চকরিয়ায় চলতি মৌসুমে

আমন আবাদে ৪৮ হাজার একর জমি নির্ধারণ

পোকা-মাকড়ের আক্রমণরোধে স্থাপন করা হচ্ছে ২শ২০টি আলোক ফাঁদ

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া

চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় চলতি মৌসুমে ৪৮ হাজার ২শ৭৫ একর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে উপজেলার বেশির ভাগ অঞ্চলে আমনের বীজতলা রোপন শেষ হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকুলে থাকলে এবং ক্ষেতের পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হলে এবছরও আশাতীত ফলন ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা এমনটাই ধারণা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। এবছর উপজেলার ৫৫টি ব্লকের অধীনে ধানক্ষেতে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে স’াপন করা হচ্ছে ২শ২০টি আলোক ফাঁদ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো.মহিউদ্দিন। ইতোমধ্যে যেসব এলাকায় আমন ধানক্ষেতে রং ধরেছে সেইসব জমিতে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে উপজেলা কৃষি বিভাগ আলোক ফাঁদ স’াপনের কাজ শুরু করেছে। ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকামাকড় সনাক্ত করার জন্য কৃষি বিভাগের ‘আলোক ফাঁদ’ কর্মসুচি এঅঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকের মাঝে ব্যাপক ফেলেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ধানক্ষেতের একটি পয়েন্টে অন্ধকারে জ্বালানো হচ্ছে বাতি। রাতের বেলায় বৈদ্যুতিক বাল্বের আলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে জড়ো হয় এসব পোকামাকড়। পোকামাকড়ের দল বৈদ্যুতিক বাল্বের নিচে রাখা গামলা ভর্তি সাবান মাখা ফেনার পানিতে পড়লে ওই সব পোকামাকড় আটকে পড়ে উঠতে পারেনা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আতিক উল্লাহ বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪৮ হাজার ২শ৭৫ একর জমির আমন ক্ষেতে ৫৫ ব্লকে ২শ ২০টি আলোক ফাঁদ স’াপন করা হচ্ছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ক্ষেতে পোকামাকড়ের উপসি’তি সনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া গ্রহণের জন্য কৃষককে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আলোক ফাঁদ কর্মসুচি কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে। বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষি বিভাগ প্রতি বছরের ন্যায় চলতি মৌসুমে আমন ধান ক্ষেতে আলোক ফাঁদের পদ্ধতি চালু করেছে। তিনি বলেন, ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় নির্ণয় ও দমনে ‘আলোক ফাঁদ’ একটি সফল ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস’াপনা।ক্ষতিকর পোকামাকড় সনাক্ত করে পরবর্তীতে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া সহজ হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষকরা কোনো ধরনের খরচ ছাড়াই সহজে ফসলের ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত করে পোকার হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে পারবেন। আলোর ফাঁদে আটকা পড়া পোকা মাকড় সনাক্ত করেন কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীরা।