আরাকান সড়ক সংস্কারকাজ পরিদর্শন শেষে মেয়র

আর্থিক সীমাবদ্ধতায় পরিকল্পিত নগর গড়তে পারছি না

নিজস্ব প্রতিবেদক
CCC_Mayor-visit_Bohaddarhat

‘আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিকল্পিত নগর গড়ে তুলতে পারছি না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যেটুকু সময় আমার বাকি আছে, তার মধ্যে সরকারের সহায়তা নিয়ে চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারব, ইনশাআল্লাহ।’
গতকাল বুধবার দুপুরে বহদ্দারহাট থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত আরাকান সড়ক সংস্কারকাজ পরিদর্শন শেষে কালুরঘাট তৈয়ব নূর স্মৃতি যাত্রীছাউনি চত্বরে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এসব কথা বলেন। এসময় সেখানে উপসি’ত ছিলেন স’ানীয় সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদল।
মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও প্রকল্প গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। কিছু প্রকল্প অনুমোদনও হয়েছে। আরো কিছু প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।’
গৃহকর প্রশ্নে মেয়র বলেন, ‘গৃহকর নিয়ে যেভাবে কথাবার্তা হচ্ছে, তা এভাবে বলার প্রয়োজন ছিল না। আমরা একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি। বিগত দিনেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। এটি প্রাথমিক ধাপ। ১৯৮৬ সালের করবিধির ১৯, ২০, ২১ ধারা অনুসরণ করেই আমরা কর অ্যাসেসমেন্ট করেছি। আমি যেহেতু জনপ্রতিনিধি, জনগণের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকার আছে। যতটুকু সহনীয় পর্যায়ে কর নির্ধারণ করা যায়, করব। করদাতার উপসি’তিতে আপিল নিষ্পত্তি করব।’
সাবেক মেয়রের আমলের ১৩ হাজার আপিল নিষ্পত্তি করা হয়েছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘কোনো অসন্তোষ নেই। আপিলের সময় এক মাস বাড়িয়েছি। এর মধ্যে আপিল করতে হবে। যাদের কর দেওয়ার সামর্থ্য নেই, তারা করের আওতামুক্ত থাকবে। কর দিতে অক্ষম ব্যক্তির পক্ষে কাউন্সিলর সার্টিফাই করলে বিগত দিনে যে কর দিতেন, তাও মাফ করে দেব। কর নিয়ে কোনো অনিয়ম হলে, দুর্নীতি
হলে আপিল করতে পারেন। এ নগরটা তো আমাদেরই। আমি কোনো অনিয়ম করার পক্ষপাতি নই।’
স’ানীয় সংসদ সদস্য মঈনুদ্দিন খান বাদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘আরাকান সড়ক বেহাল অবস’ায় ছিল। জনগণ কষ্ট পেয়েছে। এ কারণে আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
সংসদ সদস্য মাঈন উদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘আমি প্রথমে বলেছিলাম. এ রাস্তাটির বাপ কে? আজ আমি বাপকে খুঁজে পেয়েছি। ফাদার ইজ হিয়ার। ফাদার অফ দ্য রোড।’
সংসদ সদস্য বাদল বলেন, ‘মেয়র কথা দিয়েছিলেন, বাদল ভাই, বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর আমি ঝাঁপিয়ে পড়ব। তিনি কথা রেখেছেন। আরাকান সড়কের একপাশের কাজ হয়ে গেছে। দ্রুততার সাথে অন্য পাশ হচ্ছে। বর্তমান সরকার এভাবেই কাজটাকে এগিয়ে নিতে চায়।’
সড়ক ব্যবহারকারীদের উদ্দেশে সংসদ সদস্য বাদল বলেন, ‘রোড প্রতিদিন মেরামত করা যায় না। তাই রোডের প্রতি যত্নবান হতে হবে। কালুরঘাট সেতুতে ওঠার ব্যাপারে প্রচণ্ড সমস্যা হয়। একটা লেন খোলা হচ্ছে সড়কের। ওই লেনের ওপর গাড়ি পার্ক করা যাবে না। এখানে মেয়রের মাধ্যমে ডিসি ট্রাফিককে বলছি, তিন কাউন্সিলর, ১৪ দলের নেতাদের সংযুক্ত করে রাস্তাটাকে মানুষের জন্য সচল রাখেন।’
সংসদ সদস্য বাদল আরো বলেন, ‘সংসদে বলেছিলাম, দেশের চারটি অঙ্গ আছে। আইন সভা, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং চার নম্বরটি হলো সক্রিয় সংবাদ জগত। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে আমরা অন্তর থেকে বিশ্বাস করি।’