অনিক হত্যা মামলা

আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের গড়িমসি?

মোহাম্মদ রফিক

নগরের চকবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতার সনত্মান আবু জাফর অনিক খুনের ঘটনায় একজন আসামিকেও গত পাঁচ দিনে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ নিয়ে চরম ড়্গোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অনিকের বাবা নাছির উদ্দিন।
চকবাজার থানার ওসি আবুল কালামের দাবি, অনিক হত্যায় জড়িত আসামিদের ধরতে পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই। মামলার প্রধান আসামি দামপাড়া এলাকার যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসী মহিউদ্দিন তুষারসহ ১২ জনের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। তাদের ধরতে সম্ভাব্য সব জায়গায় সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযান চলছে। আসামিরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারে সেজন্য বিমানবন্দর ও সীমানত্ম এলাকার চেকপোস্টে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মামলার অন্যতম আসামি অনিককে ছুরিকাঘাতকারী দুই সহোদর মিন্টু দাশ ও রকি দাশের গ্রামের বাড়ি চকরিয়ায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এসময় তাদের না পেয়ে তাদের দুলাভাই প্রণব দে ও বিশ্বজিৎ নামে এক বন্ধুকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে পুলিশ। তাদের আটকের খবরটি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে বিসত্মারিত জানাতে পারেননি মামলার তদনত্ম কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই সাগর ভদ্র।
নিহত অনিকের ঘনিষ্ট সূত্রের দাবি, হত্যাকা-ের পর মামলার প্রধান আসামি মহিউদ্দিন তুষার, ইমনসহ কয়েকজন বায়েজিদ বোসত্মামি চন্দ্রনগর এলাকায় আত্মগোপনে আছেন। হত্যাকা-ের পর গভীর রাতে চন্দ্রনগর এলাকায় আশ্রয় নেয় আসামিরা। সেখানে পুলিশের তালিকাভুক্ত এক সন্ত্রাসীর বাসায় রয়েছে তারা।
চকবাজার থানার ওসি আবুল কালাম জানান, চন্দ্রনগরে আত্মগোপন করার খবর পেয়ে পুলিশ বুধবার রাতে অভিযান চালিয়েছে। কিন’ আসামিদের পাওয়া যায়নি। তারা বার বার স’ান পরিবর্তন করছে। প্রত্যড়্গদর্শী সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবার দিবাগত রাতে নগরের ব্যাটারিগলিতে মামলার প্রধান আসামি যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসী মহিউদ্দিন তুষারের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর পর রাতে সপরিবারে গ্রামের বাড়ি চকরিয়ায় পালিয়েছে মামলার অন্যতম আসামি মিন্টু দাশ ও তার ভাই রকি দাশ।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের কেন্দ্রীয় বিশেষ প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট আমিনুল হক বাবু বলেন, ‘পুলিশ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতারের নজির আমাদের কাছে আছে। পুলিশ আনত্মরিক হলে সবই সম্ভব। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের গড়িমসি মেনে নেওয়া যায় না।’
গতকাল সকালে দামপাড়া পল্টন রোডের বাসায় গেলে ছেলের কথা জিজ্ঞেস করতেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন অনিকের মা আক্তার বেগম। তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালের ১৯ আগস্ট আমার ছেলে অনিক ভালোবেসে রম্ননা আক্তার অরিনকে বিয়ে করেছে। দুই পরিবার জানার পর একমত হয়েছিলাম আনুষ্ঠানিকভাবে ছেলের বউকে ঘরে তুলে আনব। তবে তার আগেই আমার বুকের ধনকে কেড়ে নিল খুনিরা।’
অনিকের বাবা চকবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য নাছির উদ্দিন বলেন, ‘অনিক নিজে পছন্দ করে বিয়ে করেছে। এটা জানার পর তাতে কেউ অমত পোষণ করেনি। ওর চাচা জাপান থেকে দেশে ফেরার পর এক মাসের মধ্যেই প্রথমে চাচাকে বিয়ে করানোর কথা ছিল। এর পরই অনিকের বউকে ঘরে তুলে নেয়ার সিদ্ধানত্ম ছিল। খুনিরা আমার সব শেষ করে দিয়েছে।’
১৮ জুন রোববার রাত নয়টার দিকে চট্টেশ্বরী মোড়ে স’ানীয় যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসী মহিউদ্দিন তুষারের নেতৃত্বে ১০-১২ জন অনিকের উপর হামলা চালায়। এসময় তুষার, মিন্টু দাশ ও ইমন অনিককে ছুরিকাঘাত করে এবং পরে অনিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অনিকের বাবা মো. নাছির উদ্দিন চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এতে মহিউদ্দিন তুষার, মিন্টু দাশ, কিশোর গ্যাংয়ের ইমনসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- যুবলীগ ক্যাডার ইমরান শাওন (২৬), শোভন (২৪), রকি দাশ (২২), অপরাজিত (২২), অভি (২১), বাছা (২২), এখলাস (২২), দুর্জয় (২১) ও অজয় (২১)।
অনিকের পরিবারের অভিযোগ, নিহত অনিককে নগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার অনুসারীরা মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী বানানোর চক্রানত্ম করছে। চক্রটি ফেসবুকে অনিক ও
তার পরিবারের বিরম্নদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। পাশাপাশি আসামিদের না ধরতে পরোড়্গভাবে পুলিশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।
তবে চকবাজার থানার ওসি আবুল কালাম বলেছেন, ‘আসামি না ধরার জন্য প্রভাবশালী কোনো মহলের চাপ নেই বরং আসামি ধরার জন্য পুলিশের উপর চাপ আছে।’

সিএমপির সহকারী কমিশনার (চকবাজার জোন) নোবেল চাকমা বলেন, ‘আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামি গ্রেফতার হবেই, পার পাওয়ার অবকাশ নেই।’