আনজুমানপাড়া সীমান্তে রোহিঙ্গাদের আহাজারি

নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া

মিয়ানমারে নির্যাতনের চাপে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আহাজারি থামছে না। ৩ দিন ধরে আনজুমানপাড়া সীমান্তে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা আটকা পড়েছে। আশ্রয়হীন অভুক্ত এসব রোহিঙ্গাদের অবস’া কাহিল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে অসুস’ হয়ে পড়েছে ৩ শতাধিক বয়োবৃদ্ধ নরনারী ও শিশু। ডায়রিয়া, কলেরা, রক্ত ও পানি শূন্যতায় আক্রান্তদের আনুজমানপাড়া মসজিদের অস’ায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শুকনো খাবার বিতরণ করছে বিভিন্ন এনজিও সংস’া।
মিয়ানমারের বুচিডং, রইচ্ছং পাড়া থেকে স্বপরিবারে আসা আশরাফ আলী (৪০) ও তার স্ত্রী আয়েশা বিবি (৩৫) এর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা মংডুর সর্ব দক্ষিণে নাইক্ষং দিয়ায় অবস’ান করে আসছিল তিন দিন ধরে। বুচিডং এর নাইচাডং, কুমাংচিডং, কোয়াংছিবং, নাগপুরা, চিনডং, কাউয়ারখোপ, লাউডং, নয়াপাড়া, মগনাপাড়া, ওয়াশিলাপাড়া, কোয়াইংডং, বাজারভিটা, সাঙ্গুবিল, লম্বাবিল, ধম্বুছড়া ও প্রংপ্রুপাড়াসহ ১৪টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ গত সোমবার ভোর রাতে আনজুমানপাড়া শূন্য রেখায় পৌঁছলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। উপায়ন্তর না দেখে এসব রোহিঙ্গারা সেখানে খোলা আকাশের নিচে অবস’ান নেয়।
আনজুমান পাড়া মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা কাউয়ারখোপ গ্রামের সোনা আলী (৪৫) জানায়, বুচিডং
শহরের আওতায় প্রায় ৩৫টি গ্রামের মধ্যে ১৪টি গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের অসংখ্য মানুষ ইতিপূর্বে চলে এসে বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বাকি ৩০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা সোমবার ভোর রাতে নাফনদী পার হওয়ার চেষ্টা করলে নাফনদীর বেড়িবাঁধে তাদের ৩দিন আটকে রাখা হয়। এ সময় বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা অসুস’ হয়ে পড়ে। মানবিক কারণে অসুস’ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ছেড়ে দেওয়া হলেও বেশির ভাগ রোহিঙ্গাকে চিংড়ি প্রজেক্ট এলাকায় ধানী জমি ও হাঁটু পানিতে অবস’ান নিতে হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিজিবি সদস্যদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীকেও সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
আইওএম এর এক কর্মকর্তা জানান, আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে নিয়ে আসার ব্যাপারে আলোচনা চলছে। স’ানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এম এ মনজুর জানান, ঘটনাটি খুবই অমানবিক। যেহেতু আনজুমানপাড়া সীমান্ত রেখায় রাত যাপনের কোন পরিবেশ নেই। এসব রোহিঙ্গাদের পানির মধ্যে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে।
সরেজমিন ঘটনাস’ল আনজুমানপাড়া গিয়ে দেখা যায়, রেড ক্রিসেন্ট, ওয়াল্ড স্বাস’্য সংস’া, এমএসএফ-হল্যান্ড, উপজেলা স্বাস’্য বিভাগ আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা ও শুকনো খাদ্য সরবরাহ দিচ্ছে। জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আনজুমানপাড়া সীমান্তে ৩০/৪০ হাজারের মতো অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা আটকে পড়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই রাতের আঁধারে এপারে চলে আসলেও অসংখ্য রোহিঙ্গা এখনো প্রবেশের অপেক্ষায় অবস’ান করছে।