চকরিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিকার ও প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা

আতংক নয় চাই সচেতনতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর গত দুই মাসে অন্তত হাজারখানেক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে সনাক্তের পর একজন ছাত্রলীগ নেতা মারা গেলেও উপজেলা প্রশাসন দাবি করেছেন গোচরে-অগোচরে ১৮জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ডেঙ্গুর প্রতিকার ও প্রতিরোধে জনসচেতনতামুলক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা করেছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন।গত বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন ‘মোহনায়’ আয়োজিত কর্মশালায় ডেঙ্গু রোগ নিয়ে অহেতুক আতংকিত না হয়ে প্রাথমিক পর্যায়েই ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। এই কর্মশালায় চকরিয়ায় ডেঙ্গুতে সতেরজন মারা গেছে বলে তথ্য উপস’াপন করা হয়েছে। দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ডেঙ্গু রোগ ছড়ানো এডিস মশা নিধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে জানিয়ে কর্মশালার সভাপতি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বেসরকারি সংস’া সুজনের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, চকরিয়ায় গত দুই মাসে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৮জন মারা গেছে। কিন’ তার বিস্তারিত তথ্য প্রশাসনকে এখনো দেয়া হয়নি। তাই রোগ প্রতিরোধে নানা কর্মসুচি গ্রহণ করা হচ্ছে।তিনি বলেন আতংক নয় এরোগ প্রতিরোধে চাই সচেতনতা। তিনি বলেন, পৌরসভা ও উপজেলার সমন্বয়ে দুটি টিম মশা নিধনে একযোগে কাজ করবে। এছাড়া গ্রামীণ জনপদের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলা হয় নিজ নিজ বসতঘরের চারপাশে পঁচা-ময়লা আবর্জনামুক্ত রাখতে হবে স্ব-স্ব পরিবার সদস্যদের। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে টাকার অভাবে দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা রোগ সনাক্তের পরীক্ষা দিতে অক্ষম হচ্ছে। সেই কারণে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর পরিচালনা বোর্ড প্রধানদের কর্মশালায় ডেকে বলা হয় হতদরিদ্রদের বিনামূল্যে ও মধ্যম আয়ের লোকজনকে পরীক্ষা করতে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ফি ছাড় দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব জাফর আলম। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা স্বাস’্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহবাজ।কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন চিরিংগা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জসীম উদ্দিন, অধ্যক্ষ মাওলানা রহুল কুদ্দুস আনোয়ারী, মাসউদ মোরর্শেদ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বেসরকারি হাসপাতালের প্রধানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিবৃন্দ।