আসন্ন রমজান স্বাভাবিক থাকতে পারে ছোলার দাম

মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

রমজানকে সামনে রেখে চলতি বছর আমদানিকারকরা প্রচুর পরিমাণে ছোলা আমদানি করেছেন। তাই আসন্ন রমজানে ছোলার দাম স্বাভাবিক থাকতে পারে বলে ক্রেতাদের আশাবাদ। তবে রমজানের আরেক অন্যতম অনুষঙ্গ চিনি ও খেজুরের দাম নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানালেন সংশ্লিষ্টরা।
গত কয়েকদিন ধরে দেশের ভোগ্য পণ্যের অন্যতম বৃহৎ বাজার খাতুনগঞ্জে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের ৫০টিরও অধিক শাখা থাকা ব্যাংক পাড়ায় ঘুরে ও তাদের এলসি শাখার হিসেবে দেখা যায়, এ বছর রমজান উপলক্ষে আমদানিকারকরা ছোলার যত এলসি খুলেছে তা বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এই ব্যাংক পাড়ায় কথা হয় ইসলামি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক এবং ইউসিবি ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে। এছাড়া কথা হয় রমজানের ভোগ্যপণ্য আমদানির অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান বিএসএম গ্রুপের শীর্ষস’ানীয় একাধিক ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গেল কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর খেজুরের এলসির পরিমাণ কম। এর কারণ হিসেবে বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সমূহের আগে থেকে খেজুর মজুদ করণ। চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী। গরম এবং রমজান আসতে আসতে চিনির বাজার আরও গরম হয়ে উঠতে পারে।
ব্যাংক সমূহের এলসি বিভাগের হিসেব থেকে দেখা যায়, জানুয়ারির শেষভাগ থেকে এখন পর্যন্ত ছোলার এলসি অতীত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এ ব্যাপারে ইসলামি ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ করপোরেট শাখার প্রথম অ্যাসিস্টেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. এহসানুল ইসলাম সুপ্রভাতকে বলেন, বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ছোলার এলসির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। তাই কোনরকমের অস্বাভাবিক পরিসি’তি না ঘটলে এ বছর ছোলার দাম স্বাভাবিক থাকবে।
আইএফআইসি ব্যাংকের একজন ব্যবস’াপক সুপ্রভাতকে জানান, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ সময়ের মধ্যে এই ব্যাংকে শুধু ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০টি।
বিএসএম গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার মো. আবুল কাশেম সুপ্রভাতকে বলেন, এ বছর ছোলার সরবরাহ যথেষ্ট ভালই আছে। আমরা দুইমাস আগে থেকে ছোলার এলসি খুলে এরই মধ্যে বেশির ভাগ ছোলা দেশে এনে পাইকারি বিক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দিয়েছি।
খাতুনগঞ্জের আরও কয়েকজন আমদানিকারকের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেশের আমদানিকৃত বেশির ভাগ ছোলাই আসে অস্ট্রেলিয়া থেকে। আর খুব অল্প পরিমাণে আসে মিয়ানমার থেকে। অস্ট্রেলিয়ায় এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত কারণে ছোলার ফলন কিছুটা খারাপ হয়। ফলে এ বছরের অস্ট্রেলিয়ান ছোলার মধ্যে কিছু কিছু ছোলা কালচে দেখতে যা মানের দিক থেকে নিচু এবং দামেও কম। তবে লালচে ও সাদাটে দেখতে ছোলাগুলো ভাল মানের।
উল্লেখ্য বিদেশ থেকে পণ্য কেনার লেনদেন যেহেতু ব্যাংকের মাধ্যমে হয় এজন্য ব্যাংকে খুলতে হয় এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) যা বাংলায় ‘সঞ্চয়পত্র’ নামে পরিচিত।