আবার সড়ক দুর্ঘটনা আইন মানছে না কেউই

সম্পাদকীয়

এত সতর্কতা, এত বিধিনিষেধ, এত সচেতনতার পরও সড়ক দুর্ঘটনা কিছুতেই কমছে না। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী নতুন রাস্তার মাথায় কক্সবাজারগামী যাত্রীবাহী বাসও বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারায় সাত যাত্রী। নিহতদের মধ্যে তিন নারী ও চার পুরুষ রয়েছেন। দুর্ঘটনায় ঘটনাস’লেই এক নারী এবং হাসপাতালে বাকি ছয়জন মারা যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতালে চিকিৎসারত আহতদের সাথে কথা বলে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চকরিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি অভিযোগ করেন, গাড়ির চালক ঘুম চোখে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসটি সারারাত চালিয়ে চালক ঘুম চোখে কক্সবাজার রওনা দিয়েছিলেন এবং দুর্ঘটনার সময় তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সরকারের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে নানা প্রকার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা খুব বেশি ফলপ্রসূ হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। তাছাড়া দুর্ঘটনারোধে খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কার্যকরেরও কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। গত ২৫ জুন সড়ক দুর্ঘটনারোধে দূরপাল্লার বাসযাত্রায় বিকল্প চালক রাখাসহ পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা প্রদান করে তা মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও নৌপরিবহনমন্ত্রীকে। প্রধানমন্ত্রীর সে নির্দেশনায় ছিল, একজন চালক পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাবেন না। নির্দিষ্ট দূরত্বে সার্ভিস সেন্টার বা চালকদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরি, গাড়ির চালক ও তার সহকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, সিগন্যাল মেনে রাস্তা পারাপার হওয়া এবং চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধা নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার যে কোনোরূপ বাস্তবায়ন হয়নি তা এই বাসচালকের অবস’া দেখে সহজে অনুমান করা যায়। ২০১৫ সালের ১ আগস্ট থেকে থ্রি-হুইলার অটোরিকশা, অটোটেম্পু এবং অযান্ত্রিক চলাচল নিষিদ্ধের ২২টি জাতীয় মহাসড়কের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সে হিসেবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও থ্রি হুইলার ও অযান্ত্রিক গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ। কিন’ বাস্তবতা হলো ভিন্ন। এই মহাসড়ক জুড়ে বেশ দাপটেই চলছে এই ধরনের যানবাহন। আইন মানছে না কেউই।
মূলত মহাসড়ক বলতে যা বোঝায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কটি তা নয় মোটেও। এই সড়কের দু পাশে প্রায় সম্পূর্ণটা জুড়ে রয়েছে হাটবাজার-স্কুল-কলেজসহ নানা স’াপনা। সড়কজুড়ে থাকে অবৈধ পার্কিং।
ফলে সড়কটি এমনিতেই বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তার ওপর এই ধরনের যানবাহনের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা লেগেই আছে। যে যানবাহনগুলো মহাসড়কে নিষিদ্ধ তা দিনের বেলা প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনেই চলাচল করছে। তারা কীভাবে মহাসড়কে চলে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না, কেন দেশের সড়কগুলো নিরাপদ হচ্ছে না, কেন এত মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাবে আমরাও জানি না এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কে দেবে?