খাজা রোডে দুই সহোদর খুনের মামলায় চার্জশিট দাখিল

আসামি ২৩, অভিযুক্ত ১৩

নারাজির প্রস্তুতি বাদির

নিজস্ব প্রতিবেদক

দু’ বছর আগে নগরের বহদ্দারহাট খাজা রোডে সংঘটিত দুই সহোদর খুনের মামলায় আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত বৃহস্পতিবার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ সহকারী পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল আলম।
মামলায় এজাহারভুক্ত ২৩ জন আসামির মধ্যে ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে ১০ জনকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বাদি মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন মহসিনের অভিযোগ, মূল হোতাদের বাদ দিয়ে চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি। এর বিরুদ্ধে আদালতে তিনি নারাজি পিটিশন দাখিল করবেন। মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ মহসিনের।
জানা গেছে, মামলাটি প্রথমে ১৩ মাস তদন্ত করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে সাড়ে ১১ মাস ঘটনাটির তদন্ত করে সিআইডি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি ই-মেইল করে ঘটনার তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ করেন মামলার বাদি।
চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন- স’ানীয় আবদুস সোবহানের ছেলে আইয়ুব খান, আবদুস সাত্তার ও মোহাম্মদ ইদ্রিস, আবদুস ছালামের ছেলে মাহাবুবুল আলম ওরফে মাহবুব, জমির উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ মুছা ও মোহাম্মদ নাছির, বশির আহমদের ছেলে জিয়াউর রহমান, কালা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ লোকমান, বজল আহমদের ছেলে মোহাম্মদ শফি, লিয়াকত আলীর ছেলে আশরাফ আলী ওরফে বাচ্চু, জমির উদ্দিনের ছেলে কামাল উদ্দিন এবং মাওলানা খাইরুল আমিনের ছেলে মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন।
তবে অভিযুক্তদের মধ্যে মোহাম্মদ নাছির, লোকমান, মোহাম্মদ শফি ও মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন মামলার বাদি মহসিন।
চার্জশিট থেকে যাদের বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, তারা হলেন- আবদুস সোবহানের ছেলে আজম খান ও আবদুল মাবুদ, হাজি জানে আলম সওদাগরের ছেলে মোহাম্মদ মোরশেদ, মোহাম্মদ ফোরকান, মোহাম্মদ নুরুর ছফা ও মোহাম্মদ নুরুন্নবী, মোহাম্মদ ফোরকানের ছেলে মোহাম্মদ ফরহাদুল আলম ও মোহাম্মদ মিরাজ, বাদশা মিয়া কন্ট্রাক্টরের ছেলে নুরুল হক মানিক ও হোসেন কন্ট্রাক্টরের ছেলে বেলাল।
এর মধ্যে আবদুল মাবুদ, মোহাম্মদ ফরহাদুল আলম ও মোহাম্মদ মিরাজকে নিরপরাধ বললেও অন্যরা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি মহসিনের। চার্জশিট সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ১৩ জনের মধ্যে জিয়াউর রহমান, লোকমান ও মোহাম্মদ শফিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
২০১৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে বহদ্দারহাট খাজা রোড এলাকায় এক আত্মীয়র জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই সহোদর আবু বক্কর সিদ্দিক ও মোহাম্মদ ফরিদুল আলম অংশ নেন। জানাজায় যাওয়ার কথা ছিল মামলার বাদি মুহাম্মদ মঈন উদ্দিন মহসিনেরও। কিন’ তিনি সেখানে যাননি।
জানাজা শেষে বাসায় ফেরার পথে আবুকে একা পেয়ে রাত পৌনে ১১টার দিকে আসামিরা ‘ধর ধর’ বলে চিৎকার শুরু করে। তারা আবুকে ঘিরে ফেলে উপর্যুপরি পেটাতে থাকে। খবর পেয়ে ফরিদ ছুটে আসেন ভাইকে বাঁচাতে। তারও একই পরিণতি করে হামলাকারীরা। খুন হন দুই ভাই।
কাঠ ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের একদিন পর ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতদের বড়ভাই মহসিন। এতে স’ানীয় আইয়ুবকে প্রধান আসামি করে ২০ জনকে এজাহারভুক্ত করা হয়। ২০ জন আসামির সাথে আরো ৯ জনকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আদালতের কাছে একটি আবেদন করেন বাদি। আদালত এ আবেদনও গ্রহণ করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন