ইডিইউতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে অ্যাডমিশন ফেয়ার

রাত থেকেই প্রবল বৃষ্টি। নগরীর সবকটি সড়কে পানির জোয়ার। তাই আশংকা ছিলো অ্যাডমিশন ফেয়ারে সবার সঙ্গে দেখা হবে কিনা। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা যখন সকাল ১০টা ছুঁইছুঁই, তখন শহরের নানা প্রান্ত থেকে যেন দলবেঁধে ছুটে আসছিলেন ভর্তিচ্ছুরা।
পছন্দের সাবজক্ট নিয়ে পড়তে এসে দেখা হয়ে গেলো পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে। অনেকে সহপাঠীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন বাবা-মায়ের। কেউবা আবার স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগ্রহের কথা জানালেন। গুণগত শিক্ষা নিয়ে চললো দিনভর আড্ডা।
চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির (ইডিইউর) গতকাল শনিবারের জমজমাট অ্যাডমিশন ফেয়ার যেন পরিণত হয় ভর্তিচ্ছুদের মিলনমেলায়। প্রতিবারের মতো এবারও নগরীর প্রবর্তক মোড়ের বর্ধিত একাডেমিক ভবনে কর্তৃপক্ষ এই ফেয়ারের আয়োজন করে।
এতে চট্টগ্রামের বেশিরভাগ কলেজ ছাড়াও দেশের একাধিক অঞ্চলের উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা শিক্ষার্থীদের ইডিইউতে ভর্তি হতে ভিড় করতে দেখা যায়। সন্তানদের সঙ্গে এসেছিলেন তাদের অভিভাবকরাও।
সকালে ফিতা কেটে ফেয়ারের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ও ইডিইউর ট্রেজারার প্রফেসর সামস-উদ-দোহা। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অ্যাডমিশন ফেয়ার আয়োজনের মাধ্যমে গুণগত শিক্ষার উৎকর্ষতায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা তুলে ধরা যায়। তারা উচ্চশিক্ষা নিয়ে নানা ধরনের তথ্য জানতে পারেন। এ নিয়ে পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনাও দেখা যায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘অত্যন্ত স্বল্পসময়ের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করে উচ্চশিক্ষায় আরো একধাপ এগিয়ে গেছে ইডিইউ। আশা করছি, নতুন যারা এখানে ভর্তি হবেন, তারা আনন্দের সঙ্গে শিক্ষাজীবন শেষ করে দেশ গড়ার কারিগর হয়ে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করবেন।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- ডিরেক্টর শাফায়েত চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সজল বড়ুয়া, অ্যাসোসিয়েট ডিন ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।
কর্তৃপক্ষ জানান, ‘২০১৭ সালের ফল সেমিস্টারের ভর্তির যাবতীয় তথ্য ছাড়াও ফেয়ারে ছিলো স্পট অ্যাডমিশন, স্কলারশিপ, ক্যাম্পাস জব, ক্যারিয়ার প্লেসম্যান্ট সেল, ক্রেডিট ট্রান্সফার ও বিদেশি ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথ শিক্ষা কার্যক্রমের নানান তথ্য। ছিলো হায়ার এডুকেশন বিষয়ক নানান তথ্য তুলে ধরার জন্য আলাদা স্টল ও ভর্তির ওপর ৫০ শতাংশ ওয়েভার। পাশাপাশি নগরীর খুলশীর পূর্ব নাসিরাবাদের নোমান সোসাইটিতে ইডিইউর স্থায়ী ক্যাম্পাসের শিক্ষা কার্যক্রম ঘুরে দেখার জন্য ছিলো প্রতি ঘণ্টায় যাতায়াত সুবিধা।
দীপ্ত চক্রবর্তী নামের একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘বৃষ্টি মাথায় নিয়ে অ্যাডমিশন ফেয়ারে এসেছি। ভালো লাগছে। আমি বিবিএ পড়বো। সময়টাই এখন উদ্যোক্তা হওয়ার। ইডিইউর স্থায়ী ক্যাম্পাস আছে শুনে আরো বেশি ভালো লাগছে।’
ইংরেজি বিভাগের ভর্তির ফরম নিয়ে ফেয়ারের এককোণে বসে পূরণ করছিলেন জাহিন মালিয়াত। তিনি বলেন, ‘ইংরেজি আমার প্রিয় সাবজেক্ট। সাহিত্য ছাড়া জীবন চলে না। শিক্ষকদের ভালো লেগেছে। পরিবেশটাও চমৎকার।’ বিজ্ঞপ্তি