আসকার দীঘি ময়লা আবর্জনা ও সুয়্যারেজের ভাগার

Untitled-1

আসকার দীঘি নগরীর অন্যতম দর্শনীয় দীঘি। কিন্তু বাহির থেকে তা একনজর দেখার কোনো সুযোগ নেই। চারদিকে বিভিন্ন স্থাপনায় ঘেরা নগরীর অন্যতম দীঘিটি। গত কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণীবিদ্যা বিভাগের এক ছাত্রী আসকার দীঘির পানির গুনগত মান পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করতে যান। পানির নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি বিড়ম্বনায় পড়েন দীঘির পানি পর্যন্ত পৌঁছাতে না পেড়ে। দীঘির পশ্চিম পাড়ে একটি সান বাধানো ঘাট থাকলেও ঘাট ও দীঘির পানির মধ্যবর্তী জায়গায় এতো ময়লা ও আবর্জনা রাখা হয়েছে যে, পানি পর্যন্ত যাওয়ার কোনো উপায় নেই। পুরো দীঘির পাড় দুর্গন্ধময়। পরবর্তীতে পুরো পশ্চিমপাড়ের কোনো অংশ দিয়ে আর দীঘিতে প্রবেশের জায়গা না পেয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের একটি গেইট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান বিশাল এক বস্তি এলাকা। বস্তির ভেতর দিয়ে দীঘির কাছে গিয়ে দেখতে পান ময়লা আবর্জনার ভাগারের মধ্যেই বস্তিবাসী তাদের নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র ধৌত করছে।
দীঘিটি সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, একসময় দীঘির পাড়ে বসতি থাকলেও বর্তমানে দীঘির দক্ষিণ অংশ অনেকখানি ভরাট করে ঘর তৈরি করা হয়েছে। একই চিত্র রয়েছে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব কোণে। আর দীঘির ভেতরের এসব বস্তি এবং দীঘির পাড়ের সব ভবনের সুয়্যারেজ লাইনের আউটলেট রাখা হয়েছে দীঘির ভেতরের অংশে। এতে দিন দিন দূষিত হচ্ছে দীঘির পানি। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে সাম্প্রতিক এক তথ্যে জানা যায়, আসকার দীঘির প্রতিলিটার পানিতে ৫ মিলিগ্রামের উপরে ডিও থাকার কথা থাকলেও এখানে রয়েছে ৪.২।
এছাড়া প্রতিলিটার পানিতে ৩ মিলিগ্রামের নিচে বিওডি থাকার কথা থাকলেও এখানে রয়েছে ৫। এ দীঘির অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রতি লিটার পানিতে শূন্য দশমিক ৫ মিলিগ্রাম নাইট্রোজেন থাকার কথা থাকলেও এখানে পাওয়া গেছে ১০ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম। আর এই নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি থাকায় ধারণা করা হচ্ছে এ দীঘিতে অসংখ্য সুয়্যারেজ লাইন রয়েছে। বর্তমানে জামাল খান ওয়ার্ডকে নান্দনিক ওয়ার্ডে রূপ দিতে কাজ করছে ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন। আসকার দীঘি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আসকার দীঘিরর পাড় ঘেঁষে ওয়াকওয়ে, দীঘির মধ্যে ওয়াটারপুলসহ নান্দনিক অনেক কিছু যুক্ত করা হবে। ব্যক্তিমালিকানাধীন এই দীঘিটি সুন্দর করা একটু সময় সাপেক্ষ, তবে তা করা হবে।’