সেন্ট প্লাসিড্স স্কুল

আলমারি চাপায় শিশুর মৃত্যু!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিহত জয়দীপ
নিহত জয়দীপ

সময় তখন বেলা দেড়টা। স্কুলে ছুটির ঘণ্টা বাজলো। লাইব্রেরিতে বসে গল্পের বই পাগল ছেলেটি তখনো পড়ায় মগ্ন। হঠাৎ করে শুনতে পেল সহপাঠীদের হৈ-হুল্লোড়। তাই কিছুটা তাড়াহুড়ো করে বেরুতে চেয়েছিল সে। কিন’ কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই লাইব্রেরির আলমারির নিচে পিষ্ট হতে হলো তাকে। পৃথিবী থেকেই চিরতরে ছুটি নিয়ে নিলো পঞ্চম শ্রেণিতে পড়-য়া কচি এই ছাত্রটি।
জয়দীপ দত্ত। সেন্ট প্লাসিড্স স্কুলে নার্সারি থেকে তার হাতেখড়ি। বাবা দেবাশীষ দত্ত ও মা মিন্টু দাশ, দুজনই শিক্ষকতায় জড়িত। জয়দীপের মা মিন্টু দাশ দু’বছর আগে সেন্ট প্লাসিড্স স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেছিলেন। ভেবেছিলেন, ছেলের সঠিক যত্ন নিতে পারবেন। কিন’ কে জানতো, এই স্কুলের লাইব্রেরিতেই প্রাণ দিতে হবে তাদের কলিজার টুকরা ছেলেটাকে!
লাইব্রেরির এক কোণে মাথা নিচু করে এক মনে বই পড়ছিল জয়দীপ। ছুটির ঘণ্টা শুনে সহপাঠিদের সাথে বের হয়ে যাবে বলে প্রস’তি নিচ্ছিল। বন্ধুদের হৈ-হল্লার কারণেই হবে হয়ত, ধাক্কা লাগায় পুরো বুকসেল্ফটি উল্টে পড়ে যায় জয়দীপের গায়ে। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগে ছেলেটার। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারায় সে। স্কুল কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায় তাকে। কিন’ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জয়দীপের বাবা-মায়ের আহাজারি থামানোর সুযোগ পেলেন না আর। মৃত ঘোষণা করলেন জয়দীপকে।
এ ব্যাপারে সেন্ট প্লাসিড্স স্কুলের অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে উপাধ্যক্ষ জানান, ‘অধ্যক্ষ বর্তমানে ঢাকায় অবস’ান করছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘ছুটির ঘণ্টা বাজলেই সব বাচ্চারা একসাথে বের হতে চায়। ফলে ছেলেদের দস্যিপনার কারণেই হয়ত অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’