের মধ্যেও আস’া ফিরে আসে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শানিত্মপূর্ণ করতে এসব কমিটির ভূমিকা রয়েছে। ইলেক্টোরাল কমিটির এই সভায় নির্বাচন কমিশনাররা বলেন, কমিশন আইনানুগ নির্বাচন করতে চায়, কালো নির্বাচন নয়, সাদা এবং স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানই নির্বাচন কমিশনের লড়্গ্য। আগামী ১০ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরম্ন হবার পর ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাজ দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা যায়। কমিটি তৎপর হলে স’ানীয়ভাবে নির্বাচনের তদারকি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। প্রার্থীদের অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন পর্যনত্ম দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না।
এদিকে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে ‘শানিত্মতে বিজয়’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা নির্বাচনে লেভেল পেস্নয়িং ফিল্ড তৈরিতে আরও কাজ করতে হবে বলে অভিমত রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম নির্বাচনী পরিবেশে কিছু সমস্যা থাকার কথা স্বীকার করে ঐক্যবদ্ধভাবে তা দূর করতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। বিএনপির স’ায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরম্ন মাহমুদ চৌধুরী নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে উলেস্নখ করে বলেন, ইসিকে তার সড়্গমতা ও নিরপেড়্গতা প্রমাণ করতে হবে। আলোচকরা পর্যবেড়্গক ও গণমাধ্যম যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে নির্বাচন কমিশনকে তা নিশ্চিত করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন।
জাতীয় ও আনত্মর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেড়্গণ সংস’ার আলোচনা ও মতামত প্রকাশের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেড়্গণের কাজটি শুরম্ন হয়ে গেছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পূর্ণাঙ্গ পর্যবেড়্গক মিশন না পাঠালেও ঢাকায় কর্মরত ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানরা নির্বাচনী তৎপরতা পর্যবেড়্গণ করবেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার বলেছেন, এবারের জাতীয় নির্বাচন পর্যবেড়্গণে যুক্তরাষ্ট্র ২০টি দল পাঠাবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও দেশি বিদেশি সকল মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে এসব পর্যবেড়্গণ দলের মতামত ও প্রতিবেদন গুরম্নত্বপূর্ণ তাই নির্বাচন পর্যবেড়্গক দলকে সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান বাঞ্ছনীয় তবে তাদের আমাদের দেশের নির্বাচনী বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। আর এটি নিশ্চিত করবে নির্বাচন কমিশন। এড়্গেত্রে কমিশনের মতই চূড়ানত্ম। পর্যবেড়্গক টিমের সদস্যদের পড়্গপাতদুষ্টতা পরিহার করতে হবে।
আর কদিন পরেই মুল নির্বাচনী পর্ব শুরম্ন হবে। এ সময়টিতে সকল পড়্গের সংযম ও সহিষ্ণু আচরণ প্রত্যাশা করে দেশবাসী। নির্বাচন প্রচারণাকালে অনিয়ম, বিধি লংঘনের তৎপরতা যাতে দ্রম্নত যথাযথভাবে বন্ধ করা যায় সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের সকল সংশিস্নষ্ট কমিটিকে তৎপর হতে হবে। এড়্গেত্রে ইলেক্টোরাল কমিটিগুলির দৃশ্যমান ভূমিকা দেখতে চায় জনগণ। অন্যদিকে সকল দল ও প্রার্থীকে ‘সমসুযোগ’ দানে কমিশনকে এগিয়ে আসতে হবে।