আসছে কোরবানির ঈদ : আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে

প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশজুড়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে ছিনতাইচক্রের সদস্যরা। এ সময় ছিনতাই, রাহাজানি, গাড়ি চুরির মতো ঘটনা বৃদ্ধি পায়। মলমপার্টির দৌরাত্ম বাড়ে। গরু ব্যবসায়ীদের অজ্ঞান করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও বৃদ্ধি পায়। এ ধরনেয় ঘটনার মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়।
তাছাড়া কোরবানির ঈদে পশুর হাট নিয়েও ঝামেলা কম হয় না। অনেক স্থানে অবৈধভাবে পশুর হাট বসানো হয়। অনেক স্থানে নির্ধারিত এলাকার বাইরে যেমন, সড়ক, মহাসড়ক, স্কুল, কলেজ ও খেলার মাঠ দখল করেও পশুর হাট বসানো হয়। ফলে ওসব এলাকায় পরিবেশ দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
সাধারণত ইজারা পদ্ধতিতে পশুর হাট অনুমোদন দেওয়া হয়। যেখানে কর্তৃপক্ষ কিছু শর্তও আরোপ করে থাকেন। কিন্তু অধিকাংশ সময় ইজারাদাররা এসব শর্ত মানেন না। যার কারণে নানা প্রকার জটিলতাও তৈরি হয়। কোরবানির ঈদ আসতে তিন সপ্তাহের মতো বাকি আছে। কর্তৃপক্ষ এখন থেকে সচেতন ও আন্তরিক হলে প্রতিবার যে সমস্যাগুলো তৈরি হয় তা কিছুটা কমতো।
ইজারাদাররা হাটের পরিবেশ ঠিক রাখবে কি না, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করবে কিনা তা আগে থেকে নিশ্চিতকরণে উদ্যোগ নিতে হবে। কোরবানের পশু কেনা-বেচায় কয়েক হাজার কোটি টাকা নগদ লেনদেন হয়ে থাকে। আর এই সুযোগটা কাজে লাগায় নকল টাকা উৎপাদনকারীরা। এই সময়েই বাজারে বেশি নকল টাকার লেনদেন হয় বলে অনেকে মনে করেন।
নগদ টাকা পরিবহন করতে গিয়ে প্রায় সময় বিক্রেতা ও ক্রেতাদের ছিনতাইয়ের মতো ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়েও অনেক ব্যবসায়ীর টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব বিষয় নজরদারি করার আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। মহাসড়কে চলাচলকারী পশুবাহী গাড়ির নিরাপত্তা বিধানে কঠোর হতে হবে তাদের। ব্যবসায়ীরা যেন নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে আর ক্রেতারা যেন নিরাপদে তাদের পছন্দের পশু কিনে বাড়ি ফিরতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।
কোরবানির পশু জবাই করার ক্ষেত্রে দু’বছর থেকে সরকার কিছু কিছু নিয়মের প্রবর্তন করেছে। যে নিয়মগুলো পালনে আগে থেকে কঠোর হলে নাগরিকরা তা মানতে বাধ্য হবে। একটি আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় পশু জবাই ও তার বর্জ্য অপসারণে আধুনিক পদ্ধতি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মোট কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে স্ব স্ব কর্তব্য নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে এখন থেকে উদ্যোগ নিলে তার সুফল পাওয়া যেত বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকগণ।