ইউএনও’র কাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি
Rangamati-UNO-Langudu

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে পরীক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাদ্দেক মেহদী ইমামের বিরুদ্ধে। এসময় আতঙ্কে পাঁচ ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে একশ গজের মধ্যে অবসি’ত আরেক কেন্দ্রে। ঘটনাটি গত শনিবারের। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই এনিয়ে তোলপাড় শুরু হয় ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গত শনিবার গণিত পরীক্ষা চলাকালে সকাল ১১টায় লংগদু বালিকা বিদ্যালয়কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন ইউএনও। এসময় কেন্দ্রের ৬ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে জুনায়েদ ইসলাম পেয়ার নামের এক ছাত্রকে অন্য ছাত্রদের খাতা দেখানোর অপরাধে চড় মারতে শুরু করেন। খাতাও কেড়ে নেন। এক পর্যায়ে ঐ শিক্ষার্থীকে শার্টের কলার ধরে টেবিলের বাইরে এনে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন এবং গালাগাল ও চিৎকার-চেঁচামেচি করে বলতে থাকেন বহিষ্কার করে
দেবেন। বহিষ্কারের কথা শুনে শুভ নামের অন্য শিক্ষার্থী জুনায়েদ ইসলাম পেয়ারকে ইউএনও স্যারের নিকট ক্ষমা চাইতে বললে তাঁকেও চার-পাঁচটি চড় মারেন ইউএনও। এসময় দায়িত্বরত কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষকরা অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক শিক্ষিকা বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে কান্নাকাটি করেন বলে জানিয়েছেন তারই এক সহকর্মী।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে ও কেন্দ্রে কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বপালনকারী এক শিক্ষক বলেন, আমার দীর্ঘদিন পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার্থীদের সাথে এমন খারাপ আচরণ করতে কোনো কর্মকর্তাকে দেখিনি। ওনার (ইউএনও) এমন রূঢ় আচরণের কোনো প্রতিবাদই আমরা করতে পারিনি।
এ খবর পাশের লংগদু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীরা শুনলে তারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আতঙ্কে পাঁচ ছাত্রী অজ্ঞান হলে তাদেরকে লংগদু স্বাস’্য কমপ্লেক্স ও রাবেতা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। লংগদু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এক পরীক্ষার্থীকেও চড় মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে দায়িত্বরত শিক্ষকরা ছাত্রকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করলেও ইউএনও সবাইকে ধমক দিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।
গত রোববার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শুধু মারামারি নয়, গালাগাল, ধমক ও ফাইল ছুঁড়ে মারাসহ অনেক খারাপ আচরণ করেছেন ইউএনও।
এদিকে ইসমাঈল হোসেন নামের এক পরীক্ষার্থী বলে, শুধু গণিত পরীক্ষাই নয়, ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষার দিনও তাকে এবং তার পাশের ছাত্রকে চড় মেরেছেন ইউএনও এবং গালাগাল করে বলেন, ‘তোর মতো এমন ছাত্র লাগবে না’। এক ছাত্রীও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওনার (ইউএনও) আচরণ খুবই খারাপ। অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উনি (ইউএনও) যত বড় অফিসারই হোন, আমাদের সন্তানদের গায়ে হাত তোলার অধিকার নাই তার। সরকার যেখানে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রদের মারতে নিষেধ করেছেন, সেখানে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মার খাওয়া শিক্ষাথী জুনায়েদ ইসলাম পেয়ার বলেন, আমাকে ১৫/২০ টা চড় মেরেছেন এবং খাতাও কেড়ে নিয়েছেন । আমি ঘটনার পর আধঘণ্টা পর্যন্ত কিছু কিছু লিখতেই পারিনি। পরীক্ষাও খারাপ হয়েছে ।
বন্ধুর পক্ষে কথা বলে মার খাওয়া শিক্ষার্থী অহিদুল ইসলাম শুভ’র মা শাহীনা আক্তার বলেছেন, ছেলেমেয়েরা ভুল করতেই পারে। তাই বলে এভাবে সবার সামনে মারধর করাটা কোনোভাবেই ঠিক করেননি ইউএনও ।

লংগদু চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য যাওয়া পাঁচ মেয়ে শিক্ষার্থী প্রসঙ্গে চিকিৎসক ডা. তন্ময় বড়ুয়া বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা খারাপ হওয়াতে অসুস’তার ভান করেছে । তাদের শারীরিক কোনো সমস্যা পাইনি।
এ বিষয়ে লংগদু বালিকা বিদ্যালয়ের কেন্দ্রসচিব ও প্রধান শিক্ষক রবিরঞ্জন চাকমা বলেন, শিক্ষার্থীকে চড় মারার বিষয়টি জানি না। তবে ইউএনও স্যার রাগারাগি করেছেন, এটা শুনেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাদ্দেক মেহ্দী ইমাম বলেন, মারধর করা হয়নি। ধমক দেয়া হয়েছে। অসুবিধা নেই, এগুলো ঠিক হয়ে যাবে।