ইদলিবে জেগেছে দামেস্কের দুঃস্বপ্ন

সুপ্রভাত ডেস্ক

চার বছর আগের কথা। ২০১৩ সালে ভয়াবহ রাসায়নিক গ্যাস হামলার শিকার হয় সিরিয়ার দামেস্কের গৌটাসহ কয়েকটি এলাকা। নিষিদ্ধ সারিন গ্যাসের কবলে পড়ে প্রাণ হারায় শত শত মানুষ। আর যারা প্রাণে বেঁচে যান তাদের অনেককেই হয় বরণ করতে হয়েছে অন্ধত্ব, নাহয় স্নায়ু জটিলতায় ভুগতে হয়েছে কিংবা চলাফেরায় অক্ষম হয়ে পড়তে হয়েছে কাউকে কাউকে। ২০১৩ সালের সেই রাসায়নিক হামলার ক্ষত এখনও বয়ে চলছেন অনেকে। আর যাদের শরীরে ক্ষত নেই; তাদের ক্ষত জমা হয়েছে স্মৃতির ভাণ্ডারে। ৪ বছরের ব্যবধানে মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা সেইসব দুঃসহ শঙ্কার স্মৃতিকে আবারও জাগিয়ে তুলেছে ইদলিবের সামপ্রতিক বিষাক্ত গ্যাসের হামলা।
দামেস্কের মানুষরা আতঙ্কে ছিলেন যেকোনও সময় আবারও তাদের ওপর রাসায়নিক গ্যাস হামলা হতে পারে। সেই আতঙ্ক সত্যিই হয়েছে। চার বছর আগেকার ভয়াবহ সেই ঘটনার আতঙ্ক না কাটতেই গত সপ্তাহে আবারও ভয়াবহ রকমের রাসায়নিক হামলার শিকার হন সিরীয় জনগণ। এবারের হামলাটি হয় ইদলিবের খান শেইখোন শহরে। নিহত হয় অন্তত ৮৭ জন। এ ঘটনার পর অতীতের হামলা আর প্রিয়জন হারানোর দুঃসহ স্মৃতি আবারও সিরীয় জনগণের মনে জেগে উঠেছে। বার বারই তাদের চোখের সামনে ভেসে উঠছে সেই আগেকার করুণ দৃশ্যপট। ২০১৩ সালের রাসায়নিক গ্যাস হামলায় শত শত মানুষের সঙ্গে নিজের পরিবারের ৩৭ জন সদস্যকে হারিয়েছিলেন আবু ঘাসান নামের এক সিরীয়। নিজেও এক মাসের বেশি সময় ধরে চোখে দেখতে পাননি। অচল হয়ে কয়েক সপ্তাহ বিছানায় পড়ে ছিলেন তিনি। সামপ্রতিক রাসায়নিক হামলার খবর পেয়ে অতীতের স্মুতি ভেসে ওঠে চোখের সামনে। ৫০ বছর বয়সী ঘাসান জানান, তিনি ‘শিশুর মতো ডুকরে কেঁদে উঠেছিলেন’।
রাসায়নিক হামলায় নিহত যমজ সন্তানকে বুকে নিয়ে বাবার কান্না আবু ঘাসানের মতে, কেবল মাত্র সামরিক প্রশিক্ষণের জ্ঞান থাকার কারণে ২০১৩ সালের সেই হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। সেদিন হামলার সময় বিষাক্ত গ্যাসের গন্ধ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি ভেজা শার্ট দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলেছিলেন বলে জানান ঘাসান। ঘটনার দিন তার আশেপাশে যারা ছিলেন তারা আর কেউই বেঁচে নেই। ঘাসান জানান, সেই থেকে সবসময় তিনি হামলার আতঙ্কে থাকেন। আর তাই সবসময় তার সঙ্গে কাপড় আর ভিনেগার থাকে যেন এ ধরনের হামলা থেকে বাঁচা যায়।
যে রকেট ব্যবহার করে সেই গ্যাস হামলা চালানো হয়েছিল তার কয়েকটি টুকরো এখনও বিধ্বস্ত অ্যাপার্টমেন্টে পড়ে আছে। জাতিসংঘের পরিদর্শকরা কয়েক খণ্ড নিয়ে গেলেও অবশিষ্টগুলো রেখে দেওয়া হয়েছে যেন যুদ্ধাপরাধের বিচারের সময় সেগুলো ব্যবহার করা যায়। একইরকমের পরিসি’তি হয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় গৌটা এলাকার বাসিন্দা আমির জায়দানের ক্ষেত্রেও। ২৮ বছর বয়সী আমির বলেন, ‘খান শেইখোনের ঘটনার পর আমরা আগের স্মৃতিতে ফিরে গেছি। মনে হচ্ছিল, আমরা সেই হামলার মধ্যে আছি। এখানকার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।’
সেদিনের দুঃসহ স্মৃতির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে আমির জায়দান জানান, ওইদিন চোখের সামনে মানুষকে আর্তনাদ করতে দেখেছেন, নিজের জ্ঞান হারানোর আগ পর্যন্ত শত শত মানুষকে মারা যেতে দেখেছেন। কয়েকদিন ধরে চোখে দেখেননি জায়দান।