ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায়

আদালত প্রাঙ্গণে পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ, বিক্ষোভ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উচ্চ আদালত কর্তৃক ষোড়শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত রায় ও রায়ে বর্ণিত পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে গতকাল দুুুুপুরে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে পাল্টাপাল্টি প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম পৃথক দুটি সমাবেশের আয়োজন করে।
দুই পক্ষের ডাকা ওই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ কেন্দ্রীয় নির্দেশ মোতাবেক অনুষ্ঠিত হয়।
আদালতসূত্রে জানা যায়, দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ সমাবেশ করার পর মিছিল নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে। এসময় তারা ষোড়শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত রায় ও রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীদের সমালোচনাকে সরকারের ব্যর্থতা বলে দাবি করেন।
সমাবেশে উপসি’ত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক আব্দুর সাত্তার সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত রায় ও রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক যে বক্তব্য রেখেছেন, তা একপ্রকার বিচার বিভাগের বিপক্ষে কথা বলা। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস’া নেওয়া উচিত। আইন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে থেকে তিনি এমন বক্তব্য রাখতে পারেন না। আমরা তার অপসারণ চাই।
আদালত প্রাঙ্গণে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত রায়ের অংশে আপত্তিকর, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক ও অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণগুলো স্ব-প্রণোদিত পূর্বক প্রত্যাহারের দাবি জানায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। গতকাল দুপুরে প্রতিবাদ সভায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট রতন কুমার বলেন, ‘আদালতের রায়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি, বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্বে জাতি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এই দেশ স্বাধীন করেছে।’
উল্লেখ্য, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের যে পরিবর্তন ষোড়শ সংশোধনীতে আনা হয়েছিল, তা ‘অবৈধ’ ঘোষণার রায় গত ১ আগস্ট প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করা হয়। ওই রায় প্রকাশের পর থেকেই বাদ-প্রতিবাদ চলছে।