আগ্রাবাদে আসছে

‘ইকুইটি মিড সিটি’ জাদুঘরের পেছনের ৫০ কাঠায় গড়ে তোলা হচ্ছে ১৬৮ ফ্ল্যাটের প্রকল্প

.নিজস্ব প্রতিবেদক

ইকুইটি ভিলেজের পর এবার আসছে ‘ইকুইটি মিড সিটি’। চট্টগ্রাম আবাসন শিল্পে পথিকৃৎ ডেভেলপার ইকুইটি প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। ২০০২ সালে নগরীর মির্জারপুর এলাকায় তারাই সবার আগে ১০৮টি ফ্ল্যাট নিয়ে গড়ে তুলেছিল ইকুইটি ভিলেজ। তখন পাঁচ কাঠা ও ১০ কাঠা জায়গায় রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো ফ্ল্যাট প্রকল্প নিলেও ইকুইটি এড়্গেত্রে ব্যতিক্রম ছিল। ছোটো প্রকল্পের পাশাপাশি বড় প্রকল্প নিয়েও যে বাজারে টিকে থাকা যায় তা দেখিয়েছিল ইকুইটি। কিন’ ইকুইটি ভিলেজের পর আর কোনো বড় প্রকল্প নেয়নি কোম্পানিটি।
এখন নতুন করে ‘ইকুইটি মিডসিটি’ নামে একটি বৃহৎ প্রকল্প নিয়ে বাজারে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। নগরীর আগ্রাবাদ জাদুঘরের পেছনের ১৫০ কাঠা জায়গায় ১৬৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে চট্টগ্রামে আবাসন শিল্পের লিজেন্ড বলে পরিচিত ড. আইনুল হক। দেশের আবাসন শিল্পে মন্দাভাব কাটিয়ে এখন আবার চাঙ্গা হওয়ার পথে রয়েছে। ২০০২ সালে বড় প্রকল্প নেয়ার ১৭ বছর পর এখন আবার বড় প্রকল্প নেয়ার কারণ কি জানতে চাইলে ডা. আইনুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রামে প্রকৃতপড়্গে মধ্যবিত্তদের জন্য কোনো ফ্ল্যাট নেই। ডেভেলপাররা মুখে মধ্যবিত্তদের ফ্ল্যাটের কথা বলি, এগুলো বাসত্মবে সঠিক নয়। কারণ এক কোটি টাকা দিয়ে কখনো একজন মধ্যবিত্ত ফ্ল্যাট কিনতে পারবে না। তাদের জন্য দাম কমিয়ে আনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী মাসিক কিসিত্মর ব্যবস’া করতে হবে। একইসাথে ব্যাংক ঋণের ব্যবস’াও করে দিতে হবে।’
আপনার নতুন প্রকল্প ইকুইটি মিডসিটিতে কি এধরনের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন মধ্যবিত্তদের জন্য? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, হুম, এই প্রকল্পে পাঁচ থেকে ১০ বছর মেয়াদে মাসিক ৫০ হাজার টাকা কিসিত্মতে গ্রাহকরা ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ পাবেন।
আগ্রাবাদ জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরের পেছনের বিশাল জায়গায় নির্মাণ হতে যাওয়া প্রকল্পটিতে কি কি সুবিধা থাকছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৮ ও ১৯ তলার দুটি টাওয়ারে হবে ১০ ধরনের ১৬৮টি ফ্ল্যাট। সর্বনিম্ন ১০২৫ বর্গফুট থেকে সর্বোচ্চ ১৫৬০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট নির্মিত হবে। টাওয়ারের সামনে ২৫ কাঠা আয়তনের একটি খালি মাঠ থাকবে। সেখানে বাচ্চাদের জন্য থাকবে খেলার আয়োজন। একইসাথে চার লেয়ারে থাকবে পার্কিং স্পেস এবং কমিউনিটি হল থাকবে প্রথম ফ্লোরে।
কমিউনিটি হল নগরীর বেশিরভাগ ভবনে ছাদের উপরে রাখা হয় কিন’ এই টাওয়ারে প্রথম ফ্লোরে রাখার পেছনে সুবিধা কি জানতে চাইলে ইকুইটির চিফ আর্কিটেক্ট ইউ টুন ইয়ান বলেন,‘ কমিউনিটি স্পেস উপরের দিকে দিলে বাহির থেকে অনেক অতিথি আসে। যারা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। এতে ভবনের অধিবাসীদের প্রাইভেসি যেমন নষ্ট হয় তেমনিভাবে লিফটের উপর বাড়তি চাপ পড়ে। তাই নিচের ফ্লোরে করা হলে এসব ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আর স্বাভাবিকভাবে অনেকে নিচের দিকে ফ্ল্যাট নিতে চায় না, তাই এই জায়গাটি কমিউনিটি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা গেলে ভাল হয়।
তিনি আরো বলেন, দুটি টাওয়ারের প্রতিটিতে দুটি করে লিফট রয়েছে। এছাড়া বাতাস চলাচলের জন্য রাখা হয়েছে উপযুক্ত ব্যবস’া।
আপনি মধ্যবিত্তের ফ্ল্যাটের কথা বলছেন কিন’ এই প্রকল্পে ফ্ল্যাটের দাম কেমন পড়বে জানতে চাইলে ডা. আইনুল হক বলেন, ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকায় মানুষ এখান থেকে ফ্ল্যাট কিনতে পারবে। এরজন্য ন্যূনতম পাঁচ লাখ টাকা শুধু বুকিং মানি হিসেবে নেয়া হবে।