আমদানিকৃত দুধের সাথে মূল্য সমন্বয় করতে হবে

DSC_0050

চিটাগাং ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন সম্পাদক মালিক মোহাম্মদ ওমরদেশের কৃষিজাত শিল্পের অন্যতম খাত ডেইরি। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সারাদেশে গড়ে উঠেছে অনেক ডেইরি ফার্ম। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন করছে এসব ফার্মগুলো। চট্টগ্রামেও প্রায় শতাধিক ডেইরি ফার্ম রয়েছে। নানা সমস্যা থাকলেও ফার্মগুলো উৎপাদন চালু রেখেছে।
আসন্ন ২০১৬-১৭ বাজেটে এ খাতের ব্যবসায়ীদের দাবি ও বাজেটে এ খাতের উন্নয়নে প্রস্তাবনা ইত্যাদি নিয়ে চিটাগাং ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মালিক মোহাম্মদ ওমর-এর সাথে কথা বলেছেন আমাদের প্রতিবেদক ওমর ফারুক ইমন।
মালিক মোহাম্মদ ওমর বলেন, ‘দেশে এখন প্রচুর ডেইরি ফার্ম রয়েছে। নানা প্রতিকূলতায়ও ফার্মগুলো তাদের উৎপাদন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ খাতের উন্নয়নে সরকারের আলাদা কোনো উদ্যোগ না থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেকগুলো ফার্ম গড়ে উঠেছে। দেশের মানুষের তুলনায় জমির পরিমাণ অত্যন্ত কম। কিন’ ডেইরি খাতের উন্নয়নে বিস্তীর্ণ জমির প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে যেসব স’ানে খাস জমি রয়েছে সেসব স’ানে সরকার সহজ শর্তে ও কম মূল্যে জমি দিতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘ডেইরি শিল্পের উন্নয়নে সরকার সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে দেশের বাজারের দামের সাথে আন্তর্জাতিক বাজারের দুধের দামের সামঞ্জস্য করে। বিভিন্ন দেশ থেকে যেসব দুধ আমদানি করা হয় বিশেষ করে ইউরোপ থেকে সেসব দেশে ডেইরি ফার্মগুলো সরকারিভাবে নানা সুযোগসুবিধা ও ভর্তুকি পেয়ে থাকে। সেসব দেশে সরকার ডেইরি ফার্ম করতে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের বিনাশর্তে জমি দিয়ে থাকে। ফলে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব দেশ উদ্বৃত্ত দুধ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কমমূল্যে রপ্তানি করে। বিপরীতে আমাদের দেশে ডেইরি ফার্ম করার জন্য উদ্যোক্তাদের নিজস্ব অর্থায়নে শুরু করতে হয়। এছাড়া গো-খাদ্যের দামের উঠানামার কারণে তারা বিভিন্ন সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন সময় বাজার মনিটরিং করা হলেও এসব খাদ্যের প্রতি সরকারের কোনো নজরদারি থাকে না।’
ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের এ নেতা বলেন, ‘দেশীয় ডেইরি ফার্মগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হলে আমদানিকৃত দুধের ওপর কর বাড়িয়ে তা দেশীয় দুধের দামের সাথে সামঞ্জস্য বিধান করতে হবে। তবে কর বাড়ালে দাম বাড়লেও বিদেশ থেকে আমদানিকৃত দুধের মান আমাদের দেশে উৎপাদিত দুধের মানের চাইতে নিম্নমানের। এছাড়া দীর্ঘসময় দুধ প্রিজার্ভ করে রাখায় বিভিন্ন ধরনের উপাদান যোগ করার ফলে দুধের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি গুঁড়ো দুধে ৮ কেজি তরল দুধ হয়। এ হিসাবে দেশীয় দুধের দাম তুলনামূলক বেশি। মানুষ দামের কথা চিন্তা করে গুঁড়ো দুধ কিনে। বাজারে চাহিদা থাকলেও কেজি প্রতি খরচ ৪৫-৫৫ টাকা হওয়ায় ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।’
বাজেটে ডেইরি ফার্মগুলোর উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ দিলে দেশীয় উদ্যোক্তারা টিকে থাকতে পারবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেশীয় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ভর্তুকি দিয়ে থাকে, আমাদের দেশেও সরকার এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। ডেইরি শিল্পের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন গো-চারণ ভূমি ও ঘাস উৎপাদনের জন্য জমি। সরকার যদি এ বিষয়টিতে নজর দেয় তাহলে ডেইরি শিল্পের উন্নয়ন হবে।
মালিক মোহাম্মদ ওমর আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে ডেইরি শিল্পের সাথে জড়িত না থেকেও অনেকে কাগজে কলমে ডেইরি ফার্মের মালিক। শুধু ব্যক্তিগত আয়কর মওকুফের জন্য অনেকে এ সুবিধা নিচ্ছেন। অথচ এ খাতে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের জন্য সরকার সুনির্দিষ্টভাবে বাজেটে নির্দেশনা দিতে পারে।’
ডেইরি শিল্পকে ঘিরে শুধু চট্টগ্রামে বছরে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার লেনদেন হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে সরকার নজর দিলে দেশের দুধের চাহিদা পূরণে দেশীয় ফার্মগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি অনেক লোকের কর্মসংস’ান হবে।’

আপনার মন্তব্য লিখুন