আমবাগানে জোড়াখুন মা ও মেয়েকে হত্যা সম্পত্তির লোভে তিন আসামির জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরের আমবাগান ফ্লোরাপাস এলাকায় রূপালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মেহেরুন নেছা (৭৪) ও তার মা মনোয়ারা বেগমের (৯৭) হত্যারহস্য উদঘাটন করেছে মহানগর ডিবি পুলিশ।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নগরের বিভিন্ন জায়গা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া তিনজনই গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে তারা জানায়, সম্পত্তির লোভ, পূর্বশত্রুতা এবং নগদ টাকার আকর্ষণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল তারা। গ্রেফতারকৃতরা হলো রাঙামাটি জেলার লংগদু থানার দক্ষিণ মারিশ্যার চর এলাকার মইয়ুব আলীর ছেলে মো. মুসলিম (২৫), বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখিল ইউনিয়নের
সামাদ আলী সিকদার বাড়ির মোজাফফর রহমানের ছেলে মো. সাহাবুদ্দিন ওরফে সাবু ওরফে মুছা (৩৭) এবং কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার মধ্যপাড়া কাজীবাড়ির মনির হোসেনের ছেলে মো. মাসুদ রানা (৩৯)। গ্রেফতার তিনজনই থাকে নগরের আমবাগান এলাকায়। সাবু রেলওয়ের নিরাপত্তাকর্মী।
এর আগে গত বছর ২৪ জুলাই মা-মেয়ের খুনে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া মুশফিকুর রহমান ওরফে ব্যাপ্তি জবানবন্দি দেয়। মুশফিকুর রহমান নিহত মনোয়ারা বেগমের নাতি। তার বাবার নাম মতিউর রহমান। দাদি মনোয়ারা বেগমের বাসায় (মেহের মঞ্জিল, ৩৭৪/এ ফ্লোরাপাস, ময়দার মিল রোড, আমবাগান) থাকত মুশফিক। গ্রেফতারের পর মা-মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে।
প্রসঙ্গত, গত বছর ১৫ জুলাই মা-মেয়েকে হত্যা করে তাদের মরদেহ বাড়ির নিচতলায় অবসি’ত পানির রিজার্ভ ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়। এ ঘটনায় নিহত মনোয়ারা বেগমের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (৫৯) অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে খুলশী থানায় মামলা করেন।
জানা গেছে, মামলাটি প্রথমে খুলশী থানা পুলিশ তদন্ত করে। পরবর্তী সময়ে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে ঘটনার তিনদিন পর ১৮ জুলাই থেকে চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত শুরু করেন মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. ইলিয়াছ খান। মা-মেয়ের হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা পেয়ে নিহত মনোয়ারা বেগমের নাতি মুশফিকুর রহমান ওরফে ব্যাপ্তিকে ২৪ জুলাই গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। একই সঙ্গে ভিকটিম মেহেরুন নেছার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ডিবি পুলিশ জানতে পারে মা-মেয়ে হত্যায় শুধু মুশফিক নয়, একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। গত ১২ মার্চ রাতে ঘটনাস’লের কাছে রেললাইনের পাশে বসবাসকারী রাজমিস্ত্রি মুসলিমকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করা হলে মুসলিম মা- মেয়ে হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার বর্ণনা দেয়। জবানবন্দিতে মুসলিম আদালতকে জানায়, মা-মেয়ে হত্যায় মোট পাঁচজন জড়িত ছিল। এর মধ্যে দুজন সম্পত্তির লোভে, দুজন পূর্বশত্রুতার জেরে এবং একজন নগদ টাকা পাওয়ার আকর্ষণে এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।