চমেক হাসপাতাল মেডিসিন ওয়ার্ড

আয়া-ওয়ার্ডবয়দের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর কালামিয়া বাজারের বাসিন্দা ফেরদৌস বেগম। স্বামী নুরুল আবছারকে ২০ দিন আগে ভর্তি করিয়েছেন হাসপাতালের ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে। গত বিশ দিনে ওয়ার্ডের বয় ও আয়াদের অত্যাচার, দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠার অভিযোগ করেছেন তিনি।
বুধবার বিকেলে স্বামীর পাশে বসে ফেরদৌস বেগম সুপ্রভাতকে বলেন, টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে না ওয়ার্ডের বয় ও আয়ারা। কথায় কথায় দুর্ব্যবহার করে তারা। চিকিৎসক-নার্সদের চেয়েও যেন তাদের দাপট বেশি হাসপাতালে।’
ফেরদৌস বেগমের স্বামী নুরুল আবছার বলেন, ‘সোমবার ঝাড়ু দিচ্ছিলো এক ওয়ার্ড বয়। আমার স্ত্রীর টাকার ব্যাগ দেখে সে বলে, ব্যাগে টাকা নিয়ে ঘুরেন। আমরা খুঁজলে দেন না।’
একই ওয়ার্ডে মাকে নিয়ে সাতকানিয়া থেকে আসা রোজিনা আকতার বলেন, ‘নার্স-চিকিৎসকদের চেয়ে এ ওয়ার্ডে আয়া-ওয়ার্ড বয়দের ক্ষমতা বেশি। তারা হুমকিও দেয়। রোগীর বিছানার চাদর নোংরা হলেও তারা ধুয়ে দেয় না। ধুতে বললে টাকা দাবি করে তারা। অন্যথায় গালিগালাজ করে অকথ্য ভাষায়।’
ওয়ার্ডের ৬৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন নগরীর নন্দনকানন এলাকার বাসিন্দা নিগার সুলতানা বলেন, ‘দশদিন আগে জ্বরের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এরমধ্যে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। সকালে বিশেষজ্ঞরা আসেন। কিন্তু ভালো করে দেখেন না। দায়িত্বরত চিকিৎসকদের বললে তারা নানা কথা বলে।’
অন্যদিকে মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনের গায়ে হাত তোলার অভিযোগও আছে ওয়ার্ড বয়দের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকাল নয়টায় এক রোগীর স্বজনকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাউজান থেকে এক ব্যক্তি তার মাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে। মঙ্গলবার সকালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ওয়ার্ড পরিদর্শনে আসেন। ওই সময় তাকে ওয়ার্ড থেকে বের হয়ে যেতে বলে দায়িত্বরত বয় ও আয়ারা। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই লোককে মারধরে করেন তারা। পরে হাসপাতালের পুলিশ এসে লোকটিকে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে ১৬ নম্বর মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগীর এক স্বজনের সাথে ঝামেলা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয় ওই লোককে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আয়া-ওয়ার্ড বয়রা হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। সরকারি নিয়োগের বিধান থাকলেও হাসপাতালের জনবল সংকটের কারণে বেসরকারিভাবেও এদের নিয়োগ দেয়া হয়।
জানা যায়, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সাথে হাসপাতালের রোগীদের বাক-বিতণ্ডা লেগেই থাকে। বেতন ও নানান সুযোগ সুবিধা না থাকায় তারা ওয়ার্ডে রোগীদের কাছ থেকে টাকা দাবি করে। অন্যথায় সেবা দেয়না তারা। এ কারণে নানা সময়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা।
অন্যদিকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হালিম জানান, ‘বেসরকারি নিয়োগের আয়া-ওয়ার্ড বয়রা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাদের কোনো সংগঠন নাই। ওয়ার্ড মাস্টার তাদের নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য তারা যেমন ইচ্ছা তেমন ব্যবহার করে। এদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনা।’
এব্যাপারে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জালাল উদ্দিনকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাক্তার গোপেন্দ্র নাথ আচার্য্য সুপ্রভাতকে বলেন, ‘রোগীর স্বজনকে মারধরের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। এছাড়াও ওয়ার্ড বয় আয়াদের ব্যাপারে কেউ কিছু বলেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।’