আম বয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু

সুপ্রভাত ডেস্ক

শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। বয়ান করেছেন জর্ডানের খতিব মাওলানা শেখ ওমর। তার বয়ান তর্জমা করেছেন কাকরাইল মসজিদের মুকিম মাওলানা মো. আবদুল মতিন। তীব্র শীত উপেক্ষা করে মুসল্লিরা জিকির-আজগার ও ইবাদত-বন্দেগিতে শরিক হয়েছেন। খবর বাংলাট্রিবিউন।
ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা ইজতেমা ময়দান। তিন দিনের এ ইজতেমা ১৪ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এর চারদিন পর ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব, যা শেষ হবে ২১ জানুয়ারি। ইজতেমার মুরব্বি প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, কনকনে শীত উপেক্ষা করে মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠে সমবেত হয়েছেন। তাদের ইবাদত-বন্দেগী ও জিকির-আজগারে ইজতেমা ময়দান চিরচেনা রূপ ফিরে পেয়েছে। বিদেশি মুসল্লিরা অনেকেই ময়দানে এসেছেন। জুমার নামাজের আগে দুই থেকে তিন হাজার বিদেশি মুসল্লি ইজতেমায় উপস্থিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিদেশি মুসল্লি যারা বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে চিল্লায় আছেন তাদের বেশির ভাগই বিশ্ব ইজতেমার যোগ দিতে আসছেন।
ইজতেমা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানান গেছে, ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় মালপত্র সঙ্গে নিয়ে দলে দলে মুসল্লিরা ময়দানে এসে যার যার খিত্তা ও কামরায় অবস্থান নিয়েছেন। ইজতেমায় মুসলিম জাতির সুখ, শান্তি, কল্যাণ, অগ্রগতি ও ঐক্য কামনা করে মোনাজাত করা হবে। এতে দেশ-বিদেশের প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ লোকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি পাঁচটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে। আগত মুসল্লিদের ওজু ও সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ইজতেমা মাঠে স্থাপিত ১৩টি গভীর নলকূপ দিয়ে প্রতিদিন তিন কোটি ৫৪ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি সরববরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ইজতেমা চলাকালে ২১টি গার্বেজ ট্রাক বর্জ্য অপসারণ করবে। মুসল্লিদের নিরাপত্তায় পুলিশের সাত হাজার সদস্য ও র‌্যাবের ২৫০ থেকে ৩০০ সদস্য মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, ৪১টি সিসি ক্যামেরা ইজতেমা মাঠের চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে। ময়দানের প্রতিটি খিত্তায় ছয় জন করে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা, চেকপোস্ট, মেটাল ডিটেক্টর, নৌ টহল ও ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং করা হবে। ময়দানে পুলিশের পক্ষে থেকে ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে থাকবে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের কড়া নজরদারি। ইজতেমায় যাতায়াতের সুবিধার্থে সেনাবাহিনী তুরাগের ওপর সাতটি ভাসমান পল্টুন ব্রিজ তৈরি করেছে। ইজতেমায় মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৫০টি মেডিক্যাল টিম ফ্রি চিকিৎসা সেবা দেবে। প্রস্তুত থাকবে ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স।
প্রথম পর্বের ১৬ জেলা হচ্ছে ঢাকার একাংশসহ নারায়ণগঞ্জ, শেরপুর, নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, লক্ষীপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, নড়াইল, মাদারীপুর, ভোলা, মাগুরা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা, নরসিংদী ও বগুড়া। এ বছর ১৬০ একর এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে চটের প্যান্ডেল। বিদেশি মেহমানদের জন্য তৈরি করা হয়েছে চার কামরা বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক নিবাস।