স্মরণানুষ্ঠানে জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

আবৃত্তিশিল্পীদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন রণজিৎ রক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘রণজিৎ রক্ষিত আপাদমস্তক একজন ভদ্র মানুষ ছিলেন। দেশের যে কোনো সংকটে কোনো না কোনো সংগঠনের ব্যানারে রাজপথে ছিলেন। রণজিৎ রক্ষিতের আদর্শে অনুপ্রাণিত হবে দেশের সকল আবৃত্তিকর্মী। তিনি সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতেন। স্বৈরাচার, বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী সামরিক সরকার, জিয়াউর রহমানের অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন করেছেন। আবৃত্তিকে তিনি শৈল্পিক রূপ দিয়েছেন।’
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রণজিৎ রক্ষিতের প্রয়াণে শোকগাথা ও স্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রাম।
এতে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিনেতা ও আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘একজন আদর্শ গুরু ছিলেন রণজিৎ রক্ষিত। সঠিকভাবে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মন ছিল শিশুর মতো। কিন’ চেয়ারায় ছিল দৃঢতা, যিনি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন। আবৃত্তিশিল্পীদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন রণজিৎ রক্ষিত।’
কবি ও প্রাবন্ধিক আবুল মোমেন বলেন, ‘স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন জীবনবোধের অবস’ানের কারণে রণজিৎ রক্ষিতকে তরুণেরা শ্রদ্ধা করে। বর্তমানে রাজনীতি ও সংস্কৃতির মধ্যে বিচ্ছিন্নতা চলছে এবং এ সংকটের মুহূর্তে আশাবাদের কথা বলতে পারা মানুষ হিসেবে রণজিত রক্ষিতকে বড় প্রয়োজন ছিল।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, ‘শুধু সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে নয়, রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যেও রণজিৎ রক্ষিতের বিচরণ ছিল। বর্তমান সময়ে স্বাধীনতার সপক্ষে কথা বলার জন্য তাঁর মতো মানুষের বড় দরকার।’
অধ্যক্ষ রিতা দত্ত বলেন, ‘রণজিৎ রক্ষিতের মতো পরিশীলিত জীবনবোধের মানুষ খুব কম দেখেছি। মুক্তমনের এই মানুষের মধ্যে কোনো দেয়াল ছিল না। চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে দেশের বাইরের মানুষের মন জয় করেছেন তিনি’।
শিশু সাহিত্যিক রাশেদ রউফ বলেন, ‘চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সবারই অভিভাবক ছিলেন রণজিৎ রক্ষিত। স্বৈরাচার ও মৌলবাদবিরোধী আন্দোলনে যেভাবে কাজ করেছেন, তা অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। যে কোনো সংকটে তিনি দিশারি ছিলেন।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মিলনায়তনটি রণজিৎ রক্ষিতের নামে করার দাবি জানান জেলা শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রামের কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু।
বোধন আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি সুজিত রায়ের সভাপতিত্বে ও প্রশান্ত চক্রবর্তীর উপস’াপনায় অন্যদের মধ্যে উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. চন্দন দাশ, আবদুল হালিম দোভাষ, গল্পকার বিশ্বজিৎ চৌধুরী, বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রামের সাবেক মুখ্য উপস’াপক ফজলুল হোসেন, সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, সঙ্গীতশিল্পী শান্তনু বিশ্বাস, নাট্যজন কুন্তল বড়-য়া, সম্মিলিত আবৃত্তি জোট চট্টগ্রামের সভাপতি চঞ্চল চৌধুরী প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত রণজিৎ রক্ষিতের আবৃত্তিচর্চার ওপর নির্মিত একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। শোকসঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্রেয়সী রায়, শোকগাথা পাঠ করেন পারভেজ চৌধুরী। বোধন আবৃত্তি পরিষদের শিল্পীরা ‘ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন। স্মৃতিচারণের মাঝে আবৃত্তি করেন মিলি চৌধুরী ও রাশেদ হাসান।