চট্টগ্রাম ৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী)

আসন নানা হিসাব-নিকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনের সংসদ সদস্য মঈনুদ্দীন খান বাদল কোন দলের প্রার্থী হয়ে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন তা নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে মঈনুদ্দীন খান বাদলের নেতৃত্বাধীন জাসদ (একাংশ) নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন লাভে ব্যর্থ হওয়ায় এ পরিসি’তির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গত ৯ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, ‘অনিবন্ধিতরা নিবন্ধিত দলের সঙ্গে জোট করতে পারবে না। কিন’ নিবন্ধিত দল চাইলে অনিবন্ধিত দলের সদস্যদের তাদের প্রতীকে প্রার্থী দিতে পারবে।’ ফলে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত না পাওয়ায় মঈনুদ্দীন খান বাদল জাসদ (একাংশ) থেকে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারছেন না। এ অবস’ায় অন্য কোন দলের সাথে মোর্চা করারও সুযোগ নেই তার। সংশিস্নষ্টদের মতে, বাদলকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হবে অথবা নির্বাচন কমিশনের রেজিস্ট্রেশন আছে এমন কোন রাজনৈতিক দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। বিদ্যমান অবস’ায় বাদল কী করবেন তা নিয়ে বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসনের ভোটারদের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে নানা আলোচনা।
নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন জানান, জাসদের রেজিস্ট্রেশন এবং প্রতীক মশাল পেয়েছেন হাসানুল হক ইনু। ইনুকে মশাল প্রতীক দেয়ার ব্যাপারে মঈনুদ্দীন খান বাদল একবার আপত্তি জানালেও পরবর্তীতে তিনি আর কমিশনে যাননি।’
এ বিষয়ে মঈনুদ্দীন খান বাদল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের আইন হচ্ছে জোটের অনিবন্ধিত দলগুলো জোটের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আমি ১৪ দলের শরিক দলের নেতা হিসেবে ১৪ দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবো। ১৪ দলের প্রতীক হচ্ছে নৌকা।’ এ নিয়ে বিভ্রানিত্মর কোনো সুযোগ নেই বলে উলেস্নখ করে মঈনুদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘১৪ দলীয় জোটের যে ৫-৭টি দল অনিবদ্ধিত সেগুলো জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করতে পারবে। এতে নির্বাচন কমিশনের আইনে কোন সমস্যা হবে না।’
জানা গেছে, মঈনুদ্দিন খান বাদল দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিকভাবে অসুস’। শেষ পর্যনত্ম বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে এলেও ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো আর্থিক, শারীরিক ও সাংগঠনিক শক্তি সামর্থ্যের প্রয়োজন হবে এ আসনটির জন্য।
ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে এমন আলোচনাও রয়েছে যে, আওয়ামী লীগের শক্তশালী ও সামর্থ্যবান কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হলে এ আসনটি জোটের প্রার্থীর পড়্গে জিতিয়ে আনা অনেকটা সহজ হবে। তবে এমন মত আছে, জোট টিকিয়ে রাখতে হলে এ আসনে বাদলের কোনো বিকল্প নেই। কিন’ শারীরিক ও আর্থিকভাবে তিনি কতটা মানিয়ে নিতে পারবেন, সেটিও কারো কারো প্রশ্ন রয়েছে। কারণ ড়্গমতার রাজনীতিতে আসন জয়ই মূল কথা।
জানা গেছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে এমপি হয়েছিলেন মইনুদ্দিন খান বাদল। ঝানু রাজনীতিবিদ ছাড়াও তুখোড় বক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে তার। এ প্রসঙ্গে মাঈনুদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘আমার শরীর আগের চেয়ে অনেক ভালো। আমি হাঁটতে পারি।’ প্রতীক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা কোনো সমস্যা বা সংকট নয়। ১৪ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যদি এককভাবে নির্বাচন করে তাহলে আমি এ এলাকায় প্রার্থী হবো না। কিন’ জোট হিসেবে নির্বাচন করলে আমি নির্বাচনে অবশ্যই প্রার্থী হবো। এ কথা আমি এক বছর আগেই বলে দিয়েছি। আর আওয়ামী লীগের কে বা কারা প্রার্থী হবে সেটি আমার ভাবার বিষয় নয়।’
এদিকে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপড়্গের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ও শিল্পপতি আবদুচ ছালাম। ছয় মেয়াদে ১০ বছর ধরে তিনি সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদে নিয়োগ পান। আগামী এপ্রিলে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। তার গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসনের মোহরা এলাকায়। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বোয়ালখালী-চান্দগাঁও ও কোতোয়ালি আসনে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি। মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা যে আসনে মনোনয়ন দিবেন সেই আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য আমি এবং দলের নেতাকর্মীরা সম্পূর্ণ প্রস’ত।’
গত দুই সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি জোটের প্রার্থী করা হয়েছে মঈন উদ্দিন খান বাদলকে। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে আসনটি ছিল বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খানের। ভোটের রাজনীতিতে মোর্শেদ খানের আলাদা ক্যারিশমা রয়েছে। যদিও তিনি এলাকায় খুব একটা অবস’ান করেন না। তাছাড়া তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস’ বলে জানান। তবে মোর্শেদ খান বলেছেন, ‘বোয়ালখালী আসনে আমি এবারও নির্বাচন করবো। দল থেকে নির্বাচন করার জন্য বলাও হয়েছে।