ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল

আবারো বন্যা রাউজানে

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাউজান

প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাউজানের হলদিয়া, ডাবুয়া, চিকদাইর, পৌর এলাকার সড়ক, ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হলদিয়া ভিলেজ রোড, ডাবুয়ার গনির ঘাট সড়ক, চিকদাইর পাঠান পাড়া, দক্ষিণ সর্তা রাউজান পৌর এলাকার সাহানগর, ঢেউয়া পাড়া, হাজি পাড়া, ছিটিয়া পাড়া, সুলতানপুর কাজি পাড়া পানিতে ডুবে যায়। ১৮ জুন ভোর থেকে প্রবল বর্ষণ হলে হলদিয়া, ডাবুয়ায় সর্তা খাল ও ডাবুয়া খালের ভাঙন এলাকা দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে রাউজানের বিস্তীর্ণ এলাকা আবারো প্লাবিত হয়ে এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। কাপ্তাই বাঁধের ছেড়ে দেওয়া পানি এসে রাউজানে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে এলাকার সড়ক, ঘরবাড়ি ডুবে গিয়ে মানুষের চরম দুভোর্গের সৃষ্টি হয়। সর্তা খালের ভাঙন দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করে আবারো এলাকার মানুষের বাড়িঘর, সড়ক, ইউপি ভবন ডুবে যাওয়ায় সড়ক পথে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে।
এলাকার মানুষের মধ্যে আতংক সৃষ্টি হয়েছে। হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, পূর্বের বন্যায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ এলাকার সড়ক ও মানুষের বাড়িঘর বিধস্ত হওয়ার পর আবারো নতুন করে বন্যা দেখা দেওয়ায় হলদিয়ার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ১৭ জুন শনিবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রদত্ত ১০ মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। বন্যায় হলদিয়ায় দুজন উরকিরচরে এক মহিলা নিহত হয়।
বন্যা পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হলেও আবারো প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে রাউজান আবারো প্লাবিত হয়। ১ হাজার ৩৮টি মাছচাষের পুকুর ও মৎস্য প্রকল্প পানিতে ভেসে গেছে। ডাবুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ডাবুয়া এলাকায় সর্তা খালের ভাঙন সৃষ্টি হয়ে পশ্চিম ডাবুয়া এলাকার বারৈ পাড়া এলাকার ২৫টি পরিবারের বসতঘর খালের মধ্যে বিলীন হয়ে পড়েছে। পশ্চিম ডাবুয়া গনীর ঘাট সড়ক, আকবর শাহ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সর্তা ও ডাবুয়া খালের ভাঙনে চিকদাইর ইউনিয়নের পাঠান পাড়া এলাকার শতাধিক পরিবারের বসতঘর পানিতে ডুবে বিধ্বস্ত হয়।