আদালতের রায় ১৬ বছর পর স্কুলে শিক্ষকতা ফিরে পেলেন উজ্জ্বল বিশ্বাস

সুপ্রভাত রিপোর্ট

বাঁশখালী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দীর্ঘ ১৬ বছর ৪ মাস আইনি লড়াই শেষে শিক্ষকতা পদ ফিরে পেলেন বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক উজ্জ্বল বিশ্বাস। স্কুল ব্যবস’াপনা কমিটি কর্তৃক এমপিওধারী শিক্ষক উজ্জ্বল বিশ্বাসকে ২০০১ সালের ১৪ জুলাই করা বরখাস্ত আদেশটি দো-তরফা সূত্রে অবৈধ, বেআইনি, অকার্যকর ও অসৎ উদ্দেশ্য ঘোষণা করে এবং বকেয়া বেতন ও অন্যান্য সুবিধাদি জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ন রেখে পূর্ব পদে খরচসহ বহাল করার জন্য বিবাদি পক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বাঁশখালী আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ সাইয়েদ মাহবুবুল ইসলাম।
সকল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ শিক্ষক উজ্জ্বল বিশ্বাস দীর্ঘদিন পর আদালতের রায়ে শিক্ষকতা ফিরে পাবায় বিষয়টি শিক্ষক সমাজেও আলোচিত হচ্ছে। মামলা পরিচালনায় কৌঁসুলি হিসেবে ছিলেন বাদি পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী দিলীপ কান্তি দাশ ও দিলীপ সুশীল। বিবাদি পক্ষে মুজিবুল হক চৌধুরী।
গত ৮ নভেম্বর এই রায় দিলেও ডিসেম্বর মাসে আদালত অবকাশকালীন বন্ধের কারণে গত ১১ জানুয়ারি শিক্ষক উজ্জ্বল বিশ্বাস মামলার রায়ের সত্যায়িত নকল পেয়েছেন।
মামলার আর্জি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বাণীগ্রাম-সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস’াপনা কমিটি এমপিওধারী শিক্ষক উজ্জ্বল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে অনুপসি’তি ও স্কুল কমিটির সভাপতিকে গালিগালাজের অভিযোগ আনা হয়। গত ২০০১ সালের ১৪ জুলাই শিক্ষক চাকরির শর্তাবলীর ৬ প্রবেশন-২ বিধির অনুবলে তাকে শিক্ষানবীশ শিক্ষক দেখিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরখাস্ত করেন।
শিক্ষক উজ্জল বিশ্বাস ওই বরখাস্ত আদেশ চ্যালেঞ্জ করে বাঁশখালী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ২০০১ সালের ৩০ জুলাই মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তিনি যুক্তি উপস’াপন করেন, উক্ত বিদ্যালয়ে ১৯৯৭ সালের ২ অক্টোবর নিয়োগের পর থেকে তাঁর বরখাস্ত আদেশ ২০০১ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন মোট ৩ বছর ৯ মাস ১২ দিন। এছাড়া এর পূর্বেও আনোয়ারা উপজেলার বশিরুজ্জামান স্মৃতি শিক্ষা কেন্দ্র নামক উচ্চ বিদ্যালয়ে আড়াই বছর শিক্ষকতা করেন। ওই বিদ্যালয়ের একই এমপিও নম্বর ২৬৪৬৭২ এর অনুবলে উক্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় যোগদান করেন। অতএব তিনি শিক্ষানবীশ কিংবা অস’ায়ী শিক্ষক ছিলেন না । এছাড়া কোন শিক্ষককে বিদ্যালয় ব্যবস’াপনা কমিটি বরখাস্তের পূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আপীল ও আরবিট্রেশন বোর্ডের অনুমতি নিতে হয় এবং শিক্ষককে বরখাস্ত করার পূর্বে চাকরি বিধি অনুসারে অন্তত ৩ বার কারণ দর্শানো নোটিশ দিতে হয়।
বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ৪ মাস নানা ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে মামলা পরিচালনা করেছি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি শিক্ষক চাকরি বিধির দোহাই দিয়ে বরখাস্ত করলেও বরখাস্ত আদেশের সাথে বাস্তবতার ন্যূনতমও মিল ছিল না। দীর্ঘদিন হলেও আদালতের কাছে ন্যায় বিচার পাওয়াতে আমি খুশি। আমি বর্তমান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছে সহযোগিতা চাই। আমার বাবা একজন শিক্ষক ছিলেন বলে পিতার আদর্শে আমি শিক্ষকতা পেশায় এসেছি।
বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঋষিকেশ ভট্টচার্য্য বলেন, ‘মামলার রায় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিধি বিধান মেনে ব্যবস’া নেয়া হবে।’
বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি কে এম সালাহ উদ্দিন কামাল বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মামলার রায় প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে চলবে। এখানে কারো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই।’
বাঁশখালী উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি তাহেরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছরের অধিক সময় মামলা পরিচালনা করে শিক্ষক উজ্জ্বল বিশ্বাস স্বপদে ফিরে আসায় সমিতির পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানাই। আমরা শিক্ষকরা সার্বক্ষণিক তার পাশে থাকব।’
বাঁশখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘মামলার রায়ের বিষয়টি শুনেছি। র্দীঘদিন মামলা পরিচালনা করে শিক্ষক উজ্জ্বল বিশ্বাস তার অধিকার আদায়ে য়ে লড়াই করেছেন তা অনন্য দৃষ্টান্ত।’
বাদি পক্ষের আইনজীবী দিলীপ কান্তি দাশ বলেন, ‘স্কুল কমিটির বরখাস্ত আদেশটির বিরুদ্ধে আমরা প্রকৃত যুক্তি উপস’াপন করেছি। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন।’
বিবাদি পক্ষের আইনজীবী মুজিবুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আদালতের রায়ের ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই।’