রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার উদ্বোধন

আবাসন খাতের ভবিষ্যত দেখছেন ভূমিমন্ত্রী জাবেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আবাসনখাতের ভালো ভবিষ্যত দেখার কথা উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন, আবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণখাত। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সব জায়গায় আবাসনখাতের চাহিদা বাড়ছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে আবাসন ব্যবসার শুরু বেশি দিনের নয়। তারপরও শুরুটা খুবই ভালো ছিল। কিন’ হঠাৎ করে একটা পর্যায়ে আবাসন ব্যবসা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেছে। তবে এটা আবাসন ব্যবসায় স্বাভাবিক। আবাসনখাতের ধাঁচটাই এ রকম। আমার মনে হচ্ছে, আস্তে আস্তে মেঘ সরছে এবং আবাসনখাতের ভালো ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর পাঁচতারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত ‘স্বপ্নীল আবাসন সবুজ দেশ, লাল-সবুজের বাংলাদেশ’ স্লোগানে ১২তম রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অর্থনীতিকে গতিশীল রাখার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্তমান সরকার প্রথম ধারাবাহিক সরকার। তিন তিনবার আমরা জনগণের আস’া অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনা করার এবং জনগণ বুঝতে পেরেছে উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখতে ধারাবাহিক সরকার প্রয়োজন। বিগত ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে ব্যাপক অবকাঠামাগত উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। মানুষের মৌলিক চাহিদা অন্ন বস্ত্র শিক্ষা স্বাস’্য ও বাসস’ানের ব্যবস’া হওয়ায় সরকারের প্রতি মানুষের আস’া বেড়েছে।’
‘জাতিসংঘের এমডিজি গোল (মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল) বাংলাদেশ সাফল্যের সঙ্গে পূরণ করেছে এবং বাংলাদেশের উদাহরণ বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে উত্থাপন করা হয়। এখন ইউনাইটেড নেশনের
নতুন প্রোগ্রাম এসডিজি গোল (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল)। এটির টার্গেট হচ্ছে ২০-৩০ সাল। এই এসডিজির মধ্যে আবাসনখাত একটি অংশ। আমি আশা করব, আবাসনখাত সামনের দিকে শক্ত অবস’া নিয়ে এগিয়ে যাবে এবং মূল উদ্দেশ্য থাকবে অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং। উন্নত বিশ্বেও এখন অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং চলছে। কম খরচে মানুষ যাতে আবাসন পায় সে বিষয়ে নজর দিতে হবে।’
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক ব্যবসায় ভালোমন্দ আছে। সব ব্যবসার সেক্টরে সবাই যে ভালো, তাও নয়। তবে আবাসনখাতের কিছু প্রতারক ডেভেলপারের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেক্ষেত্রে রিহ্যাব সদস্যদের শক্তিশালী রেটিং এবং মনিটরিংয়ে রাখা প্রয়োজন। কারণ আবাসন ব্যবসায় সবাই দাবি করে, তারা রিহ্যাবের মেম্বার। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে শাস্তির মুখোমুখি করা প্রয়োজন। কারণ প্রত্যেক কিছুতে ইমেজ গুরুত্বপূর্ণ।’
‘একজন লোক যখন অবসরে যাচ্ছে বা যাবে তখন তিনি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি বাসস’ান রেখে যেতে চান। তিনি যখন সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে একটি প্লট বা ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে সব হারিয়ে ফেলেন তখন সেটি কারো জন্যই মঙ্গল হয় না। সেক্ষেত্রে রিহ্যাবের কঠোর নজরদারি ও একটি ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা প্রয়োজন।’
রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট আলমগীর সামশুল আলামীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ুম চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ভাইস প্রেসিডেন্ট (৩) ও ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান কামাল মাহমুদ।
অন্যদের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন রিহ্যাব পরিচালক ও চেয়ারম্যান ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটির শাকিল কামাল চৌধুরী, রিহ্যাব ডিরেক্টর ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির কো-চেয়ারম্যান (১) আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ দিদারুল হক চৌধুরী এবং রিহ্যাব ডিরেক্টর ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির কো-চেয়ারম্যান (২) মাহবুব সোবহান জালাল তানভির, চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির সদস্য রেজাউল করিম, আবদুল্লাহ আল মামুন, নাজিম উদ্দিন, মোরশেদুল হাসান, সদস্য এয়াছিন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার শেখ নিজাম উদ্দিন, শহিদুল ইসলাম, সৈয়দ ইরফানুল আলম এবং চট্টগ্রাম রিজিয়নের সদস্যবৃন্দ।
প্রধান অতিথি অনুষ্ঠানের শুরুতে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথির হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন রিহ্যাব নেতৃবৃন্দ।