ইনজেকশন পুশ করেন সুইপার!

আনসার সদস্যের বিরম্নদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ রোগীর স্বজনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের বিরম্নদ্ধে রোগীর স্বজনদের নাজেহাল ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সকালে হাসপাতালে গণশুনানিতে রোগীর এক স্বজন এ অভিযোগ করেন।
শুনানিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনরা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আখতারম্নল ইসলাম গণশুনানিতে স্বজনদের বিভিন্ন অভিযোগ শুনেন। এসময় হাসপাতালের সংশিস্নষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপসি’ত ছিলেন।
শুনানিতে কক্সবাজারের পেকুয়ার বাসিন্দা ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের ছয় নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আমার এক রোগীর জন্য ওষুধ নিয়ে যেতে চাইলে গেইটে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য বাধা দেন। তিনি টাকা দাবি করেন। কিন’ টাকা না দেওয়াতে ওই আনসার সদস্য আমাকে ডেকে নিয়ে প্রথমে দুর্ব্যবহার, পরে শারীরিক নির্যাতন করেন।
হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শাকেরা বেগমের মেয়ে কোহিনুর আকতার শুনানিতে অভিযোগ করেন, নার্সের পরিবর্তে মহিউদ্দিন নামের একজন সুইপার তার মাকে ইনজেকশন পুশ করেন। এতে তার মায়ের হাত ফুলে যায় বলে তিনি জানান।
ফেনীর সোনাগাজীর বাসিন্দ
হেদায়েতুল ইসলাম নামের এক স্বজন অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে তার রোগীকে দেখতে ঢুকার সময় গেটম্যান টাকা ছাড়া প্রবেশ করতে দেয়নি। পরে টাকা দিলে ঢুকতে দেয়।
শুনানিতে চিকিৎসা নিতে আসা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মচারী হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের যাতায়াত বন্ধের দাবি জানান।
শুনানিতে উপসি’ত ছিলেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজল কানিত্ম দাশ, হিসাবরড়্গণ কর্মকর্তা মো. শাহজাহান, হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরম্নল হক ভূঁইয়া, সেবা তত্ত্বাবধায়ক শিপ্রা চৌধুরী, ওয়ার্ড মাস্টার রাজীব কুমার দে এবং হাসপাতালের আনসার কমান্ডার মো. আবুল কাসেম।
উপপরিচালক ডা. আখতারম্নল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো আমলে নেওয়া হয়েছে। তদনত্ম করে জড়িতদের বিরম্নদ্ধে শাসিত্মমূলক ব্যবস’া নেওয়া হবে।
এদিকে শুনানির পর হাসপাতালের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আজম নামের অভিযুক্ত এক কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।