শাহাদাত-এ-কারবালা মাহফিলের ২য় দিনে বক্তারা

ইমাম হোসাইনের (রা.) শাহাদাতে ন্যায়ের দর্শন সমুন্নত হয়েছে

বিজ্ঞপ্তি

জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বুধবার আলোচকরা বলেন, কারবালা সত্যানুসন্ধিৎসু মানুষের জন্য সত্য ও ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার চিরন্তন প্রেরণা। নবী দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) সহ আহলে বায়তে রাসূলের (দ.) নিষ্পাপ সদস্যগণ কারবালা ময়দানে সপরিবারে শাহাদাতবরণ করে ইসলামের ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক দর্শনই সমুন্নত করেছেন। কঠিন বিপদেও সত্য ও ন্যায়নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকাই হচ্ছে আহলে বায়তে রাসূলের (দ.) জীবন দর্শন ও শাহাদাতের মূল শিক্ষা।

গতকাল বুধবার মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে সভাপতিত্ব করেন ধর্মপুর দরবার শরিফের সাজ্জাদানশিন পীরে তরিকত আল্লামা আবদুশ শাকুর নকশবন্দী। মাহফিলে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক আলহাজ সূফী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, কারবালায় আহলে বয়তে রাসূলের (দ.) শাহাদাতের ট্র্যাজেডি থেকে অনেক শিক্ষণীয় রয়েছে। আহলে বায়তে রাসূল (দ.) আমাদের ঈমানি চেতনা ও উজ্জীবনের প্রেরণা। তারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে শাহাদাতের সুধা পান করেছেন বলেই আজ আমরা ইসলাম ও দ্বীন-ধর্ম পেয়েছি। ইসলাম বিশ্বজুড়ে বিকশিত হওয়ার পেছনে আহলে বায়তে রাসূলের (দ.) ত্যাগ ও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মাহফিলে বিদেশি আলোচক ছিলেন, মিসর শাজলিয়া কাদেরিয়া ইউসরিয়া তরিকার শায়খ প্রফেসর আল্লামা ড. ইউসরি রুশদি জবর আলহাসানী আল আযহারি, ইমাম আ’লা হযরত দরবারের সাজ্জাদানশিন পীরে তরিকত আল্লামা তওছিদ রেজা খান বেরলভি (ভারত) ও আল্লামা শাহ সূফী এহছান ইকবাল কাদেরী (শ্রীলঙ্কা)।

ড. আল্লামা ইউসরি রুশদী আল হাসানি বলেন, আহলে বায়তে রাসূলের (দ.) আত্নত্যাগ ও কুরবানির বিনিময়ে আজ তাঁদের স্মরণ ও অনুসরণে আমাদের আত্ননিবেদিত হতে হবে।
আল্লামা তাওসিফ রেজা খান বলেন, আহলে বায়তে রাসূলের (দ.) প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও মুহাব্বতই আমাদের নাজাতের চাবিকাঠি। জমিয়তুল ফালাহর আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিল বিশ্বের সুন্নি উলামা জনতার মধ্যে ঈমানি সেতুবন্ধন সৃষ্টি করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আল্লামা এহছান ইকবাল কাদেরী বলেন, কারবালা ট্র্যাজেডি মুসলমানদের ঈমানি শক্তিতে জেগে ওঠার প্রেরণা। যুগে যুগে কারবালা আমাদের সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠার শক্তি জোগায়।
মাহফিলে শেরে খোদা মওলা আলী (রা.) এর মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার প্রধান ফকিহ আল্লামা মুফতি কাযী মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ, আহলে বায়তে রাসূলের (দ.) বারো ইমামের পরিচয় বিষয়ে আলোচনা করেন নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা এনামুল হক সিকদার ও জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা আবদুশ শাকুর নকশবন্দি বলেন, জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ সুন্নি জনতার মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ৩৩ বছর ত্যাগে সূচিত মহররম মাসে ১০ দিনব্যাপী শাহাদাতে কারবালা মাহফিল ঈমানদার জনতার উজ্জীবনের প্রেরণা হয়ে উঠেছে। এক্ষেত্রে তিনি খতিবে বাঙাল অধ্যক্ষ আল্লামা জালাল উদ্দীন আলকাদেরী (রহ) অনন্য অবদানের কথা স্মরণ করেন। আলোচক আল্লামা মুফতি আবদুল ওয়াজেদ বলেন, হযরত আলী (রা.) ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক দর্শনের প্রতীক। তিনি হচ্ছেন জ্ঞানসমুদ্র ও বিরল আধ্যাত্নিক মনীষী।
মাওলানা এনামুল হক সিকদার বলেন, আহলে বায়তে রাসূলের (দ.) বারো ইমাম সকলেই দ্বীন ইসলামের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
মাহফিলে অতিথি ছিলেন, প্যানল মেয়র হাসান মাহমুদ হাসনি, পীরে তরিক্বত মাওলানা শাহ্‌ মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন আলকাদেরী, সমাজসেবক অধ্যাপক মুহাম্মদ মমতাজ উদ্দীন চৌধুরী, গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ এর মহাসচিব, শাহজাদ ইবনে দিদার, মহানগর গাউসিয়া কমিটি সভাপতি মুহাম্মদ আবুল মনসুর, মহানগর গাউসিয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম।
কুরআন মজিদ থেকে তেলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক ক্বারী শাইখ আহমদ বিন ইউসুফ আল আযহারী। নাতে রাসূল (দ.) পরিবেশন করেন শায়ের মাওলানা মুহাম্মদ জয়নুল আবেদীন। মাহফিল সঞ্চালনায় ছিলেন চবি অধ্যপক ড. আল্লামা মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ ও আল্লামা মুহাম্মদ জিয়াউল হক।
আজ বুধবার মাহফিলের তৃতীয় দিনে দেশি-বিদেশি আলোচক ও প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম অতিথি ও আলোচক থাকবেন।