আনোয়ারা উপকূলে শুঁটকি উৎসব

সংবাদদাতা, আনোয়ারা
আনোয়ারা উপকূলে শুঁটকি শুকাতে ব্যস্ত জেলেরা
আনোয়ারা উপকূলে শুঁটকি শুকাতে ব্যস্ত জেলেরা

আনোয়ারা উপকূলে চলছে শুঁটকি শুকানোর উৎসব। আর এতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপকূলের জেলেরা।
জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের তীরে আনোয়ারা উপকূলের দুইটি গ্রাম এখনো বিধ্বস্ত। মুছে যায়নি ছয়মাস আগে আঘাতহানা রোয়ানুর তান্ডবলীলার ক্ষতও। এমনকি বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের আঘাতে বেড়িবাঁধ ভাসিয়ে বাড়িঘরও বিলীন হয়ে পড়ে। ফলে, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া উপকূলের এসব মানুষ আবারো স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। চেষ্টা করছেন ঘুরে দাঁড়ানোর। এখন তাঁরা মাছ শিকার করে, শুকিয়ে এবং বিক্রি করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। ডিসেম্বরে মাছ শুকানোর কাজ শুরু হয়েছে আর তা চলবে আগামী এপ্রিল-মে পর্যন্ত। এ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার পাঁচশ পরিবারের লোকজন।
সম্প্রতি রে দেখা গেছে, রায়পুরের উঠানমাঝির ঘাট থেকে বার আউলিয়া পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলছে শুঁটকি শুকানোর কাজ। এতে পুরুষের পাশাপাাশ নারী ও শিশু শ্রমিকেরা কাজ করছেন।
জেলে ও ব্যবসায়ীরা জানান, দেড় কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতে ২০ জনের অধিক ব্যবসায়ীর আওতায় তিনশ শ্রমিক কাজ করছেন। তবে, সমুদ্র থেকে মাছ ধরা ও শুঁকটি শুকানোর কাজে ব্যস্ত পাঁচ শতাধিক পরিবারের লোকজন।
গহিরা এলাকার জেলে আবু শামা বলেন, সমুদ্র থেকে আমরা মাছ ধরে মাঝারি আকারের নৌকায় করে উপকূলে নিয়ে আসি। তারমধ্যে কেউনগা ইছা (চিংড়ি), লটিয়া, কাটামাছ ও হুনদারাসহ বিভিন্ন জাতের মাছ একসাথে বিক্রি করি। আমরা প্রতিকেজি দেড়শ থেকে দুইশ টাকা আর ছয় থেকে সাতশ টাকা দামে প্রতি ঝুড়ি মাছ বিক্রি করি। এসব মাছ শুকিয়ে ব্যবসায়ীরা তিন থেকে চারশত টাকা লাভ করেন।
স’ানীয় শ্রমিক মো. ইলিয়াছ বলেন, ‘এলাকায় আর কোন কাজ চলছেনা তাই সংসারের খরচ চালাতে দৈনিক দেড়শ টাকা মজুরিতে এখানে কাজ করছি। তিনি আরো সমুদ্র থেকে আনা মাছ শুকানোসহ অন্যান্য কাজে এলাকার বহু মানুষ জড়িয়ে পড়ায় এলাকায় কর্মসংস’ানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে এলাকায় স্বচ্ছলতা এসেছে।
নুরুল আবছার নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, গত দুই বছর ধরে আমি মাছ শুকিয়ে বিক্রির কাজ করছি। আমার কাছে বারোজন শ্রমিক কাজ করছে। তাঁদের বিভিন্ন হারে মজুরি দিই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখানে মাছ শুকাতে গেলে স’ানীয় কয়েকজন চাঁদা দাবি করছে। আনোয়ারা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা সৈয়দ হুমায়ূন মোরশেদ জানান, উপজেলার রায়পুরে শুঁটকি শুকানোর উৎসব চলছে। এতে ব্যাপক কর্মসংস’ান হয়েছে স’ানীয়দের। তিনি আরো বলেন, জেলেরা যাতে নির্বিঘ্নে শুঁকটি শুকানো ও ব্যবসা করতে পারেন আমরা সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেব।

আপনার মন্তব্য লিখুন