আবারও উঠছে অবৈধ বিলবোর্ড

রুমন ভট্টাচার্য

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে আবারও উঠেছে প্রকৃতির সৌন্দর্য হননকারী অবৈধ বিলবোর্ড। বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের ঘোষণা অনুযায়ী নগরে বিলবোর্ড স্থাপনের কোনোরকম অনুমতি নেই। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগও রয়েছে জিরো টলারেন্স নীতিতে। কিন্তু এর মধ্যেও থেমে নেই অবৈধ বিলবোর্ড স্থাপনের কাজ। তদারকি না থাকায় সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে উঠছে অবৈধ বিলবোর্ড। কোনোরকম অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে আবারও উঠছে বিলবোর্ড এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
সরেজমিন দেখা যায়, নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের চকবাজার থানাধীন কলেজ রোডের কেয়ারী ইলিশিয়ামের উল্টোদিকে সিডিএ’র সৌন্দর্যবর্ধনকৃত লোহার ঘেরা দেওয়া জায়গার ভেতরে লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ২০ ফুট বাই ১০ ফুট (২০০ বর্গফুট) আকারের একটি অবৈধ বিলবোর্ড।
বিজ্ঞাপনের জন্য তৈরি করা এই বিলবোর্ডটিতে দেওয়া আছে যোগাযোগের জন্য দুটি মোবাইল নম্বর।
সরেজমিন দেখা যায়, চকবাজার কলেজ রোডের পশ্চিম দিকে কেয়ারী ইলিশিয়ামের অপরপ্রান্তে একটি অবৈধ বিলবোর্ড। বিলবোর্ডের উপর নীল রঙের পিভিসি এবং তার ওপর সাদা রঙের ইংরেজি হরফে লেখা রয়েছে ‘টু লেট’ ও যোগাযোগের জন্যে দু’টি মোবাইল নম্বর।
বিলবোর্ডটির সামনের রাস্তায় রয়েছে ১ নম্বর রুটের গাড়ির অস্থায়ী স্ট্যান্ড, পিছনে রয়েছে দুটি বড় ও কয়েকটি মাঝারি গাছ। বিলবোর্ডটির কারণে এখন ঢাকা পড়ে গেছে গাছগুলো। এছাড়া প্যারেড মাঠের ভেতরের কিছু অংশও ঢেকে গেছে এ বিলবোর্ডটিতে। এর ফলে জায়গাটি আগের সৌন্দর্য হারিয়েছে।
নতুন করে বিলবোর্ড উঠার ব্যাপারে এখনও কিছুই জানেন না স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও চসিকের রাজস্ব বিভাগ।
১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, ‘বিলবোর্ড স্থাপনের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বিলবোর্ডটি কে বা কারা তৈরি করেছে এ বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিয়ে মেয়র মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করব।’
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, ‘নগরে বিলবোর্ড স্থাপনের কোনো অনুমতি নেই। বিলবোর্ডটির বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব’।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকবাজারে স্থানীয় যুবলীগ নেতা পরিচয়দারী এক ব্যক্তি এই বিলবোর্ডটি তৈরি করেছেন। তার সাথে অন্য এলাকার আরো কয়েকজন জড়িত আছেন। গত শনিবার বেলা ৫টায় টাঙানো হয় ‘টু লেট’ লেখা নীল রঙের পিভিসি ব্যানারটি যা গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত একই অবস্থায় দেখা যায়।
আরও জানা গেছে, ২০০ বর্গফুটের বিলবোর্ডটিতে বিজ্ঞাপন দিতে হলে গুণতে হবে মাসে ত্রিশ হাজার টাকা। কিন্তু একাকালীন কোনো টাকা-পয়সা দিতে হবে না। লিখিত ও মৌখিক দু’রকম চুক্তিই করা যাবে। গ্রাহক নিজে পিভিসি ব্যানার প্রিন্ট দিয়ে বুঝিয়ে দিলে কর্তৃপক্ষ সেটি লাগিয়ে দেবেন। মাস শেষে পরিশোধ করতে হবে ত্রিশ হাজার টাকা। যেহেতু বিলবোর্ডটি অবৈধ সেকারণে এসব সুবিধা রাখা হয়েছে গ্রাহকদের জন্য।
উল্লেখ্য, সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী নগরীতে মোট ৬ হাজার ৪৮৫টি বিলবোর্ড ছিল। নগরীর সৌন্দর্য রক্ষার্থে বর্তমান মেয়রের ক্লিন ও গ্রীন সিটির নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বৈধ-অবৈধ সব বিলবোর্ডই উচ্ছেদ করে সিটি করপোরেশন। এ কাজে শতভাগ সফলতার কারণে নগরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এরপর থেকে নগরীতে বিলবোর্ডের অনুমতি বন্ধ রেখেছে সিটি করপোরেশন।