মামলার জের

আটকে গেছে রেলের ১১১৩ ওয়েম্যান নিয়োগ

ভূঁইয়া নজরুল

মৃধা নয়, এবার মামলা আতঙ্কে আটকে যাচ্ছে রেলওয়ের জনবল নিয়োগ কার্যক্রম। ১১১৩টি ওয়েম্যান পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স’গিতাদেশ রিট মামলা হয়েছে। একই কারণে মামলা হতে যাচ্ছে ৮৬৫ জন খালাসি নিয়োগ বিজ্ঞাপনে। অপরদিকে নিয়োগ বিজ্ঞাপনে ভুল বেতন স্কেল প্রকাশ করায় মামলা হতে পারে ২৭০ জন সহকারী স্টেশন মাস্টারের নিয়োগ কার্যক্রমেও।
রেলওয়ের এক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের সদর দপ্তর সিআরবিতে ফ্যাক্সযোগে ওয়েম্যান পদে ১১১৩ জনের নিয়োগ কার্যক্রমে ওপর আদালতের স’গিতাদেশের কপি এসে পৌঁছে। পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের জিএম মকবুল আহম্মদের দপ্তরে এ ফ্যাক্স আসে।
ফ্যাক্স বার্তায় কি লেখা রয়েছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রেলওয়ে কর্মকর্তা জানান, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রকাশিত ওয়েম্যান পদের নিয়োগ নিয়ে আদালতের স’গিতাদেশের আইনি নোটিশ এসেছে। সেই নোটিশে আগামী ৬ মাসের জন্য নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর স’গিতাদেশ রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে কর্মরত ১০ জন কর্মচারীর দায়ের করা রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ স’গিতাদেশ দেয়া হয়েছে। বাদিদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়েতে ওয়েম্যান পদে দৈনিক ভিত্তিতে কর্মরত লোকদের চাকরি স’ায়ী না করে নতুন করে লোক নেওয়া আইনসঙ্গত নয়। তাই তাদেরকে আগে নিয়োগ দিতে হবে।
গত ১২ মে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে ১২ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চলের পরীক্ষার্থীদের ও ১ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত পূর্বাঞ্চলের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল। এখন এ রিটের কারণে ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের চাকরি প্রায় অনিশ্চিত হয়ে গেল। এতে আক্ষেপ করে কুমিল্লা জেলার প্রার্থী হাবিবুর রব বলেন, ‘শুনেছি এর আগের ওয়েম্যান পদে নিয়োগটিও রিট মামলার কারণে প্রায় চার বছর পর গতবছর নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আমাদের ভাগ্যেও কি একই পরিণতি রয়েছে কি-না জানি না।’
এদিকে একাধিক রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শুধু ওয়েম্যান নয়, খালাসি পদে ৮৬৫ জনের নিয়োগ কিংবা সহকারী স্টেশন মাস্টার পদে ২৭০ জনের নিয়োগ কার্যক্রমের উপরও রিট মামলা হতে পারে। এর কারণ হিসেবে কর্মকর্তারা জানান, খালাসি পদেও দৈনিক ভিত্তিতে অনেক কর্মচারী কর্মরত রয়েছে। তাদের নিয়োগ স’ায়ী করা হয়নি। এ পদে এখন নিয়োগ পরীক্ষা (মৌখিক) চলছে। এছাড়া সহকারী স্টেশন মাস্টার পদে পুরাতন বেতন কাঠামো অনুযায়ী স্কেল ৪৯০০ হওয়ার কথা থাকলেও বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে ৪৭০০। যা সম্পূর্ণ ভুল। এতে শিগগিরই সংশোধিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করা হলে এই পদেও রিট মামলা হতে পারে।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের অজ্ঞতার কারণে বারবার রেলওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জানিয়ে রেলওয়ে সংগ্রাম পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়কারী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আগে থেকে দৈনিক ভিত্তিতে কর্মরত লোকদের চাকরি দিলে রেলের লাভ। কারণ এসব লোক রেলের কাজ জানে ও বোঝে। আর নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত অনেকে কাজ বুঝতে অনেক সময় নেয়। এছাড়া মানবাধিকার বিবেচনায়ও তাদের নেয়া উচিত। এখন তাদের দায়ের করা রিট মামলার কারণে রেলের জনবল নিয়োগ কার্যক্রম আরও পিছিয়ে যাচ্ছে।’
বেতন স্কেল ভুল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় কোন স্কেলে কত বেতন হওয়ার কথা তা কর্মকর্তাদের জানা উচিত। সহকারী স্টেশন মাস্টার পদটি আগের বেতন কাঠামো অনুযায়ী ১৫ গ্রেডের।’
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস’াপক (জিএম) কে একাধিকবার ফোন করা হলেও কেউ ফোন ধরেননি।
জানা যায়, রেলে বর্তমানে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়েতে ট্রেন কন্ট্রোলার পদে ৫ জন, ড্রইং শিক্ষক পদে ৫ জন, সুইপার পদে ১২১ জন, মশালচি পদে ১০ জন, সুইপার পদে ১২১ জন, ক্লিনার পদে ৩৩ জন, ওয়েটিং রুম বেয়ারার পদে ১০ জন, নিরাপত্তী প্রহরী পদে ১১৯ জন, এএসআই ১৩ জন ও এসআই পদে ৫ জনের পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও নিয়োগ চূড়ান্ত হয়নি। চলছে ৮৬৫ জন খালাসি পদের নিয়োগ পরীক্ষা। গত ৩০ নভেম্বর শেষ হয়েছে ২৭০ জন সহকারী স্টেশন মাস্টার পদে আবেদনের সময়। অপরদিকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অধীনে ৭৪ জন এমএলএসএস, ৭০ জন পোর্টার, ১১১৩ জন ওয়েম্যান ও ১৩২ জন বুকিং সহকারী নিয়োগের পরীক্ষা শেষ হলেও এখনো চূড়ান্ত নিয়োগ তালিকা ঘোষণা করা হয়নি। ইতিমধ্যে শেষ হওয়া পদগুলো হলো গার্ড গ্রেড-২, পার্শ্বেল সহকারী, টাইম কিপার, গুডস সহকারী গ্রেড-২ ও খালাসি।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৯ এপ্রিল নগদ ৭০ লাখ টাকাসহ সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএস ওমর ফারুক, পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের জিএম ইউসুফ আলী মৃধা ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট এনামুল হকসহ বিজিবির হাতে ধরা পর রেলের নিয়োগ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে এসব টাকা তৎকালীন রেলওয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের জন্যে প্রমানিত হওয়ার পর রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় মামলা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের একাধিক মামলাও দায়ের হয়েছিল। সেই ঘটনায় উপরোক্ত তিনজনসহ আরও তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বহিস্কার করে রেল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়মের দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জিএম ইউসুফ আলী মৃধা, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী যান্ত্রিক হাফিজুর রহমান ও সিনিয়র পার্সোনেল অফিসার গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

  1. আজ অনেক দিন হল ওয়েম্যান পদ এর জন্য নবেম্বর মাসে ১১ -১১-২০১৫ সালে পরীক্ষা দিয়েছি কিনতু আজ পযনত ফলাফলের কোন খবর নাই।এই যদি হয় সাধীন বাংলাদেশ এর অবস্থা তাহলে আর মএী দিয়ে কি হবে। সব কমকতার যদি তাহলে এই দুনীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কে নেবে। তাই আমি মাননীয় পধান মএীর দৃষ্টি আকষন করছি বাংলাদেশ রেলওয়ে এই ধরনের নিয়োগ সংরানত দুনীতি এর বিরুদ্ধে যদি পারেন কোন ব্যবস্থা নিন।

আপনার মন্তব্য লিখুন