এক মায়ের ব্যতিক্রমী পুত্রস্মৃতিকথা

আত্মজ-জীবনীতে আত্ম-অনুসন্ধান

মুহাম্মদ ইব্রাহীম

লেখিকা প্রতিমা পাল-মজুমদার বইটি লিখেছেন তাঁর বড় ছেলে অনিন্দ্য মজুমদারের (বাপ্পু) অকাল মৃত্যুর অসহ্য শোককে ছেলের স্মৃতিকথায় রূপ দেবার মাধ্যমে কিছুটা সহ্যের মধ্যে নিয়ে আসতে। বইয়ের নামকরণে(ব্যাথারে মধুর করি) সে কথা তিনি যেমন বলে দিয়েছেন, বইয়ের প্রতিটি ছত্রে যখন যে বিষয়ই আসুক না কেন তাঁর সেই চাপা দেয়া দীর্ঘশ্বাসটি একেবারে চাপা থাকেনি। তবে সেই চেষ্টারমধ্যে তিনি একটি অসাধারণ কাজ করেছেন। মাত্র উঠতি-তারুণ্যে নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়া আত্মজের অদ্ভুত প্রাণবন্ত ও সার্থক জীবনকে তুলে আনতে গিয়ে তিনি হয়তো নিজের অজান্তেই আমাদের লেখালেখির জগতে একটি চমকপ্রদ ধারার দিশারী হয়েছেন। সেখানে ছেলের ও নিজের মনন একাকার হয়ে যায়, মনে হয় আসলে আমরা এখানে যেন লেখিকার নিজের আত্মজীবনীরই সব থেকে গহীন কুঠুরীতে প্রবেশ লাভ করেছি; আত্মজ-জীবনীকে তিনি পরিণত করেছেন আত্ম- অনুসন্ধানে।
বাপ্পু মাত্র৩১ বছর বয়সে ক্যানসারে মারা গিয়েছে, কিন্তু এই অল্প কিছু বছরের মধ্যেও নিজের চিন্তার স্বকীয়তা, জানার উৎসাহের ব্যাপ্তি, অল্প বয়সে গুরু দায়িত্ব আনন্দের সঙ্গে নিজের ওপর তুলে নিয়ে তাতে সম্পূর্ণ আত্মনিয়োগ ও সার্থকতা অর্জন, এবং সর্বোপরি বাঁচার মত বেঁচে সবাইকে নিয়ে জীবনের সৌন্দর্যকে উপভোগ করার যে সক্ষমতা দেখিয়েছে এই বইয়ে তার চমৎকার সব পরিচয় রয়েছে। লেখিকা নিজে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এ সবের অনেক কিছুর অতি অন্তরঙ্গ সাথী। তাই তাঁর লেখায় ছেলের জীবনের এক একটি দিকের বর্ণনা আছে, বিশ্লেষণও আছে, কিন্তু সব চেয়ে বেশি আছে তার ভেতর বাহির বুঝতে পারার একটি আশ্চর্য ক্ষমতা। এই বইয়ে অবশ্য এ কাজটি তিনি একা করেননি। বাপ্পুর অতি ঘনিষ্ঠ আরো কয়েক জনের প্রচুর উদ্বৃতি এখানে রয়েছে যেগুলোও ৩১ বছরের এই জীবনটিকে বুঝতে খুবই সহায়ক হয়েছে। আসলে ওঁদের কেউ কেউ শুধু নিজেরাই বইটি লিখতে পারতেন- বিশেষ করে বাপ্পুর বড় মামা অথবা তার মাসী; যাঁরাও বাপ্পুর বেড়ে ওঠা ও পুষ্পিত হওয়াটি খুব হৃদয়ের সঙ্গে দেখতে পেয়েছেন। এটি যদি তাঁরা লিখতেন তা হলে হয়তো আমরা মাত্র তিন দশকের আলোক চমকানো একটি জীবন-আলেখ্য পেতাম কিন্তু ‘ব্যাথারে মধুর করি’ নামের এই সৃষ্টি কর্মটি পেতামনা।
তাই ফিরে যেতে চাই সেই মূল কথাটিতে যে কারণে বইটি আমার এত ভাল লেগেছে- ছেলের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে তার মধ্যে লেখিকার আত্ম-অনুসন্ধানের প্রয়াসটিতে। বাপ্পু যখন বিদেশে লেখাপড়া শেষ করে নিজের জীবনের হালটি শক্ত ভাবে হাতে নিয়েছে তখন মারাত্মক অসুখের খবরটিতে অনেকে বিপর্যস্ত হয়েছেন। কিন্তু লেখিকার ক্ষেত্রে সেই দিনটি হয়েছে জীবনের একটি বিরাট মোড় নেয়া। এরপর তাঁর আত্ম-অনুসন্ধান সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে; এক অর্থে মা-ছেলে উভয়ের জীবন এবারই এক স্রোতে লীন হয়েছে এবং দীর্ঘ আড়াই বছর তা ক্রমে আরো একাকার হয়ে অবশেষে অসীমের পথে মিশে গেছে। এর মানে অবশ্য এই নয় যে আত্ম-অনুসন্ধানটির পালা সেদিনই শুরু হয়েছিলো। সন্তান জন্ম-মুহূর্ত থেকেই তিনি সেই সন্তানের প্রতি কর্তব্য পালনে কিছু কল্পিত ত্রুটি নিয়ে নিজের মনের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন, পরে ছেলে সামান্য কথা বলা শেখার পর থেকেই ছেলের সঙ্গেও এক রকম কথোপকথন চালিয়ে গেছেন তার মন বোঝার জন্য। আরো পরে দুজনে দুনিয়ার তাবৎ বিষয়ে তার সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করেছেন, তাঁরা পরস্পরকে পরামর্শ দিয়েছেন, নানা কাজে পরস্পরকে উৎসাহিত করেছেন; লেখিকার ভাষ্য অনুযায়ী ছেলে চলে যাবার পরও তাঁদের সেই আলোচনা এখনো চল্‌ছে। মূল যুদ্ধটি এই সব কিছুর মধ্যে কিছুটা মিশে ছিলো, এখনো আছে। মাত্র আট মাস বয়সে ছেলেকে দেশে রেখে তরুণী লেখিকা পোল্যান্ডে তাঁর পি এইচ ডি গবেষণা শেষ করতে চলে গিয়ে, ছেলের জীবনের প্রায় প্রথম তিনটি বছর তার থেকে দূরে থেকে, তিনি ওর মৌলিক কোন ক্ষতি করেছেন কিনা সেই মর্ম যাতনা নিয়েই এই যুদ্ধটি। এ নিয়ে জীবনভর লেখিকা নিজের মনে নানা থিওরি খাড়া করেছেন, অন্যদের থিওরিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি নিজেকে দায়ী করে খুবই নেতিবাচক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, বিশেষ করে ছেলে রোগাক্রান্ত হবার পর। ছেলের এই অসুখের জন্যও নিজেকে দায়ী করেছেন তিনি। তাছাড়া অন্য নানা বিষয়েও নিজের মনের সঙ্গে যুদ্ধ চলছিলো বহু আগে থেকেই। উদাহরণ স্বরূপ কেন সব বিষয়ে এত পড়াশুনা ও এত ধী-শক্তির পরিচয় দেয়ার পরও বাপ্পু ক্লাসে প্রথম কয়েক জনের মধ্যে থাকতে পারেনা সেজন্য তিনি নিজকে তো দায়ী করেছেনই উপরন্তু স্কুলে কম মেধাবী ছাত্রদেরকে ভর্তি করার নিয়ম ইত্যাদিকেও দায়ী করেছেন। বাপ্পু নিজে কিন্তু এ নিয়ে চিন্তিত ছিলনা, কারণ সে জানে সে ঠিক পথেই আছে; এখানকার পাঠদান ও পরীক্ষা সিষ্টেমই মায়ের জন্য সমস্যাটি সৃষ্টি করছে, ওটি তার সমস্যা নয়। আমেরিকায় সঠিক সিষ্টেম পেয়ে উচ্চ ফলাফল করার মাধ্যমে সে কথা সে প্রমাণ করেছে। এ যুদ্ধ কতখানি যথার্থ ছিল বা আছে তার বিচারে না গিয়েও পাঠক অবাক হয়ে দেখবেন, এবং ব্যথাভরা মনে চমৎকৃত হবেন আত্মজ-জীবনী কেমন করে আত্মজীবনী হয়ে উঠতে পারে- খুবই গভীর এক অর্থে।
অসুখের খবরটি আসার পর থেকে স্পষ্টত এ রোগের এক একটি আক্রমণ প্রধানত যেন লেখিকার নিজের জীবনের ওপরেই ঘটেছে। ‘প্রথম আক্রমণ’, ‘দ্বিতীয় আক্রমণ’ এমনি করে করে বইয়ের এক একটি উপ-অধ্যায়ের নাম এসেছে একেবারে ‘চতুর্থ আক্রমণ’ পর্যন্ত। লেখিকা প্রচণ্ড ভাবে অনুভব করেছিলেন বলেই পাঠক নিজেও অনুভব করবেন এই এক একটি নতুন আক্রমণের আঘাতকে, এর পেছনে নিয়তির খেলাকে। ইতোমধ্যে অর্থনীতিবিদ প্রতিমা পাল-মজুমদারধীরে ধীরে পরিণত হয়েছেন এই ক্যান্সার রোগের সর্বশেষ গবেষণা ও নিরাময় বিষয়ক একজন বোদ্ধাতে ও যোদ্ধাতে; তাঁর অবিরত ইন্টারনেট-অনুসন্ধানের ফলে এবং সিঙ্গাপুরের ডাক্তারের সঙ্গে নিয়মিত দীর্ঘ আলাপ করার সুবাদে। প্রত্যেক আক্রমণের পর চিকিৎসায় পূর্ণ নিরাময় হবার পর তাঁর আনন্দ যেমন তুঙ্গে উঠেছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর আস্থাও বেড়ে গেছে আরো অনেকখানি। যেন প্রত্যেকবার মনে হয়েছে এ বিজয় শুধু চিকিৎসা বিজ্ঞানের নয়, এটি তাঁর বিজয়। কিন্তু হায় বার বার কিছু দিন পরেই অপ্রত্যাশিত ভাবে এসেছে পরবর্তী আক্রমণ। অবশ্য শেষ পর্যন্ত সবকিছু নিয়তিই বটে; একেবারে শেষ চেষ্টায় গিয়ে ডাক্তার বল্‌লেন বাপ্পুর দেহে পুনস্থাপনের জন্য অস্থিমজ্জাটি এমন কোন আত্মীয় থেকে নিতে পারলে হয়তো কাজ করতো, যার বাবা মা দুজন পরস্পরের কাজিন, কারণ তা হলে ওর মধ্যে একই জেনেটিক গুণটি বলিষ্ঠ হতো। এটি শুনে এত সবের মধ্যেই বাপ্পু মা’কে বলে যে হিন্দুদের মধ্যে কাজিন বিয়ে প্রচলিত না থাকাতেই তার জন্য এ সুযোগটা পাওয়া গেলনা- বরং মুসলিমদের মধ্যে কাজিন বিয়ের নিয়ম থাকাটিই অনেক ভাল। মা ঠিকই তর্ক করেন কাজিন বিয়েতে বংশগত রোগের সম্ভাবনা বাড়ে, কিন্তু ছেলে হার মানেনা; বলে আধুনিক বিজ্ঞান বংশগত রোগ ঠিকই সামাল দেবে, কিন্তু কাজিন বিয়ে ছাড়া বলিষ্ঠ অস্থিমজ্জাতো দিতে দিতে পারবেনা। দু’জনেই সব বিষয়ে সমানে সমান জ্ঞান রাখেন- তাই নিয়তি মেনে নিয়েও, দারুণ হতাশার কারণ থাকা সত্ত্বেও দুজনেই প্রাণবন্ত। আত্মজের সঙ্গে মায়ের এরকম সব মুহুর্ত পাঠক কোন সাহিত্যে খুব বেশি পাবেননা।
চিকিৎসার শেষের পর্যায়ে লেখিকা ও ছেলের সিঙ্গাপুরে মাসের পর মাস একসঙ্গে কাটানোর কাহিনীটি বোধ হয় এই বইয়ের সব থেকে বেদনাদায়ক অথচ সব থেকে মূল্যবান অংশ। বলতে গেলে আরোগ্যের সম্ভাবনা ক্রমে কমে যাচ্ছে, চিকিৎসা জটিলতর হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর, চিকিৎসকের ওপর এবং নিজের জীবনী-শক্তির ওপর বাপ্পুর আস্থা অবিচল- যে আস্থা সে মায়ের মধ্যেও সঞ্চারিত করে। চিকিৎসার প্রয়োজনে ছাড়া একটি দিনও বাজে খরচ করেন না তাঁরা- হতাশায় ডুবে যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠেনা। ইন্টারনেটে দূর থেকে তাঁর পেশাগত কাজ চলে অর্থনীতিবিদ প্রতিমা পাল-মজুমদারের। ছেলের কাজও চলে যথাসম্ভব। আরো ভাল চলে সিঙ্গাপুরের জীবনকে আস্বাদনের। ছেলের ইচ্ছায় দু’জনের হেঁটে ভ্রমণে সিঙ্গাপুরের অজানা রাস্তাঘাট দর্শনীয় স্থান কিছু বাদ যায়না, বাদ যায়না নতুন বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টের নতুন নতুন খাবার। ডাক্তারের পরামর্শও তাই- হাঁটতে হবে, শরীর ভাল রাখতে হবে। দেশী বিদেশী পরিচিতদের কাছে গিয়ে নানা বিষয়ে তর্ক, আলোচনা, সেমিনার সবই চলে- বিশেষ করে মায়ে ছেলেরচিরকালের প্রাণবন্ততর্ক দুনিয়ার তাবৎ বিষয় নিয়ে; অসুখের আলোচনা তার একটি ছোট অংশ মাত্র। বাপ্পুর জীবনের শেষ মাত্র নয়টি দিন এর ব্যতিক্রম হয়েছিলোযখন তাকে ভেন্টিলেটরে আবদ্ধ থাকতে হয়েছিলো। ওদের চাক্ষুষ একত্র জীবন শুধু সেদিনই থমকে দাঁড়িয়েছিলো। বিত্ত, অদ্ভুত রকম নিবেদিত সন্তান-বৎসল বাবা, দাদাকে ঘনিষ্ঠতম বন্ধু ভাবা ভাই, আমেরিকা থেকে ছুটে আসা অত্যন্ত প্রাজ্ঞ ও সংবেদনশীল খ্যাতনামা বড় মামা যিনি বাপ্পুকে নিজের উপযুক্ত সঙ্গীও সমকক্ষ মনে করতেন- সবাই ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বটবৃক্ষের মত একটি শক্ত ও বিস্তৃত পরিবার তার সঙ্গে খাড়া ছিল। কিন্তু তারপরও এই কাহিনীটি একান্তই মায়ের ও ছেলের কাহিনী, আত্মজকে নিয়ে লেখিকার আত্ম-অনুসন্ধানের কাহিনী।
বিনয়ের সঙ্গে আমার দুটি বক্তব্য রয়েছে এই বইয়েরপ্রসঙ্গে। শিশুর মানসিক ও শারীরিক গঠনে এক দিকে তার জন্মসূত্রে পাওয়া ডি এন এ এবং অন্যদিকে তার লালন পালনের যে ভূমিকা সেই বিষয়ে আধুনিকতম বিজ্ঞানের একজন উৎসাহী ছাত্র হিসেবে যতটুকু জানি তাতে মনে করি এ সম্পর্কে লেখিকার ধারণাটি ভুল। এ সম্পর্কে সাম্প্রতিকতম জ্ঞান অনুযায়ী শিশু মাত্রই তার যাবতীয় বৈশিষ্ট ও সম্ভার ডিএনএ’র মাধ্যমে জন্মের সময় সঙ্গে নিয়ে আসে। এরপর মোটের ওপর উপযুক্ত লালন-পালন এবং পরিবেশ পেলে এবং বড় বাধা না পেলে এগুলো বিকশিত হবেই। এমনকি অল্প বিস্তর অসুবিধার মধ্যেও তা হবে- সবার ক্ষেত্রে একই বৈশিষ্টের বিকাশ একই ধারায় না হলেও। আর শারীরিক সুস্থতা, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা এগুলোর ডিএনএ একমাত্র চরম অসুবিধার মধ্যেই কিছুটাক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাও প্রধানত গর্ভে থাকাকালীন সময়ে। পি এইচ ডি করতে গিয়ে সন্তানকে কাছে না রাখতে পারার কারণে ছেলের মৌলিক মানসিক গঠনে স্থায়ী কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ কারণ এখানে কোন স্পষ্ট বড় অযত্ন, অনাদর, বৈষম্য ছিলনা অথবা উষ্ণ ঘনিষ্ঠতারও অভাব ছিলনা। আর ছেলের ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর এর প্রভাব থাকার সম্ভাবনা একেবারেই নেই। এ সম্পর্কে লেখিকার অপরাধবোধ অমূলক। একই ভুল না করতে তিনি অন্য মায়েদের যে পরামর্শ দিয়েছেন,তাও অনুরূপ ক্ষেত্রে যথার্থ নয়।
আমার অন্য বক্তব্যটি হলো বইটির প্রকাশনা নিয়ে। আগেই বলেছি বইটি একটি সাহিত্য কর্ম- যার মূল আবেদন রীতিমত ব্যতিক্রমী। এর প্রকাশনা হওয়া উচিত অন্য সব সৃজনশীল সাহিত্য কর্মের অবয়বে। বাংলা ও ইংরেজী রূপ এক সঙ্গে না করে এবং দ্বিভাষিক উদ্ধৃতি, ছবি, সামগ্রিক আঙ্গিক ইত্যাদিতে পরিমিতি ও পরিবর্তন এনে এটি এখনো করা সম্ভব।

আপনার মন্তব্য লিখুন