সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারে আবারও সক্রিয় দালাল চক্র

টার্গেট রোহিঙ্গা ক্যাম্প

জিয়াবুল হক, টেকনাফ গ্ধ

আবারও সমুদ্রপথে মানবপাচারকারী চক্র পাচারের জন্য উখিয়া- টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে বেছে নিয়েছে। মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন নির্যাতনের ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালাল চক্র। এসব পাচারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রোহিঙ্গাদেরই একটি দালাল চক্র। বিজিবি, পুলিশ ও স’ানীয় সূত্রে এসব তথ্য মিলেছে।
১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে বিজিবি সদস্যরা টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মাঠপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ৬ জন রোহিঙ্গা নাগরিক এবং নৌকাসহ সন্দেহজনক ৫ জন দালালকে আটক করেছে। গত সোমবার সকালে টেকনাফ উপকূল থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ২২ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে বিজিবির সদস্যরা। এর আগে গত শুক্রবার, শনিবার, সোমবার, মঙ্গলবার উখিয়া-টেকনাফ উপকূল দিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারের সময় দালালসহ ১০৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে ৪৯ জন নারী, যাদের বয়স ১৫ থেকে ২০-এর মধ্যে। তাদের গভীর সমুদ্রে নোঙর করা জাহাজে তুলে দেওয়ার কথা ছিল। এ ঘটনায় ৯ দালালকেও আটক করা হয়েছে। তারা হলেন টেকনাফের মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ, মোহাম্মদ হুমায়ুন, মোহাম্মদ মামুন ও উখিয়ার আব্দুল কাদের, টেকনাফ সদরের মহেশখালীয়া পাড়ার বশির আহমদের পুত্র
মো. মনির (২৭), মো. নুরুল আবছার (৩৫), শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রী পাড়ার ওলি আহমদের পুত্র মো. ইউনুস (৩২), দক্ষিণ পাড়ার নজির আহমদের পুত্র মো. আমিন (৪৯), মাঠ পাড়ার মো. এখলাসের পুত্র মো. মুন্নাকে (৩৫) আটক করে।
এ ছাড়া গত ছয় মাসে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় শতাধিক রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে র্যাব, কোস্টগার্ড ও পুলিশ। তাদের মধ্যে অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গাকে সমুদ্রে দুই-তিন দিন ঘুরিয়ে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর কথা বলে টেকনাফ সমুদ্রতীরে নামিয়ে দেয় বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭ টেকনাফ ক্যাম্পের ইনচার্জ লে. মির্জা শাহেদ মাহতাব।
পাচার কাজে পুরানো রুট
২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সময় সহস্রাধিক বাংলাদেশি আটক হন। মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়া এই বাংলাদেশিদের অনেকেই ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় পথেই মারা যান।
আবার সেসময় থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার উপকূলে অসংখ্য গণকবর আবিষ্কৃত হয়। মিয়ানমার, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সমুদ্রপথে পাচারের শিকার হয়ে বন্দিশিবিরে কিংবা যাত্রাপথে প্রাণ হারানো মানুষের এসব কবরের সন্ধান পাওয়ার খবরে সে সময় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে বাংলাদেশের কক্সবাজার সীমান্ত মানবপাচারের অন্যতম রুট।
রোহিঙ্গা পাচারকারী
উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন ১১ লাখের বেশি। যারা কর্মহীন ও অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বড় একটি অংশ অবস’ান করছে উখিয়ায়। তাদের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিতে মানবপাচারকারী চক্রগুলো আবারও তৎপর হয়েছে। সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারে টার্গেট করা হচ্ছে এসব রোহিঙ্গাকে। এই পাচারের সঙ্গে অভিযুক্তরা আবার রোহিঙ্গাদেরই একটি অংশ। এরই মধ্যে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা দালাল। তারা সবাই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, মানবপাচারকারী দালালরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা এবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে টার্গেট করেছে। এ কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। যেসব রোহিঙ্গা দালাল রয়েছে, তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আছাদুদ-জামান চৌধুরী জানান, সীমান্ত জনপদ টেকনাফ উপজেলা থেকে মানবপাচার শূন্যের কোটায় রয়েছে, সেটি ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। মানবপাচারকারীদের ধরতে ও মানবপাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবসময় তৎপর রয়েছে।