ইভিএম চাইলেও সীমানা পুনর্নির্ধারণ, সেনা মোতায়েনে ‘না’ আওয়ামী লীগের

সুপ্রভাত ডেস্ক
21_EC_-AL-meeting_181017_00

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) চালুর পক্ষে মত দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিরোধিতার পাশাপাশি ভোটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনা মোতায়েনের বিপক্ষে অবস’ান নিয়েছে দলটি। খবর বিডিনিউজ’র।
গতকাল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে এই তিনটিসহ মোট ১১টি সুপারিশ করা হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এই আলোচনায় অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন
কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।
সোয়া দুই ঘণ্টার আলোচনা শেষে দলের পক্ষ থেকে দেওয়া সুপারিশগুলো সাংবাদিকদের জানান ওবায়দুল কাদের।
ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর ওপর আস’া রাখতে চেয়েছেন তিনি।
কাদের বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন এবং ইসি নির্ধারিত ভোটের পরবর্তী সময়ের জন্য প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর ওপর ন্যস্ত থাকবে।
“আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোন পরিসি’তিতে প্রতিরক্ষাবাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ করা যাবে ১৮৯৮ সালের প্রণীত ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ থেকে ১৩১ ধারায় এবং সেনা বিধিমালা ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ শিরোনামে সুস্পষ্টভাবে তার উল্লেখ রয়েছে।”
নতুন করে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা নিয়ে জটিলতার শঙ্কাও করছে ক্ষমতাসীন দল।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জানান, সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিশেষ করে আদমশুমারির সঙ্গে সম্পর্কিত। সর্বশেষ ২০১১ সালে আদমশুমারির (২০১৩ সালে প্রকাশিত) ওপর ভিত্তি করে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নতুন আদমশুমারি ছাড়া পুনরায় সীমানা পুনর্নির্ধারণ কার্যক্রম নিলে বিভিন্ন আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এ অবস’ায় ৩০০ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের মতো জটিল কাজ শেষ করতে সময় স্বল্পতার কারণে সম্ভব হবে কিনা বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া অত্যাবশ্যক।’
২০১৮ সালের শেষ দিকে একাদশ সংসদ নির্বাচন ছাড়াও স’ানীয় সরকারের অনেকগুলো নির্বাচনের কথা বিবেচনায় নিয়ে ‘সবদিক ভেবে’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
অন্য সুপারিশগুলো হচ্ছে :
ইংরেজিতে প্রণীত ‘দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২’ ও ‘দ্য ডিলিমিটেশন অব কন্সটিটিউয়েন্সিস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬’ এর বাংলা সংস্করণের সুপারিশ, নির্বাচনে অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধে নির্বাচনী আইন-বিধির কঠোর প্রয়োগ; নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিতদের দায়িত্বে অবহেলা ও অপেশাদার আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস’া; যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ; দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে আগ্রহীদের বাছাই; দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা বিধান; ভোটের দিন গণমাধ্যম কর্মীদের নির্বাচনী আইন-বিধি অনুসরণ এবং উপযুক্ত পরিচয়পত্র প্রদান এবং দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের ভোটের তিনদিন আগে এনআইডি ও ছবিসহ তালিকা দেওয়া।