আড়াইশ ছাড়িয়ে আফগানিস্তান ৩০ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯১ রান

সুপ্রভাত ডেস্ক

রশিদ খানের বোলিং নিয়েই শঙ্কার চোরাস্রোত। কিন’ তার আগে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ তুলোধোনা করলেন এই লেগ স্পিনার। নিজের ২০তম জন্মদিনে করলেন ঝড়ো ফিফটি। গুলবদিন নাইবের সঙ্গে উপহার দিলেন খুনে জুটি। ইনিংসের বেশিরভাগ সময় জুড়ে ধুঁকতে থাকা আফগানিস্তানের রান ছাড়িয়ে গেল আড়াইশ। এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আবু ধাবিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫৫ রান তুলেছে আফগানিস্তান।
আফগানিস্তানের ২৫৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ৯১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য আরো ১৬৫ রান প্রয়োজন, হাতে আছে ২০ ওভার।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটিতে ৩২ বলে ৫৭ রানের দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন রশিদ। গুলবদিন অপরাজিত ছিলেন ৩৮ বলে ৪২ রানে। অষ্টম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৫৬ বলে এসেছে আফগান রেকর্ড ৯৫ রান।
অথচ এক সময় আফগানদের দুইশ হওয়া নিয়েই ছিল টানাটানি। সপ্তম উইকেট যখন পড়েছিল, রান ছিল কেবল ১৬০। রশিদ ও গুলবদিনের তাণ্ডবে পাল্টে গেল ইনিংসের চেহারা। শেষ ৬ ওভারে এসেছে ৭৪ রান!
বাংলাদেশের শুরুটা ছিল শেষের উল্টো। টস হেরে বোলিংয়ে নামে বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমানের বিশ্রামে সুযোগ পাওয়া আবু হায়দার নিজের প্রথম ওভারেই দলকে এনে দেন উইকেট। তার তৃতীয় ওভারে আরেকটি। সাফল্যের ছোঁয়ায় শুরু ওয়ানডে ক্রিকেটে বাঁহাতি পেসারের পথচলা।
২৮ রানে ২ উইকেট হারানো দলকে আরও চেপে ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই অফ স্পিনারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে হাঁসফাঁস করতে থাকেন মোহাম্মদ শাহজাদ ও হাশমতউল্লাহ শাহিদি। তার প্রথম ৪ ওভারে আসে ৬ রান!
তবে উইকেট ধরে রেখে আস্তে আস্তে রানের গতি বাড়াতে থাকেন দুজন। শেষ পর্যন্ত রান বাড়ানোর চেষ্টাই হয়েছে কাল। সাকিবকে বাউন্ডারি মারার পর ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় আবু হায়দারের দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন শাহজাদ (৩৭)। ভাঙে ৫১ রানের জুটি।
বাঁহাতি শাহিদি এরপর আগলে রেখেছেন এক প্রান্ত। কিন’ সাকিবের দারুণ বোলিংয়ে আরেকপাশে টিকতে পারেননি আসগর, সামিউল্লাহ শেনওয়ারিরা। দারুণ আর্ম বলে বোল্ড হন আফগান অধিনায়ক আসগর, সুইপ করে গিয়ে বোল্ড শেনওয়ারি।
দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে রুবেল ফিরিয়ে দেন ৯২ বলে ৫৮ রান করা শাহিদিকে। বিপজ্জনক মোহাম্মদ নবিকে ফিরিয়ে সাকিব ধরেন চতুর্থ শিকার। সপ্তম ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে তখন পথহারা আফগানরা। ক্যারিয়ারে অষ্টমবার ৪ উইকেট নেন সাকিব।
কিন’ সাকিবের স্পেল শেষ হওয়ার পর জ্বলে ওঠেন গুলবদিন ও রশিদ। ৪৫তম ওভারে রুবেলের বলে ১৭ রান নিয়ে ঝড়ের শুরু। এরপর আর তাকে বোলিংয়ে আনেননি মাশরাফি।
অধিনায়ক এ দিন বল হাতে নিয়েছিলেন চতুর্থ বোলার হিসেবে। পরের দিনের ম্যাচের জন্য নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রথমে বল করেছেন শর্ট রান আপে। পরে স্লগ ওভারে ফুল রান আপেই করেছেন। কিন’ থামাতে পারেননি রশিদের ঝড়। শেষ ওভারে চারটি চারসহ শেষ দুই ওভারে অধিনায়ক দিয়েছেন ৬৭ রান। আফগানিস্তানের রান তাতে পৌঁছে গেছে লড়াই করার মতো স্কোরে।
বাংলাদেশের একাদশে বোলিংয়ে আবু হায়দার ছাড়া অন্য দুই পরিবর্তন ব্যাটিংয়ে। চোট পাওয়া তামিম ইকবালের জায়গায় ইনিংস শুরু করবেন অভিষিক্ত নাজমুল হাসান শান্ত। ৩ বছর পর দলে ফেরা মুমিনুল হক খেলবেন মিডল অর্ডারে। শুরুর আর ফেরার ম্যাচে দুজনেরই বড় চ্যালেঞ্জ এখন আফগান স্পিনারদের সামনে। চ্যালেঞ্জ গোটা বাংলাদেশ দলেরই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান: ৫০ ওভারে ২৫৫/৭ (শাহজাদ ৩৭, ইহসানউল্লাহ ৮, রহমত ১০, শাহিদি ৫৮, আসগর ৮, শেনওয়ারি ১৮, নবি ১০, গুলবদিন ৪২*, রশিদ ৫৭*; রুবেল ১/৩২, আবু হায়দার ২/৫০, মিরাজ ০/২১, মাশরাফি ০/৬৭, সাকিব ৪/৪২, মোসাদ্দেক ০/১৮, মুমিনুল ০/১৫, মাহমুদউল্লাহ ০/৫)।