প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

আলীকদমে ইটভাটা মালিকদের রামরাজত্ব

হাসান মাহমুদ, আলীকদম

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ইট প্রস’ত ও ভাটা স’াপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন না মেনেই ইট তৈরি করছে তিনটি ভাটায়। নিরব দর্শকের ভূমিকায় প্রশাসন। একদিকে ভাটার পার্শ্ববর্তী এলাকার পাহাড় কেটে মাটি নেয়া হচ্ছে এসব ভাটায়। যার কারণে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, পাহাড় ধ্বস হচ্ছে, প্রকৃতি পড়ছে বিপর্যয়ের মুখে। অপরদিকে ভূমির টপ সয়েল ব্যবহার করায় উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাহত হচ্ছে।
ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে পাহাড় থেকে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে গাছ। ফলে পরিবেশ ভারসাম্য হারাচ্ছে। বৃক্ষশুন্য হয়ে পড়ছে পাহাড়গুলো। পাহাড়ে বন্য পশু পাখির বালাই নেই বললেই চলে। এর সবই ঘটছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। একসময় আলীকদম-থানচি সড়কের দুইধারে নানা গাছপালা ছিল। এখন এ ৩৩ কিলোমিটার সড়কের দুপাশে চোখে পড়ে শুধু ন্যাড়া পাহাড়। এছাড়া পাহাড় থেকে গাছ কেটে পোড়ানো হচ্ছে এসব ইট ভাটায়। ইতিপূর্বে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হলেও প্রশাসন এসবের কোন ব্যবস’া গ্রহণ করেনি বলে স’ানীয়রা জানায়।
সম্প্রতি ফাতেমা ব্রিক্স ম্যানুফেকচারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভাটা এবং ভাটার আশেপাশের এলাকায় হাজার হাজার মণ কাঠ মজুদ করা রয়েছে। একইভাবে ইউবিএম এবং এবিএম নামে আরও দুটি ইটভাটায় গিয়েও একই দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। এসব ভাটার মধ্যে উপজেলার ১নম্বর সদর ইউনিয়নে অবসি’ত দুটি ভাটাই ড্রামশিটের চিমনি দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে আশেপাশের এলাকায় বায়ুদুষণ মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে গেছে। এসব ইটভাটায় লাকড়ি পরিবহনের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো সারা বছরই ক্ষতবিক্ষত থাকে। ভারি যানবাহন চলাচলের ফলে রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট ভেঙে জনসাধারণের চলাচলে দুর্ভোগ চরমে ওঠে। একাধিক ভাটা মালিকের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তারা কৌশলে প্রসংগ এড়িয়ে যান।
ইট প্রস’ত ও ভাটা স’াপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ৬ ধারায় উল্লেখ আছে, কোনো ব্যক্তি ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কোনো জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করতে পারবে না। এ আইন অমান্য করলে অনধিক তিন বছর কারাদন্ড বা অনধিক তিন লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। এবিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজিমুল হায়দার বলেন,আলীকদমে কোনো ইটভাটার লাইসেন্স নেই। আমরা বিভিন্ন সমস্যার কারণে কোন ব্যবস’া নিতে পারিনি। তবে শীঘ্রই আমরা ব্যবস’া নেব।