আনন্দ মিছিল থেকে সংঘর্ষে আহত ৮

চবি সংবাদদাতা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়কে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠিত বিজয় মিছিলে যোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় গ্রুপের আট জন আহত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিসের সামনে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। এসময় উভয় পক্ষকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বিবাদমান উভয় গ্রুপই আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী। গ্রুপ দুটি হলো ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জামান নূর নেতৃত্বাধীন শাটলট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠন ‘চুজ ফ্রেন্ড উইথ কেয়ার’ (সিএফসি) এবং ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন নেতৃত্বাধীন ‘বিজয়’।
আহতরা হলেন, লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদ্দাম হোসেন, ইসলামিক স্ট্যাডিস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাসিম চৌধুরী, একই বর্ষের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের সেভেন সেমিস্টারের রিদুয়ান ইবনে সাত্তার, আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সাদাফ কবির, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শরীফুল ইসলাম, লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্র্ষের নাসিম আল সিয়াম ও জনেটিক ইনঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আবু নাহিয়ান রাফি। এদের মধ্যে সাদ্দাম, নাসিম, মোহাইমিনুল, রিদুয়ান বিজয় গ্রুপ এবং সাদাফ, শরীফ, সিয়াম ও রাফি সিএফসি গ্রুপের অনুসারী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর দুইটার দিকে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ের পর বিজয় মিছিল শেষে প্রক্টরের সাথে সৌজন্য স্বাক্ষাৎ করতে যায় বিজয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এসময় একই নেতার অনুসারী হয়েও সিএফসিকে কেন ডাকা হয়নি এমন মন্তব্যে বাইরে অবস’ানরত ঁ ২য় পৃষ্ঠার ৭ম কলাম
বিজয় গ্রুপের জুনিয়র কর্মীদের সাথে সিএফসি গ্রুপের জুনিয়রদের হাতাহাতিতে হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে কলা অনুষদের বেশ কয়েকটি কক্ষের কাচ ভেঙ্গে যায়। এসময় উভয় পক্ষের দুইজন আহত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর পুলিশের সহায়তায় পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণে আনে।
একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উভয় গ্রুপের আরো ছয় কর্মী আহত হয়। এসময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। পরে পুলিশ উভয় গ্রুপের মাঝে অবস’ান নিয়ে বিজয় গ্রুপকে সোহরাওয়ার্দী এবং সিএফসি গ্রুপকে আমানত হলে সরিয়ে দেয়। পুলিশের সহায়তায় আহত সকলকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিজয় গ্রুপের নেতা ফজলে রাব্বি সুজন বলেন, যৌন নির্যাতক, সাংবাদিক মারধরকারী ও জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট তারা। এমন অপরাধ কর্মকাণ্ডগুলো চাপা দিতে ক্যাম্পাসকে অসি’তিশীল করার চেষ্টায় লিপ্ত এসব অপরাধী। প্রশাসন যদি অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস’া না নেয় তবে প্রয়োজন হলে আমরাই আইন হাতে নিয়ে ব্যবস’া নিবো।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সিএফসি গ্রুপের নেতা জামান নূর বলেন, ক্যাম্পাসে আমাদের নেতা নওফেলের নাম ভাঙ্গিয়ে টেন্ডার ও নিয়োগ বাণিজ্য করেছে সুজন। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় প্রদানের দিনে তারা আজ আমাদের উপর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমাদের কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস’া নিতে পুলিশ প্রশাসনকে জোর দাবি জানান তিনি।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে হালকা ঝামেলা হয়েছে। পুলিশ অবস’ান নিয়ে পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণ এনেছে। বর্তমানে পরিসি’তি শান্ত রয়েছে।’
এ ব্যাপরে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে অসি’তিশীলকারীদের ছাড় দেয়া হবে না। এ ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস’া নেয়া হবে।’
এদিকে, রাত ৯টার দিকে পরস্পরবিরোধী স্লোগান দিতে থাকলে উভয়ের মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়। এসময় দেশীয় অস্ত্র হাতে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। উভয়ের মধ্যে ইটপাটকেলও বিনিময় হয়। ইটের আঘাতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিএফসি গ্রুপ শাহ আমানত ও বিজয় গ্রুপ সোহরাওয়ার্দী হলে অবস’ান করছিলো। ক্যাম্পাসে থমথমে অবস’া বিরাজমান। বিপুল পরিমাণ পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস’ান করছে।
তবে হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর পুলিশ সদস্যা আহত হওয়ার কথা অস্বীকার করেন।