ইটিপিবিহীন কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ

সিডিএ’র মেগা প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তুললেন নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

খালের দুপাশের অবৈধ দখল উচ্ছেদ না করেই তড়িঘড়ি করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘সরেজমিনে গিয়ে দেখলাম চাক্তাই খালের উভয় পাড়ে অবৈধ স’াপনা। সিডিএ’র কর্মকর্তারা জানালেন, তাদের ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। অথচ তারা খাল পাড়ের অবৈধ দখল উচ্ছেদ না করেই কাজ শুরু করল। আগে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে।’
গতকাল মঙ্গলবার সকালে সার্কিট হাউজে চট্টগ্রাম বিভাগের ‘নদ-নদীর বর্তমান অবস’া, বিদ্যমান সমস্যা এবং সমাধানে করণীয়’

শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুজিবুর রহমান হাওলাদার আরো বলেন, ‘নদী রক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা অবশ্যই দরকার। প্রয়োজনে নদী জবর দখলকারীদের তালিকা সংবাদপত্রে প্রকাশ করতে হবে।’
নদী দখলকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমাদের দিন শেষ। উল্টো-পাল্টা সীমানা নির্ধারণ করে মামলা দিয়ে বেশি দিন টিকে থাকতে পারবেন না।’
নদী রক্ষা কমিনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা চাই কোন বর্জ্য নদীতে পড়বে না। সঠিকভাবে ব্যবস’াপনা করবেন।’
তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বলেন, ‘নদীর ড্রেজিং করা মাটি কোথায় ফেলবেন, তার সঠিক ব্যবস’াপনা করবেন ’
অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মকবুল হোসেন জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে হালদা-কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে প্রায় ৩০০ শিল্প কারখানা আছে। এর মধ্যে ১২২টির ইটিপি প্ল্যান্ট আছে। এ সময় নদী দূষণকারী ইটিপিবিহীন শিল্প কারখানা বন্ধ করে দিতে মকবুল হোসেনকে নির্দেশ দেন মুজিবুর রহমান হাওলাদার।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সদস্য মো. আলাউদ্দিন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শঙ্কর রঞ্জন সাহা।
মো. আবদুল মান্নান বলেন, ‘নদী দুর্বৃত্তায়নের অভয়ারণ্য হয়ে গেছে। এনফোর্স না করতে পারলে আইন দিয়ে কিছুই হবে না। আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে।’
টুরিস্ট পুলিশের মতো নদী রক্ষায় আলাদা বাহিনী গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানে কর্ণফুলী নদী থেকে ২ হাজার ১১২টি অবৈধ স’াপনা উচ্ছেদে ১২০ কোটি বরাদ্দ পাওয়ার ব্যাপারে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস’াপন করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোমিনুর রশিদ আমিন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম ডিভিশন-১’র নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা। উপসি’ত ছিলেন স’ানীয় সরকারের বিভাগীয় পরিচালক দীপক চক্রবর্তী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা বিশেষজ্ঞ ড. মনজুরুল কিবরীয়া প্রমুখ।
নদী রক্ষায় র্যালি
নদীর দখল, দূষণ প্রতিরোধ ও নাব্যতা রক্ষায় নগরীতে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এ র্যালির আয়োজন করে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সার্কিট হাউস থেকে এ র্যালি শুরু হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালির নেতৃত্ব দেন জাতীয় নদী কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার ও বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান। এতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপসি’ত ছিলেন।