অরবিন্দ হত্যার প্রতিবাদ

আজ হরতাল রাঙামাটিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি

‘যারা পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে চায় এবং অবৈধ অস্ত্রের মজুদ গড়েছে, তারাই আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা ও হামলা করেছে। প্রশাসন যদি এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয় তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে’।
গতকাল দুপুরে রাঙামাটি সদর হাসপাতাল মর্গে আওয়ামী লীগ নেতা অরবিন্দ চাকমার লাশ দেখতে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা দীপংকর তালুকদার।
হামলায় আহত বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাসেল মারমাও হামলার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছেন।
রাসেল মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যারা হত্যা খুনের রাজনীতি করে, সেই আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র ক্যাডাররাই আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে।
এদিকে হামলার প্রতিবাদে গতকাল বিকালে রাঙামাটি শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পৌরচত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জুরাছড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা অরিবন্দকে হত্যা ও বিলাইছড়িতে রাসেল মারমার উপর হামলার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছেন
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার রাঙামাটি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দিয়েছে রাঙামাটি জেলা যুবলীগ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার, সহ-সভাপতি নিখিল কুমার চাকমা, সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা মাতব্বর, জেলা যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন চৌধুরী, মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ঝর্ণা খীসা, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা।
জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজল জানান, অরবিন্দ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পাশাপাশি উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। এজন্য আমরা যুবলীগের পক্ষে হরতাল ডেকেছি।
রাঙামাটির প্রতিটি উপজেলায় হরতাল পালিত হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল বিকাল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন জুরাছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল বাসেদ।
গত মঙ্গলবার রাত পৌনে আটটায় জুড়াছড়ি উপজেলার খাগড়াছড়ি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিঁড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দ চাকমাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাসেল মারমা আহত হন।