আমি কে?

ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীমের নতুন বই

‘আমি কে’ এই জিজ্ঞাসা মানুষের চিরন্তন। এটি মানুষের আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন। চার পাঁচ দশক আগেও সমাজবিজ্ঞানীরা এ প্রশ্নের উত্তরের জন্য যার যার সমাজের দিকে, কালচারের দিকে তাকাতে বলতেন। তাঁদের মতে মানুষের শুরুটা হয় সাদা খাতার মত শূন্য অবস’ায়, পরে বাইরের এই সমাজ, শিক্ষা, কালচার সব কিছু তাকে যেভাবে প্রভাবিত করেছে, সে তাই হয়েছে। আধুনিক ডিএনএ বিজ্ঞান তার অভাবনীয় অগ্রগতি দিয়ে এই ধারণা ভেঙে দিয়েছে; বিশেষ করে অতি সম্প্রতি মানুষের সম্পূর্ণ ডিএনএ’র পাঠোদ্ধার করতে পারার পর।
এখন স্পষ্ট হয়েছে যে আত্মপরিচয়ের অনেকখানিই নির্ভর করছে নিজের ডিএনএ’র ওপর যা আমরা পূর্বসূরীদের বিবর্তনের মাধ্যমে কোটি বছরের ধারাবাহিকতায় বাবা-মা থেকে জন্মলগ্নেই পেয়ে যাই। আমার চিন্তা-চেতনা-আচরণের মৌলিক ভিত্তিটি ঠিক করে দিচ্ছে মস্তিষ্কের মাধ্যমে এই ডিএনএ। সেই সঙ্গে আমার সুস’তা, ব্যক্তিত্ব, কালচার, আবেগ ইত্যাদির বিশেষ প্রবণতার মধ্যেও ডিএনএ’র হস্তক্ষেপ বেশ স্পষ্ট। তার ওপর শৈশব-পরিবেশের ও নিজের জীবন-যাপন ভঙ্গির যেটুকু প্রভাবে ওই প্রবণতাগুলো বাড়েকমে তাও ঘটে ওগুলোর সঙ্গে বিক্রিয়ায় ডিএনএ’র প্রকাশে তারতম্যের জন্য। তাই সাদা খাতার শূন্যতা নিয়ে নয় বরং ভরা বইয়ের ভিত্তি নিয়েই আমার শুরু। শিক্ষা, চর্চা ইত্যাদির মাধ্যমে সেগুলোকে বিকশিত করেই আমি পূর্ণাঙ্গতা পাই।
এখন দেখছি প্রত্যেক মানুষের ডিএনএ একান্তই তার নিজস্ব হওয়া সত্ত্বেও গড়পড়তায় মানুষে মানুষে ডিএনএ’র তফাৎ খুবই নগণ্য- সেটি ভিন্ন মহাদেশের ভিন্ন গোষ্ঠীর দুই মানুষের মধ্যে হলেও। তাই যে স্বাভাবিক সক্ষমতা নিয়ে প্রত্যেকের জন্ম তা দুনিয়ার সব মানুষের মধ্যে গড়পড়তায় প্রায় একই রকম। আবার ডিএনএ’র সাদৃশ্য দেখলে পুরো জীবজগতের সঙ্গেও মানুষের ঐক্য অবাক হবার মত।
ডিএনএ’র নিরবচ্ছিন্নতা আমাকে নিজের সীমাবদ্ধ অস্তিত্ব ও কালচারকে ছাড়িয়ে স’ানে ও কালে বিশাল বিস্তৃতি দিয়েছে- দীর্ঘ বিবর্তন-ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে; তেমনি ব্যতিক্রমী মননশীলতার মাধ্যমে কিছু অনন্য ক্ষমতাও দিয়েছে। এই সবের সমন্বয়ে প্রত্যেকের সর্বাঙ্গীণ আত্মপরিচয় পেতে আধুনিকতম বিজ্ঞান যে অবিশ্বাস্য রকম সহায়তা দিচ্ছে সে কাহিনী নিয়েই এই বই।