ইট-পাথরের শহরে নতুন ধানের উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক
Untitled-1

এখন হেমন্তকাল। নতুন ধান কাটার সময়। কৃষাণ-কৃষাণীর মুখে হাসি ফোটার সময়। এই হেমন্তে নতুন ধানের গন্ধে মৌ মৌ করে গ্রামবাংলার অলিগলি, মাঠ-ঘাট। ধান কাটা হয়ে গেলে নতুন ধানের চাল থেকে তৈরি হয় পিঠা। সেই পিঠায় হয় নবান্ন উৎসব। গ্রাম বাংলার ছেলেমেয়েরা বাংলার এসব চিরায়ত উৎসবের সাথে পরিচিত হলেও শহুরে ছেলেমেয়েরা এসবের কিছুই জানে না। তারা বড়জোর ধান থেকে চাল হয় এতটুকুই জানে! বাংলার চিরায়ত কৃষিজ সংস্কৃতিকে তাই নাগরিক জীবনের সাথে মেলবন্ধন ঘটিয়ে চট্টগ্রামে তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয়েছে নবান্ন উৎসবের।
ছোটদের সাংস্কৃতিক জগত ‘শিশু মেলা’ গেল দুই বছর এ উৎসব ডিসি হিলের মত বড় পরিসরে করে আসলেও এ বছর তা আর সম্ভব হল না জেলা প্রশাসন কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার কারণে। বাধ্য হয়ে উৎসব স্থানান্তরিত করতে হয়েছে এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ মাঠে। এ কারণে নবান্ন উৎসব আয়োজক কমিটির ক্ষোভও রয়েছে।
‘আজি নবান্ন উৎসবে নবীন গানে, আয়রে সবে আয়রে ছুটে প্রাণের টানে’ এ স্লোগান সামনে রেখে আয়োজিত উৎসব বিকেল ৪টায় উদ্বোধন করানো হয় সাতকানিয়া থেকে আসা তিন কৃষক তপন দাশ, নজির আহমদ ও মোহাম্মদ আইয়ুবের মাধ্যমে। সাথে ছিলেন বিখ্যাত আঞ্চলিক গান ‘অ জ্যাডা ফইরার বাপ, একদিন বুঝিবা জ্যাডা একদিন বুঝিবা’ গানের গীতিকার সৈয়দ মহিউদ্দীন।
উদ্বোধন শেষে সুরঙ্গন নৃত্য একাডেমির দলীয় নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মূল উৎসব শুরু হয়। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা পরিবেশন করেন একক ও দলীয় নৃত্য-সঙ্গীত, নাচ, গান ও আবৃত্তি। সন্ধ্যে ৬টার পর শুরু হয় আলোচনা অনুষ্ঠান। আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গীতিকার ও সুরকার সৈয়দ মহিউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন শিশুমেলার সভাপতি অধ্যক্ষ রীতা দত্ত, এনায়েতবাজার মহিলা কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য জামশেদুল আলম চৌধুরী, জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, রত্নাকর দাশ ?টুনু, রুবেল দাশ প্রিন্স। আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন উৎসব উদযাপন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম।
বক্তারা নবান্ন উৎসব ডিসি হিলে আয়োজন করতে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে চট্টগ্রামের প্রশাসন বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। ডিসি হিলে নবান্ন উৎসব করার অনুমতি না দিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল প্রশাসন সংস্কৃতির পথ রূদ্ধ করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা এনায়েতবাজার কলেজ মাঠে আরও বড় পরিসরে উৎসবের আয়োজন করেছি।
বক্তারা আরো বলেন, নাগরিক জীবনের কোলাহলে গ্রামীণ সমাজের অনেক অনুষঙ্গের সঙ্গেই পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায় না শহরের শিশু-কিশোররা। আমরা চাই নবান্ন উৎসবের মাধ্যমে মেলবন্ধনের সূত্র হয়ে উঠুক গ্রামের সঙ্গে শহরের।
আলোচনা পর্ব শেষে মঞ্চে উঠেন বিশিষ্ট লোক সংগীত শিল্পী ফকির সাহাবুদ্দিন। তিনি একের পর এক গান গেয়ে দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন।
এছাড়া উৎসবকে নতুন মাত্রা দিতে মাঠের একপাশে ছিল পিঠাপুলি, চিকেন কিমা পুলি, সাবু দানার লাড্ডু, সাজু পিঠা, নারকেল লাড্ডু, পাটিসাপটা, নারকেল পুলি, দুধ শালাই ক্ষির, ভাপা পিঠা, মুড়ি, মুড়কি।