নেই সরকারি কৌঁসূলি, হচ্ছে না সাক্ষ্যগ্রহণ

আদালত ফটকে জেএমবির বোমা হামলা মামলার বিচার কাজে বিঘ্ন

সরকার হাবীব

নেই সরকারি কৌঁসূলি, হচ্ছে না সাক্ষ্যগ্রহণ। এমন অবস’া সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের। যে ট্রাইব্যুনালে রয়েছে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট এবং বিস্ফোরক আইনের মতো চাঞ্চল্যকর এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো। এ ট্রাইব্যুনালেই রয়েছে ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর আদালত ফটকে চালানো জেএমবির বোমা হামলায় দায়ের করা মামলাটিও। সম্প্রতি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল থেকে মামলাটি সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে স’ানান্তর করা হয়। উল্লেখ্য, সম্প্রতি জঙ্গি সংশ্লিষ্ট এবং বিস্ফোরক আইনের মামলাগুলোর কথা চিন্তা করে সরকার প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে একটি করে সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনাল স’াপন করে।
সূত্র মতে, দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে জেএমবির বোমা হামলা মামলাটি নানা কারণে আটকা পড়েছিল। কখনো সাক্ষীর জন্য, কখনো-বা বিচারক না থাকায় মামলাটি ওই ট্রাইব্যুনালে পড়ে থাকে।
এরই ধারাবহিকতায় ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এ মামলায় প্রায় ২৮ মাসে একজন সাক্ষীও আদালতে সাক্ষ্য দেয়নি। আরও জানা গেছে, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত মামলাটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে আটকা ছিল বিচারক না থাকায়।
আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন স’াপিত সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে পূরনো জেএমবির বোমা হামলা মামলাটি স’ানান্তরে আশার আলো দেখা গিয়েছিল। কিন’ তা আবার নিভে গেছে। এবার সরকারি কৌঁসূলি (প্রসিকিউটর) না থাকায় মামলাটি নিয়ে নতুন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কারণ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ করতে সরকারি কৌঁসূলির প্রয়োজন রয়েছে। এমন অবস’ায় বিচারক থাকার পরও শেষ করা যাচ্ছে না চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচার কাজ।
আদালতসূত্রে জানা গেছে, মামলাটির অন্যতম আসামি জেএমবির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাবেক কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ওরফে মোহাম্মদ ও বোমা তৈরির কারিগর জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজানকে গ্রেফতার করেছিল ভারতীয় পুলিশ। আরও জানা গেছে, মামলাটির ২ নম্বর আসামি ভারতে গ্রেফতার হওয়া বোমারু মিজান। মামলার আরেকজন দুর্র্ধর্ষ আসামি মো. জাবেদ ইকবাল। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে।
২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বরের সকাল বেলা। হঠাৎ আদালত ফটকে বোমা হামলা চালায় জঙ্গি সংগঠন জামায়েতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। সেদিন পুলিশের তল্লাশিচৌকির সামনে বোমা হামলা চালায় জঙ্গি সদস্যরা। ঘটনাস’লে মারা যায় চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল রাজীব বড়ুয়া ও বিচারপ্রার্থী ফুটবলার শাহাবুদ্দীন। আহত হন পুলিশ কনস্টেবল আবু রায়হান, সামসুল কবির, রফিকুল ইসলাম, আবদুল মজিদসহ প্রায় ১০ জন। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে জেএমবির চালানো বোমা হামলার ধারাবাহিকতা ছিল আদালত ফটকের ওই হামলা। বর্তমানে এটি পূরনো জেএমবি হিসেবে পরিচিত।
সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের পেশকার হাসনাত বলেন, মামলাটির কেসডকেট হাতে পেয়েছি। আগামী ১৮ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিনও ধার্য রয়েছে। পেশকার জানান, বিচারক নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই আর, এখন একমাত্র ঝামেলা সরকারি কৌঁসূলি নিয়ে। কৌঁসুলি নিয়োগ হলে সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে থাকা সবকটি মামলা পূনরায় সচল হবে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী সুপ্রভাতকে বলেন, কখনো সাক্ষী হাজিরের ক্ষেত্রে পুলিশের ব্যর্থতা, কখনো বিচারক শূন্যতা, আবার কখনো সরকারি কৌঁসুলি না থাকা। মামলাটির পেছনে লেগেই আছে একটার পর একটা সমস্যা। এসব কারণে চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর এ অবস’া। বিচার কাজ শেষ করতে এসব অজুহাত মেনে নেয়া যায় না। আশা করি, সরকার দ্রুত কৌঁসুলি নিয়োগ দিয়ে চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর বিচার কাজ শেষ করবে।