আত্মগোপন থেকে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে বক্কর

নিজস্ব প্রতিবেদক

আত্মগোপন থেকে আধা ঘণ্টার জন্য বের হয়েছেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।গতকাল রোববার বিকেলে নগরীর জামাল খান পশ্চিম আসকারদীঘির পাড় এলাকার একটি গলি থেকে বের হয়ে পায়ে হেঁটে বিএনপির গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। কর্মসূচিতে উপসি’ত বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে হঠাৎ দেখে বিস্মিত হন।
৮ ফেব্রুয়ারি নগর বিএনপির কার্যালয় নাসিমন ভবনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের
সংঘর্ষের ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় দায়েরকৃত দুটি মামলায় আসামি করা হয় বক্করকে। দ্রুত বিচার আইনে এবং সন্ত্রাস দমন আইনে পৃথক এ দুটি মামলা দায়ের হওয়ার পর আত্মগোপনে চলে যান এবিএনপি নেতা। এতোদিন গ্রেফতারের ভয়ে দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি তিনি।
গতকাল জামাল খাঁন ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে তিনি হঠাৎ উপসি’ত হন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল দুইটার দিকে কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুর রহমান চৌধুরী ও নগর মহিলা দলের সভানেত্রী মনোয়ারা বেগম মনির নেতৃত্বে এ কর্মসূচি শুরু হয়। বিকেল ৪টার দিকে পশ্চিম আসকারদীঘি পাড় এলাকার শতদল ক্লাবের সামনে এসে হাজির হন আবুল হাশেম বক্কর। তিনি সেখান থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে স’ানীয় লোকজনের কাছ থেকে ফরমে স্বাক্ষর নেন।প্রায় আধা ঘণ্টা সময় পর্যন্ত তিনি কর্মসূচিতে ছিলেন। এরপর পায়ে হেঁটে পশ্চিম আসকারদীঘি পাড় এলাকার একটি গলি দিয়ে তিনি দ্রুত গতিতে চলে যান।

নগর মহিলা দলের সভানেত্রী ও কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনি সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা তখন গণস্বাক্ষর কার্যক্রম করছি। হঠাৎ দেখি একটি গলি থেকে পায়ে হেঁটে শতদল ক্লাবের সামনে ছুটে আসেন বক্কর ভাই। নেতাকর্মীরা সবাই উনাকে দেখে অবাক হয়ে যান। যদিও কর্মসূচিতে উনার অংশ নেওয়ার বিষয়টা আমরা আগ থেকে জানতাম না। তিনি অনেকক্ষণ ধরে আমাদের সঙ্গ দেন। স্বাক্ষর করতে স’ানীয় লোকজনকে উৎসাহিত করেন। এরপর হঠাৎ তিনি স’ান ত্যাগ করেন।’এ বিষয়ে জানতে গতকাল সন্ধ্যায় ফোনে আবুল হাশেম বক্করের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তার একান্ত সহকারী (পিএস) ইকবাল শহীদ সুপ্রভাতকে বলেন, ‘যুদ্ধের ময়দানে সেনাপতিকে কৌশল অবলম্বন করতে হয়। তিনি (বক্কর) এখন এক জায়গায় থাকেন না। আজকে এখানে, কালকে ওখানে।’
নগর কোতোয়ালী থানার ওসি জসীম উদ্দিন সুপ্রভাতকে বলেন, ‘আসকারদীঘি পাড়ে বিএনপির কর্মসূচিতে তার (বক্কর) আসার খবরটা আমাদের জানা ছিল না। আমরা তাকে (বক্কর) খুঁজতেছি। তিনি পার্টি অফিসে দলের কোনো প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছেন না। বাড়িতেও থাকেন না। আজকে (গতকাল) কোর্টে নগর বিএনপি নেতারা জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেওয়ার সময়ও তাকে আমরা পাইনি। পালিয়ে কতদিন বেড়াবে ? হাতের নাগালে একদিন তো পাবো।’