সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিমান হামলা

আরো মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা

সম্পদকীয়

সিরিয়ার দৌমায় রাসায়নিক হামলার অভিযোগ তুলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর বিমান হামলার নির্দেশ দিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনী সিরিয়ার সামরিক ও বেসামরিক স’াপনার ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যবাহিনীর সাথে যোগ দিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। সিরিয়ার ওপর বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদে নিন্দা প্রস্তাব আনলে তা বাতিল হয়ে যায়। জাতিসংঘ মহাসচিব সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহবান জানিয়েছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অভিযোগ, সিরিয়া দৌমায় রাসায়নিক হামলা করেছে। এই হামলায় শিশুসহ ৮৫ জন নিহত হওযার খবর দিয়েছে বিবিসি। সিরিয়া ও রাশিয়া রাসায়নিক হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এদিকে জাতিসংঘ রাসায়নিক হামলার ব্যাপারে তদন্ত অনুসন্ধানের কথা বলেছে তবে যুক্তরাষ্ট্র তদন্তের জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই সমাধানের অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে। ট্রাম্প এর প্রস’তি আগে থেকেই নিতে শুরু করেছেন। অবশ্য রাশিয়া ও আমেরিকা এবং তার মিত্ররাষ্ট্রগুলি এক প্রকার কূটনৈতিক যুদ্ধে আগেই জড়িয়ে পড়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের হামলা পূর্ববর্তী স্নায়ুযুদ্ধ ও সংশ্লিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ খাড়া করা নতুন কিছু নয়। ইরাকের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র আছে এই অভিযোগ তুলে ইরাক দখল ও সাদ্দামকে ফাঁসি দেয়ার মাধ্যমে তার দৃষ্টান্ত মেলে।
লিবিয়ার গাদ্দাফীকেও তাদের হাতে একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছে। সিরিয়ার আসাদের বিরুদ্ধেও তাদের অনুরূপ অভিযোগ। দেশটি এমনিতেই গৃহযুদ্ধ ও বৃহৎশক্তিগুলির সশস্ত্র হস্তক্ষেপের কারণে ক্ষতবিক্ষত। দেশটির এক চতুর্থাংশ নাগরিক বাস্তুচ্যুত অথবা স’ানান্তরে বাধ্য হয়েছে। সিরিয়ায় বিদ্রোহীরা যখন শক্তিহীন এবং আইএস পাততাড়ি গুটাতে বাধ্য হয়েছে তখনই যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা কল্পিত অভিযোগ তুলে সিরিয়ার ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে পুনরায় রাসায়নিক হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব সিরীয় জনগণকে আরো দুর্ভোগে না ফেলতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশংকা করছেন আর একটি বিশ্বযুদ্ধের।
মধ্যপ্রাচ্যে দশকের পর দশক যুদ্ধ-সংঘাত চলেছে এবং দেশগুলি নিজেরাই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-সংঘাতে লিপ্ত। এখন সৌদি আরব-ইরান স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। ইউরোপ-আমেরিকার বড় শক্তিগুলি ইরানকে শিক্ষা দিতে নতুন চক্রান্ত আঁটছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এ ধরনের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার অবসান হওয়া উচিত। দেশগুলির লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস’চ্যুত, গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইয়েমেনের লক্ষ লক্ষ নারী শিশু মানবিক বিপর্যয়ের অপেক্ষায়। আমরা চাই, বৃহৎ শক্তিগুলি মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্নায়ু কূটনীতি ও যুদ্ধবাজ রাজনীতি থেকে সরে এসে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির সরকার, রাজনৈতিক দল ও সচেতন নাগরিক সমাজের উচিত হবে নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধানে উদ্যোগী হওয়া।
আমরা দৌমায় রাসায়নিক হামলার বিষয়ে জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত অনুষ্ঠানের দাবি জানাই। বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা কোনো মতেই সমর্থনযোগ্য নয়। সকল পক্ষের উচিত জেনেভা কনভেনশান মেনে চলা এবং যুদ্ধ পরিহার করে শান্তির অন্বেষায় পথ খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত রাখা, যাতে বিশ্বশান্তি ও বিশ্ব সভ্যতা নিরাপদ হয়।