আহমদ শফীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার দাবি

সুপ্রভাত ডেস্ক

মেয়েদের পড়াতে পাঠাতে মানা করার মাধ্যমে হেফাজত আমির শাহ আহমদ শফী সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন দাবি করে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়েরের দাবি উঠেছে। খবর বিডিনিউজ।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাসের সামনে বিভিন্ন নারী ও শ্রমিক সংগঠনের মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।
জাতীয় গার্হস’্য শ্রমিক ইউনিয়নের মানববন্ধনে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, ‘আজ নারীরা ঘরে বাইরে সমান অবদান রাখছেন। তারা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছেন। ‘কিন’ নারীদের নিয়ে শফী সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সংবিধান পরিপনি’ ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। তার বক্তব্য নারী সমাজ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।’
হেফাজত আমিরকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তা না হলে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান প্রবীণ এই শ্রমিক নেতা।
এই মানববন্ধনে জাতীয় গার্হস’্য শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আমেনা বেগম, সাধারণ সম্পাদক মুরশিদা আক্তার, উপদেষ্টা আবুল হোসাইন ও মোস্তফা আলমগীর রতন।
হেফাজতে ইসলামের আমিরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, আহমদ শফীর বক্তব্যকে আমলে নিচ্ছে না সরকার। গত শুক্রবার হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার ১১৮ তম বার্ষিক মাহফিলে মাদ্রাসার পরিচালক শফীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ-বিক্ষোভ চলছে।
গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনে বলা হয়, সেদিন হেফাজত আমির সমবেতদের ওয়াদা করান যেন চতুর্থ কিংবা পঞ্চম শ্রেণির পর মেয়েদের স্কুলে না পাঠানো হয়।
সমালোচনার মুখে আহমদ শফী বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, তার বক্তব্য ‘খণ্ডিতভাবে’ গণমাধ্যমে এসেছে।
তিনি শিক্ষার বিরোধী নন, তিনি সহশিক্ষার বিরোধী।
হেফাজত আমিরকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে আরেকটি মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শফী শুধু নারীদেরই অপমান করেননি, পুরুষদেরও অসম্মান করেছেন। কারণ সব পুরুষরাই কোনো না কোনো নারীর সন্তান। তাই নারী অসম্মানিত হলে পুরুষরাও অসম্মানিত হয়।
শ্রমিক নেত্রী লাভলী ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন, জায়েদ ইকবাল খান, মুর্শিদা আখতার, শামীমা আক্তার শিরিন, মরিয়ম আক্তার, শান্তনা ইসলাম, খাদিজা বেগম।