আটকে গেল চসিকের বিজ্ঞাপন নীতিমালা

নীতিমালায় বিলবোর্ড স্থাপনের সুযোগ থাকবে না : মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘বিলবোর্ড স্থাপনের ‘ধারা’ থাকায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে আটকে গেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বিজ্ঞাপন নীতিমালা। গতকাল বুধবার দুপুরে আন্দরকিল্লায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত চসিকের ২৬ তম সাধারণ সভায় বিজ্ঞাপন নীতিমালা অনুমোদনের জন্য উত্থাপিত হলেও তা পাশ হয় নি।
জানা গেছে, নাগরিক প্রত্যাশার কারণে বিলবোর্ডের প্রতি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনীহা রয়েছে।
চসিকের একজন কাউন্সিলর সুপ্রভাতকে বলেন, ‘নগরীতে বিলবোর্ড আবার প্রবর্তন হোক- এটা মেয়র চান না। এছাড়া চসিকের ৫ম পরিষদের সদস্যরাও বিলবোর্ডের প্রতি আপত্তি জানিয়েছেন। এজন্য বিজ্ঞাপন নীতিমালা সাধারণ সভায় অনুমোদন হয়নি। এক্ষেত্রে খসড়া নীতিমালাটি সংশোধন করে পরবর্তী সাধারণ সভায় তোলা হতে পারে।’
চসিকের ‘বিজ্ঞাপন’ নীতিমালা নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনা প্রসঙ্গে সাধাণ সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন-২ শাখা কর্তক গত ৩০ মার্চ জারিকৃত অফিস আদেশ উপস্থাপন করে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্দেশ্যে উদ্যোগী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সৌন্দর্য বর্ধন ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করে প্রস্তাব আকারে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের জন্য বলা হয়েছে।’
মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দায়িত্ব গ্রহণ করার পূর্বে নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনের বিষয়ে নগরবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নগরীতে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ, এলইডি লাইটিং, অত্যাধুনিক যাত্রীছাউনি, আধুনিক গণশৌচাগার, অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানামুখি উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব বাস উপযোগী চট্টগ্রাম গড়ার কার্যক্রম অব্যাহত আছে। দায়িত্ব গ্রহণ করার পর পর নগরীর নৈসর্গিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দৈত্য-দানবের মত ঘিরে রাখা বিলবোর্ড অপসারণ করে নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণ করা হয়েছে।’
সিটি মেয়র আরো বলেন, ‘বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, ব্যানারসহ সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন প্রদর্শন যাতে নির্দিষ্ট নিয়ম-শৃঙ্খলার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়; সে লক্ষ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়নের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। নীতিমালার একটি খসড়া তৈরি করে দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। নীতিমালা চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন খাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আয় বৃদ্ধি পাবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন গতকাল বুধবার রাতে টেলিফোনে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে বিজ্ঞাপন নীতিমালা চাওয়াতে তা দেওয়া হচ্ছে। তবে এই নীতিমালাতে বিলবোর্ড স্থাপনের কোন সুযোগ রাখবো না। এছাড়া কোন সংস্থাও যেন নগরীতে বিলবোর্ড স্থাপনের সুযোগ না পায়, সে ব্যবস্থাও আমরা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবো।’
সভাপতির বক্তব্যে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন হোল্ডিং ট্যাক্স প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইতোমধ্যে অ্যাসেসমেন্টের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। করদাতাদের বিনামূল্যে পি-ফরমের মাধ্যমে আপিল করার জন্য মাধ্যমে সুযোগ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আপিল বোর্ড গঠিত হয়েছে। পৌর করদাতাগণ আপিল বোর্ডে হাজির হয়ে তাদের মতামত উপস্থাপন করার সুযোগ পাবেন। আপিল বোর্ড যাচাই বাছাই করে চূড়ান্তভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করার পর তা কার্যকর হবে।’
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনেকটা সফলতা এসেছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘ডোর-টু-ডোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ সফলতা আসবে।’
ফুটপাত ও হকার প্রসঙ্গে আ জ ম নাছির বলেন, ‘কোতোয়ালী এলাকায় হকারদের শৃংখলার বেষ্টনীতে আনার কাজটি প্রায় শেষ হয়েছে। অন্যান্য এলাকায়ও হকারদের শৃংখলায় নিয়ে আসার কার্যক্রম অব্যাহত আছে। হকারদের শৃংখলার মধ্যে এনে নগরবাসীকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’