স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলায় গ্রেফতার আশিক মিজান

আমি আদনানের ‘বড়ভাই’ তাসফিয়াকে চিনি না

নিজস্ব প্রতিবেদক
Tasfia

গ্রেফতারের পর স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আশিক মিজান নতুন কোনো তথ্য দেয়নি পুলিশকে। গত বুধবার রাতে নগরের পাঁচলাইশ নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। এসময় তার প্রাইভেট কারটিও জব্দ করা হয়।
সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (কর্ণফুলী জোন) জাহেদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারের পর বুধবার দিবাগত রাতে আশিক মিজানকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় সে জানায়, তাসফিয়াকে সে চিনে না। তাকে কোনো দিন দেখেনি সে। ঘটনার দিন রাতে পাঁচলাইশ থানার অদূরে তাসফিয়ার বাবা মো. আমীন আদনানকে আটকে রাখলে ছাড়াতে যায় আশিক।
এসময় ব্যর্থ হলে ঘটনাস’লে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কথিত নেতা ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম ও ফিরোজকে (তাসফিয়া হত্যা মামলার আসামি) ডেকে নিয়ে আসে সে। এসময় পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাসফিয়াকে খুঁেজ বের করার আশ্বাস দিয়ে আদনানকে ছাড়িয়ে নেয় তারা। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে আদনানকে খুলশি এলাকার বাসায় পৌঁছে দেয় আশিক। এসময় আদনানের কাছ থেকে কিছু টাকাও নেয় আশিক।
পুলিশ কর্মকর্তা জাহেদুল আরও জানান, গ্রেফতার হওয়া আশিকও ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। তার বাবা সৌদি প্রবাসী। আশিক জানিয়েছে, সে আদনানের ‘বড়ভাই’। মূলত তাসফিয়া হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার হওয়া আশিক এবং পলাতক আসামি মুরাদপুর এলাকার কথিত ছাত্রলীগ নেতা ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম এবং যুবলীগকর্মী ফিরোজ তারা সবাই বখাটে এবং অপরাধী। এ দুজনকেও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে আরও এক দফা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ শুক্রবার আশিক মিজানকে আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান সিএমপির এ পুলিশ কর্মকর্তা।
গত ১ মে সকালে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের ১৮ নম্বর ব্রিজঘাটের পাথরের ওপর থেকে সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। প্রথমে অজ্ঞাত লাশ মনে করা হলেও পরিচয় মেলার পর একই দিন সন্ধ্যায় খুলশি থানার জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির বাসা থেকে তাসফিয়ার বন্ধু আদনান মির্জাকে (১৬) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ।
আদনান মির্জা নগরের বাংলাদেশ এলিমেন্টারি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। তাসফিয়াকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে তার বাবা মো. আমীন গত ৩ মে দুপুরে আদনান মির্জাকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের বিরুদ্ধে পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। আসামিরা হলেন-আদনান মির্জা, সৈকত মিরাজ, আশিক মিজান, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম, মো. মোহাইন ও মো. ফিরোজ। এরমধ্যে ঘটনার পরদিন তাসফিয়ার বন্ধু আদনান মির্জা এবং গত বুধবার রাতে আশিক মিজানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।